শনিবার ২৩শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

অদেখা তেতুলিয়া !

ফিরোজ আল সাবাহ   |   বুধবার, ১৮ নভেম্বর ২০২০

অদেখা তেতুলিয়া !

ছবি-ফিরোজ আল সাবাহ্

দূরে ফজরের আযান হয়ে গেল একটু আগে । এখনো ভোরের আলো ফোটেনি। আকাশ অন্ধকার। প্রচুর কুয়াশা আর ঠান্ডা । কথা বলতে গেলে কথা জড়িয়ে যাচ্ছে। একটা মেঠো রাস্তায় দাঁড়িয়ে আমরা উর্দ্ধাকাশে তাকিয়ে জ্বলজ্বলে নক্ষত্ররাজি দেখছিলাম । গ্রীক সুন্দরী ভেনাস পুর্বাকাশে নিজের রুপের আগুন জ্বালিয়ে জ্বলজ্বল করছে । বাকি সব যেন তার কাছে ফিকে । চাঁদের পরে আকাশের উজ্জ্বল জিনিস এই শুক্রগ্রহ। এই গ্রহ দেখার সবচেয়ে ভালো সময় এটাই।

এদিক সেদিক কয়েকটা স্যাটেলাইট যাচ্ছে দ্রুত গতিতে । আমার বন্ধুরা প্রায় স্যাটেলাইট দেখে দুঃশ্চিন্তায় পড়ে যায় এই বুঝি একটা আরেকটার সাথে ধাক্কা খেল । দেখেও তাই মনে হয় । এত দূর থেকে তো উচ্চতা ,দূরত্ব , অরবিট বোঝা যায়না । অনেকেই এই স্যাটেলাইট দেখে মনে করেন তারা সরে যাচ্ছে বা তারা খসে পড়ছে । এমন কিছু নয় আসলে । সুর্যের আলো তাদের উপরে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসে তাই তাদের এমন উজ্জল তারাদের মত দেখি আমরা । তারা খসে পড়লে মুশকিল কান্ডকারখানা হয়ে যাবে ।

মহাকাশের দিকে তাকালে অন্যরকম অনুভূতি হয় বরাবরই । জীবনের সংজ্ঞাই পালটে যায় । মহাকাশ আমাদের মনে করিয়ে দেয় আমরা কত ক্ষুদ্র । অসীম শুন্যতার মাঝে সবাই একাকী । মিলিয়ন ,বিলিয়ন বছর থেকে কাল আর সময়ের সাক্ষী হয়ে আছে ।
কত রহস্য যে ওই দুরে লুকিয়ে আছে । যে দুরের কোন সীমা নেই । কত হাজার কোটি গ্যালাক্সী , গ্রহ , নক্ষত্র । একেকটি আরেকটির কাছ থেকে কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূরে ।

webnewsdesign.com

এসব ভাবতে ভাবতে আকাশ ফর্সা হয়ে এলো । অধিকাংশ তারাই মিলিয়ে গেল আকাশে । গ্রীক সুন্দরীও এখন ফিকে। আমাদের সৌরপরিবারের একমাত্র নক্ষত্র সুর্য্য উদিত হবে যে । সোনালী আভায় ভরিয়ে দেবে আমাদের ভুপৃষ্ঠ । ওদিকে কাঞ্চনজঙ্ঘা সে সোনালী আলো গায়ে মেখে আয়না দেখার জন্য বসে আছে । সময় বলছে কাঞ্চনজঙ্ঘার চুড়োয় প্রথম আলো পড়েছে । কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছিনা ।

চারিদিকে প্রচুর কুয়াশা । এই শীতে এমন কুয়াশা দেখিনি এবার । পাশের গাছ গুলোও দেখা যায়না । দেখে মনে হলো আজ আর সোনালী কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শন হচ্ছে না । কারন পুরো এলাকা ভারী কুয়শায় ভরে গেছে । রাতেই মনে হয়েছিল বায়ুর উষ্ণতা কমে গেছে । সকালে কুয়াশা হবে । হলোও তাই । কুয়াশার কারনেই যেহুতু দেখা যাচ্ছেনা কুয়াশাকেই ছবি বানাই । এই ভেবে ক্যামেরা উপরে উঠতেই দেখা গেল ওই উত্তরে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যাচ্ছে । ঝলমলে সোনালী কাঞ্চনজঙ্ঘা । আর নিচে গ্রামের বৃক্ষরাজীর মাঝদিয়ে বয়ে যাচ্ছে মেঘের ভেলা । একটু দ্বিধা লাগছে তাই না ! কুয়াশা নাকি মেঘ ? আসলে ভুমির সংস্পর্শে থাকা মেঘমালা ই হলো কুয়াশা । মেঘের যে অংশগুলো মাটির উপরে ভাসমান থাকেনা তাই কুয়াশা বিবেচিত হয় ।

পুর্বাকাশ গাঢ় লাল আর সামনে বিস্তীর্ণ জনপদ কুয়াশার চাঁদরে ঢাকা । ছোট পুকুর জলাশয়ের পানি থেকেও জলীয়বাষ্প উঠে মিলিয়ে যাচ্ছে কুয়াশার আস্তরনে । ঐ দূরে দেখা যায় এদিক সেদিক দু একজন মাঠে বের হয়েছে । সব মিলিয়ে এ এক অদেখা তেঁতুলিয়া , এক অদেখা বাংলা। এই সৌন্দর্য্য দেখতে হলে উপরে উঠতে হবে । তাই আমরা সচরাচর দেখিনা এই অবর্নণীয় সৌন্দর্য্য । আমাদের ডানা নেই যে । তাতে কি ক্যামেরার আছে তো ।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৩:৪৩ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ১৮ নভেম্বর ২০২০

দৈনিক প্রথম দৃষ্টি |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

নীলশির
নীলশির

(576 বার পঠিত)

(128 বার পঠিত)

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
প্রকাশক
মাসুদ করিম সিদ্দিকী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মিজানুর রহমান সিদ্দিকী রঞ্জু
সম্পাদক
এস কে দোয়েল
অফিস ব্যবস্থাপনা
নিসা আলী
সম্পাদকীয় কার্যালয়
৫/সি, আফতাবনগর মেইন রোড, রামপুরা, ঢাকা।
আঞ্চলিক প্রধান কার্যালয়
চৌরাস্তা বাজার, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়
ফোন
+৮৮০১৭৫০-১৪০৯১৯ (সম্পাদক)
+৮৮০১৭১৮-৭৭২৭৪৯ (বার্তা-সম্পাদক)
Email
prothomdristy@gmail.com