শনিবার ২৩শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

অন্ত্যমিল

শ্রাবস্তী শুচি   |   শুক্রবার, ২৭ আগস্ট ২০২১

অন্ত্যমিল

আজ একটা কবিতা সংক্রান্ত ভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলছি। জানি অনেকের ভালো লাগবে না কথাগুলো। আমরা কেউই নিজেদের গতানুগতিকতা থেকে সহজে বের হয়ে আসতে চাই না। সবসময় নিজস্ব ধারায় চলতে ভালোবাসি। কিন্তু সব ক্ষেত্রে নিজস্ব ধারা আমরা বজায় রাখতে পারি না। যেকোন কাজের সৌন্দর্যের স্বার্থে নিজস্ব গতানুগতিকতা থেকে বের হয়ে যেভাবে ঐ কাজের সৌন্দর্য বাড়বে তার দিকে মনোযোগ দিতে হয়। আমাদের যাদের মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য বই প্রকাশের সামর্থ্য নেই তারা সকলে বেছে নিই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মত বড় ক্ষেত্রকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দৌলতে আমরা অনেকের সুন্দর সুন্দর ভাবনা ও চিন্তাধারার সাথে পরিচিত হতে পারছি।

বাংলা সাহিত্য চর্চার এটা এক জনপ্রিয় ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা আজকাল মানুষ কাগজের অক্ষরে যতটা না চোখ রাখছে তার চেয়ে অনেক বেশি চোখ রাখছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওয়েবসাইটে। তাই আপনার সুন্দর চিন্তাভাবনা গুলো অনেক পাঠক মনোযোগ সহকারে দেখে। যদি পড়ে তৃপ্তি না পায় অসাধারণ, ভীষণ ভালো, কেউ কেউ স্টিকার দিয়ে আপনাকে খুশি করে চলে যাচ্ছে। কিন্তু আপনার যে লেখাটি ভালো হবে পাঠকদের মন্তব্যের ধরন সেখানে পাল্টে যাবে। আপনি নিজেই তা উপলব্ধি করতে পারবেন।

যারা লেখালেখি করেন তারা সকলে চায় তার লেখা পড়ে ঐ লেখায় কি বুঝানো হয়েছে পাঠকরা তার মর্মউপলব্ধি করুক। আপনার লেখার ভাবার্থ বের করুক। কোন পাঠক যখন কবিতার ভাবার্থ বুঝে কোন মন্তব্য করেন সেই মন্তব্য পেয়ে আমরা খুব খুশি হই। কারণ আমরা বুঝতে পারি কবিতাটি সেই পাঠক মনোযোগ দিয়ে পড়েছেন। তাই আপনারা যারা লেখালেখি করেন তাদের লেখার গুণগত দিকের প্রতি নজর দেয়া উচিত। নিজেকে প্রকাশ করার সুযোগ পেয়েছি বলে আমরা ধারণ করার চেয়ে প্রকাশ করাতে খুব ব্যস্ত হয়ে পড়েছি।

webnewsdesign.com

আপনার নিজের লেখাটা আগে আপনি নিজেকে পাঠক কল্পনা করে পড়ে দেখুন আপনি সেখান থেকে আত্মতৃপ্তি খুঁজে পাচ্ছেন কিনা। তারপর লেখাটি সবার কাছে উন্মুক্ত করুন। জানি বিরক্ত হচ্ছেন। তবুও কথাগুলো বলছি কারণ আমরা সকলে চায় আমাদের বাংলা সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ বৃদ্ধি পাক সবার। সেটা করার জন্য আমাদের মানসম্মত লেখা দেয়া উচিত। বেশি প্রকাশের জন্য বেশি জানা উচিত। যারা কবিতা লেখেন তাদের কবিতা সম্পর্কে ধারণা নেয়া উচিত।

অনেককে দেখি কবিতার এক লাইনের শেষের শব্দ পরের লাইনের শেষের শব্দের সাথে মিলিয়ে দেন। যেটাকে কবিতার ভাষায় বলা হয় অন্ত্যমিল। যেমন বলার সাথে চলা, করির সাথে ধরি এই জাতীয়। অনেকের ধারণা এগুলো ছন্দবদ্ধ কবিতা। তাদের আসলে ধারণাই নেই ছন্দ কি? অন্ত্যমিল না দিয়েও ছন্দবদ্ধ কবিতা লেখা যায়। অন্ত্যমিল মানে ছন্দ নয়। অনেকে অন্ত্যমিল দিয়ে কবিতা লেখেন এবং অনেকেরই ধারণা তিনি ছন্দ ব্যবহার করে কবিতা লিখেছেন। কবিতাগুলো দেখতে ভালো লাগে কিন্তু একটু ভালো করে দেখলে বুঝা যায় এখানে ছন্দের কোন প্রয়োগ হয়নি। অন্ত্যমিল দিয়ে কবিতা লিখলে আপনার ছন্দ ও ছন্দের প্রকারভেদ (মাত্রাবৃত্ত, অক্ষরবৃত্ত, স্বরবৃত্ত) সম্পর্কে ধারণা থাকা উচিত। যদি ছন্দ সম্পর্কে, কবিতার পর্ব ও মাত্রাজ্ঞান সম্পর্কে জানা না থাকে তবে অন্ত্যমিল দিয়ে কবিতা না লেখায় ভালো। কারন আপনার কবিতাটি যখন কেউ আবৃত্তি করবে পর্বের অসামঞ্জস্যতার কারনে ওনার আবৃত্তি করতে সমস্যায় পড়তে হবে।

আপনার জন্য তো গদ্য কবিতা উন্মুক্ত আছে। যেখানে কবিতার খুব একটা ব্যাকরণ মানতে হয় না। আপনারা যারা অন্ত্যমিল দিয়ে কবিতা লিখে মনে করেন যে ছন্দবন্ধ কবিতা লিখেছেন তা আপনাদের সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। অন্ত্যমিল দেয়া কবিতাকে ছন্দবন্ধ কবিতা বলে ভুল করবেন না। এটা শুধু লেখকদের জন্য বলছি এমন না পাঠকদেরও এটা জানা উচিত। শুধুমাত্র অন্ত্যমিল দেখে ছন্দবদ্ধ কবিতা বলাটা ভুল। অনেকে মন্তব্য করে কি সুন্দর ছন্দের কবিতা লিখলেন। অথচ দেখা গেল ঐ কবিতায় ছন্দের কোন ছিটাফোঁটাও নেই শুধুমাত্র অন্ত্যমিল দেয়া আছে। যদি ছন্দবন্ধ কবিতা লিখতে চান তাহলে ছন্দ বিষয়ে ভালো করে ধারণা নিয়ে তারপর লিখুন। শুধুমাত্র অন্ত্যমিল দিয়ে ছন্দবন্ধ কবিতা মনে করে নিজে আত্মতৃপ্তিতে ভুগবেন না ও পাঠকদেরও বিব্রত করবেন না।

আপনার একটি ভালো কবিতা অনেকের ভাবধারণা পাল্টে দিতে পারে। আজকাল ছন্দের কবিতা কবিরা তেমন লিখেন না। ছন্দের কবিতাগুলো পড়তে ভালো লাগলেও ব্যাকরণ মানতে হয় বলে অনেকে ছন্দবন্ধ কবিতার ধারেকাছে যেতে চান না। ছন্দবন্ধ কবিতা ইচ্ছা না হলে লিখবেন না কিন্তু ছন্দের নিয়ম কানুন পাল্টে জোর করে নতুন নিয়ম খাটাতে যাওয়া অন্যায়। তাই শুধুমাত্র অন্ত্যমিল দিয়ে ছন্দের কোন নিয়ম না মেনে কবিতা লিখে তা ছন্দবদ্ধ কবিতা লিখেছেন এটা দাবি করা বন্ধ করুন।

লেখক : কবি ও আবৃত্তিকার

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১:২৩ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ২৭ আগস্ট ২০২১

দৈনিক প্রথম দৃষ্টি |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আশীর্বাদ
আশীর্বাদ

(549 বার পঠিত)

কবিতা- মৃত্যু
কবিতা- মৃত্যু

(507 বার পঠিত)

আপ্যায়ন
আপ্যায়ন

(460 বার পঠিত)

এই ফাল্গুনে
এই ফাল্গুনে

(323 বার পঠিত)

দাগ
দাগ

(201 বার পঠিত)

আহব্বান
আহব্বান

(164 বার পঠিত)

কবিতা হতে চাই
কবিতা হতে চাই

(20 বার পঠিত)

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
প্রকাশক
মাসুদ করিম সিদ্দিকী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মিজানুর রহমান সিদ্দিকী রঞ্জু
সম্পাদক
এস কে দোয়েল
অফিস ব্যবস্থাপনা
নিসা আলী
সম্পাদকীয় কার্যালয়
৫/সি, আফতাবনগর মেইন রোড, রামপুরা, ঢাকা।
আঞ্চলিক প্রধান কার্যালয়
চৌরাস্তা বাজার, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়
ফোন
+৮৮০১৭৫০-১৪০৯১৯ (সম্পাদক)
+৮৮০১৭১৮-৭৭২৭৪৯ (বার্তা-সম্পাদক)
Email
prothomdristy@gmail.com