মঙ্গলবার ৫ই জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

আদির স্বপ্নকন্যা উদ্যোক্তা হয়ে উঠা

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   সোমবার, ০৩ জানুয়ারি ২০২২

আদির স্বপ্নকন্যা উদ্যোক্তা হয়ে উঠা

স্বপ্ন ছিল ডাক্তার কিংবা নার্স হওয়ার। কিন্তু পড়ালেখা হয়ে উঠেনি অর্থের অভাবে। বিয়েও হয়ে গিয়েছিল অল্প বয়সেই। স্বামীর ঘরেও অভাব অনটন। স্বামীও বেকার। চললো ছয় বছর। অভাবের তাড়নায় স্বামীর বাড়ি থেকে বাপের বাড়ি। সেখানেও দুস্তর অভাব। কিভাবে চলবে বেকার জীবন। ঠিক তখনই মাথায় আসলো হাতের শেখা কাজের কথা। ফুলের প্রতি ভাললাগা থাকায় নার্সারি করতে মনটা উদগ্রীব হয়ে উঠলো। মাত্র তিনশ টাকা দিয়ে শুরু। প্রথমে নার্সারি করে ফুল ও গাছ বেঁচে লাভ হলো ২ হাজার ২শ টাকা। এই টাকা দিয়ে শুরু হলো হাতের নকশী কাথার কাজ। মাত্র পাঁচ মাসে অক্লান্ত চেষ্টায় সফল উদ্যোক্তা হয়ে উঠার গল্প শোনালেন দেশের উত্তর সীমান্তজনপদের স্বপ্নকন্যা আদুরী আক্তার আদি।

আদুরী আকতার আদি জানান, এক দরিদ্র কৃষি পরিবারে জন্ম আমার। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট। স্বপ্ন ছিল নার্স হওয়ার। কিন্তু অর্থের অভাবে পড়তে পারিনি। অল্প বয়সেই বিয়ে সংসার। কিন্তু বিয়ে হল শিক্ষিত বেকারের সাথে। স্বামীর পড়ালেখা থাকলেও যোগ্যতা অনুযায়ী হয়নি কোন চাকরি, না কোন কর্মসংস্থান। এর মধ্যে পরিবারে আসে নতুন সদস্য কন্যা সন্তান। মেয়েসহ দুই স্বামী-স্ত্রীর অভাব অনটনের সংসারে হাপিয়ে উঠি। ছয় বছর সংসার করার পর চলে আসি বাপের বাড়ি।

কি করবো, কী করে চলবে সংসার তা নিয়ে খুব ভাবছিলাম। ঠিক করলাম কিছু একটা করার। কী জানা আছে আমার। পড়ে মনে হলো একটা নার্সারি করতে পারি। ফুলের প্রতি খুব ভালোবাসা থাকায় মাত্র তিনশো টাকা দিয়ে নিজের চেষ্টায় গড়ে তুলি ফুলের নার্সারী। নার্সারির পরিচর্যা করতে করতেই ফুল আসে গাছগুলোতে। ফুল বিক্রি শুরু করি। ফুল বিক্রি করে প্রথমত ২ হাজার ২শ টাকা আয় হলো। পরে একজনের অনুপ্রেরণায় হাতের কাজ শিখে সে টাকা দিয়ে কাপড় কিনে হাতের কাজ করি।

ধীরে ধীরে থ্রি পিস, চাদর, পাঞ্জাবির কাপড় কিনে হাতের কাজ করি। বানাই রুমাল। প্রথমে অফলাইনে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে গিয়ে বিক্রি করতে শুরু করি। বাড়তে থাকে ক্রেতা। এর মধ্যে ফেসবুকে আইডি খুলে হাতের কাজের তৈরি পণ্যগুলো পোস্ট দেই। এভাবেই বাড়তে থাকে ক্রেতা। ক্রেতাদের চাহিদা থাকায় আমার অনলাইনে অফলাইনে দুই খানেই পণ্য বিক্রি করে। এতে করে এখন প্রতি মাসে আয় ২০ থেকে ২৫ হাজার। আমার অফলাইনে বেশি বিক্রি হয়। কুরিয়ার সার্ভিসেও পণ্য ডেলিভারি করে থাকি।

স্বামীকে একটি গাড়ি কিনে দেই। স্বামী এখন গাড়ি চালিয়ে বেশ ইনকাম করছে। ভাবছি স্বামীকে একটি হাই রেজুলেশনের ভিডিও ক্যামেরা কিনে দিব। এটা দিয়ে সে বিয়েবাড়িসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ভিডিও করবে। এ থেকেও আয় হবে। আর আমি বিউটি পার্লারের কাজ ও বাড়ি সাজানো, কনে সাজানোর কাজ শিখে ফেলেছি। এটি কাজে লাগাতে চাই।

webnewsdesign.com

নতুন উদোক্তাদের উদ্দেশে আমি বলতে চাই, তেতুলিয়ার মেয়েরা সফল হোক। আপনি যে কাজটি করতে পছন্দ করেন সেই কাজটিই করেন। যে কাজে আপনার ক্লান্তি আসেনা। আনন্দ পান। সে কাজটিই করেন। তাহলেই হতে পারবেন একজন সফল উদ্যোক্তা।

ভবিষ্যত পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাইলে আদি জানান, চাকরি নয়, নিজে সফল উদ্যোক্তা হতে চাই। সমাজের অবহেলিত মেয়েদের জন্য কিছু করতে চাই। যারা স্বামীর বাড়িতে কষ্ট মুখ বুঝে সহ্য করতে হয়। তাদের জন্য কিছু করতে চাই। তাদের আয়ের ব্যবস্থা করতে চাই। এ জন্য একটি প্রতিষ্ঠান গড়ার স্বপ্ন দেখছি। তা গড়তে লাগে টাকা। সরকার তো উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন, উদ্যোক্তা হিসেবে সরকারি সহযোগিতা পেলে কাজের আরো গতি পাব। লাখপতি হতে চাইনা গরিব মানুষের পাশে দাড়াতে চাই।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ০৩ জানুয়ারি ২০২২

দৈনিক প্রথম দৃষ্টি |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
প্রকাশক
মাসুদ করিম সিদ্দিকী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মিজানুর রহমান সিদ্দিকী রঞ্জু
সম্পাদক
এস কে দোয়েল
অফিস ব্যবস্থাপনা
নিসা আলী
সম্পাদকীয় কার্যালয়
৫/সি, আফতাবনগর মেইন রোড, রামপুরা, ঢাকা।
আঞ্চলিক প্রধান কার্যালয়
চৌরাস্তা বাজার, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়
ফোন
+৮৮০১৭৫০-১৪০৯১৯
Email
prothomdristy@gmail.com