সোমবার ১৭ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

কমিউনিটি টুরিজমের সম্ভাবনা

এস কে দোয়েল   |   শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০

কমিউনিটি টুরিজমের সম্ভাবনা

পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনার অঞ্চল এখন হিমালয়কন্যা পঞ্চগড়। পৃথিবীর সুউচ্চ পর্বত হিমালয়-কাঞ্চনজঙ্ঘা কাছ থেকে দেখতে ও দেশের টেকনাফ-তেঁতুলিয়া দুই সীমান্তের জিরোপয়েন্ট দেখতে ভ্রমণ করেন প্রচুর পরিমাণে পর্যটক। ত্রি-সীমান্ত বেষ্টিত এলাকা হলেও উত্তরের পর্যটন এলাকা পঞ্চগড়ে রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। এখানে রয়েছে অতি নিকটবর্তী ভারত-নেপালের পৃথিবীর হিমালয়-কাঞ্চনজঙ্ঘার আকাশছোঁয়ার অপরূপ দৃশ্যাবলী দেখার সুযোগ।

সীমান্ত জুড়ে বাংলার নৈসর্গিক রূপ, সমতল ভূমিতে সবুজের চা বাগান, ইতিহাস-ঐতিহ্য, হাজার বছরের স্থাপত্য, যা পর্যটকদের টানতে তৈরি করেছে অপার সম্ভাবনা। পর্যটনে অপার সম্ভাবনা তৈরি হলেও এখানে এখনো গড়ে উঠেনি পর্যটকদের জন্য তেমন আবাসন ব্যবস্থা, বিনোদন পার্ক কিংবা রিসোর্ট। তবে সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ইতিমধ্যে নেয়া হচ্ছে নানান উদ্যোগ।

চলতি পর্যটন মৌসুমে তেঁতুলিয়া থেকে হিমালয়-কাঞ্চনজঙ্ঘাকে কাছ থেকে দেখা যাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রচুর পরিমানে পর্যটক সমাগম ঘটে এখানে। এ বিপুল পরিমাণে পর্যটকদের জন্য আবাসন সংকট ছিল চোখে পড়ার মতো। পর্যটকদের অনেকে এখানে আবাসিক হোটেল না পাওয়ায় তারা ৪০ কিলোমিটার পারি দিয়ে রাত্রি যাপন করেছেন পঞ্চগড় জেলা শহরের কোন আবাসিক হোটেলে। পরের দিন ভোরে আবার ৪০ কিলোমিটার পথ পারি দিয়ে তেঁতুলিয়ায় এসে কাছ থেকে উপভোগ করেছেন কাছ থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপমাধুর্য।

বিপুল সংখ্যক পর্যটকদের সেবা প্রদানে সরকারও দিয়েছেন জোর গুরুত্ব। উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে কমিউনিটি ট্যুরিজম তথা সামাজিক পর্যটনে। চলতি ২০২০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ‘গ্রামীণ উন্নয়নে পর্যটন’ প্রতিপাদ্যে উদযাপিত হয় বিশ্ব পর্যটন দিবস। গ্রামীণ উন্নয়নে কমিউনিটি ট্যুরিজম যুক্ত হচ্ছে পর্যটনে নতুনমাত্রা। সামাজিক পর্যটন হচ্ছে , স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ত এলাকাকে পর্যটন বান্ধব স্থান গড়ে তোলা।

webnewsdesign.com

এ পর্যটন বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে এলাকার মানুষের মাঝে পারস্পরিক যোগাযোগ, সমঝোতা, লিঙ্গবৈষম্য দূরীকরণ, প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের নিজ নিজ কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি, শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে বলছেন পর্যটনবিদরা। কমিউনিটি ট্যুরিজমের পরিকল্পনাকে কাজে লাগাতে পারলে সে নির্দিষ্ট এলাকাটি হয়ে উঠতে পারে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম হাতিয়ার। সে হিসেবে দেশের উত্তরের সীমান্তবর্তী এ অঞ্চলটিকে নির্দিষ্ট করে টেকসই পর্যটন স্থান গড়ে তুলতে নেয়া হয়েছে নানান পরিকল্পনা।

পর্যটন শিল্প নিয়ে গত ২২ নভেম্বর বিকেল ৩টায় পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক ড.সাবিনা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে একটি ওয়েবিনারে অনুষ্ঠিত হয় পর্যটন বিষয়ক কর্মশালা। সে কর্মশালায় যুক্ত হয়েছিলেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সিনিয়র সচিব মোঃ মহিবুল হক, অতিরিক্ত সচিব জাবেদ আহমেদ, যুগ্ম সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের এবং পঞ্চগড় জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার সাদাত সম্রাট, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলীম ওয়ারেসী, ও পৌর মেয়র তৌহিদুল ইসলামসহ বিশিষ্ট নাগরিকমহলের সাথে এ প্রতিবেদকও।

সে ওয়েবিনারের পর্যটন কর্মশালায় পঞ্চগড়ের পর্যটন শিল্পের উপর আগামী বেশ কিছু কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ পরিকল্পনার মধ্যে কমিউনিটি ট্যুরিজমের উপর বিশেষ আলোচনা করা হয়। পর্যটকদের আবাসন সংকট দূরীকরন ও সেবা প্রদানের লক্ষে কমিউনিটি ট্যুরিজমের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। জেলায় প্রথম কমিউনিটি ট্যুরিজমের পরিকল্পনাটি করেছেন তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহাগ চন্দ্র সাহা।

কমিউনিটি ট্যুরিজমের কেন এতো সম্ভাবনা ?
পর্যটন শিল্প অঞ্চল হিসেবে কমিউনিটি ট্যুরিজমে রয়েছে অপার সম্ভাবনা। গ্রামীণ প্রকৃতি, অর্থনীতি, গ্রামীণ কারু শিল্প, গ্রামীণ পিঠাপুলি, কৃষি পণ্য (সবুজ চা, সবজি চাষ), নদ-নদী গ্রামীণ পর্যটনের পর্যটকদের আকর্ষণের ক্ষেত্র হতে পারে। সে হিসেবে পঞ্চগড়ে জেলার উপজেলাগুলোতে রয়েছে নানান দর্শনীয় স্থান। গ্রামীণ ঐতিহ্য। নকশী শিল্প। এখানে তৈরি হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের কার্পেট ও টুপি। অর্গানিক চা। এখানে রয়েছে সুমিষ্ট পানি।

রয়েছে দৃষ্টি জুড়ানো সমতল ভূমিতে চা বাগান, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর, জিরোপয়েন্ট, নদীতে শ্রমিকদের দলবেঁধে পাথর উত্তোলন, আনন্দধারা রিসোর্ট, মহারাজা দিঘী, প্রতœতত্ত¡নগরী, রক্স মিউজিয়াম, বার আউলিয়া মাজার, শাহী মসজিদ, গোলকধাম মন্দির, ময়নামতি চর, চীন-মৈত্রী সেতুসহ দর্শনীয় স্থানগুলো। এসব দর্শনীয় স্থানগুলোতে পর্যটক আগমন বৃদ্ধি পেলে গ্রামীণ উন্নয়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা যেমন সচল হবে, তেমনি মজবুত হবে দেশের অর্থনীতিও। আর এ শিল্পের উন্নয়নের মাধ্যমে বিপুল জনগোষ্ঠীর সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থানের সুযোগ ।

কমিউনিটি ট্যুরিজম পরিকল্পনা গ্রহণ বিষয়ে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহাগ চন্দ্র সাহা জানান, তেঁতুলিয়া দিন দিন পর্যটন শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রচুর পর্যটকের সমাগম ঘটছে এখানে। তাই পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে আমরা নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছি। তার মধ্যে কমিউনিটি ট্যুরিজম তথা সামাজিক পর্যটন। যেমন পর্যটকের তুলনায় এখানে আবাসন ব্যবস্থা অপ্রতুল। তাই এ সমস্যা দূরীকরণে এখানকার শহরের মধ্যে যাদের বাসা খালি রয়েছে, সেসব বাসায় পর্যটকদের আবাসন ব্যবস্থার জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছি।

সেজন্য যেসব বাসার মালিকরা আগ্রহী, তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ করার কথা মাথায় নিয়েছি। আর পর্যটকরা যাতে এখানকার ইতিহাস-ঐতিহ্য, দর্শনীয় স্থান, যানবাহন, আবাসন বিষয়ে সঠিক তথ্য জানতে পারে এ জন্য উপজেলা প্রশাসন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নির্ধারিত ট্যুরিস্ট গাইড তৈরির কাজ হাতে নিয়েছি। পাশাপাশি পর্যটন নিয়ে যেসব প্রতিষ্ঠান কাজ করছে, তাদের নিয়ে অর্থপূর্ণ পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে পর্যটন উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি ও স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৫:২৫ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০

দৈনিক প্রথম দৃষ্টি |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

নীলশির
নীলশির

(364 বার পঠিত)

(63 বার পঠিত)

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
প্রকাশক
মাসুদ করিম সিদ্দিকী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মিজানুর রহমান সিদ্দিকী রঞ্জু
সম্পাদক
এস কে দোয়েল
প্রধান প্রতিবেদক
আব্দুল্লাহ আল মাহাদী
অফিস ব্যবস্থাপনা
নিসা আলী
সম্পাদকীয় কার্যালয়
৫/সি, আফতাবনগর মেইন রোড, রামপুরা, ঢাকা।
আঞ্চলিক প্রধান কার্যালয়
চৌরাস্তা বাজার, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়
ফোন
+৮৮০১৭৫০-১৪০৯১৯ (সম্পাদক)
+৮৮০১৭১৮-৭৭২৭৪৯ (বার্তা-সম্পাদক)
Email
prothomdristy@gmail.com