রবিবার ১৩ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

করোনায় আক্রান্ত দেশীয় অর্থনীতি ও ড. নাজনীন আহমেদ এর ভাবনা সমূহ

  |   বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২০

করোনায় আক্রান্ত দেশীয় অর্থনীতি ও ড. নাজনীন আহমেদ এর ভাবনা  সমূহ

লুৎফর রহমানঃ

অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদ বিআইডিএস ( Bangladesh Institute of Development Studies) এর একজন সিনিয়র রিসার্চ ফেলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি নিয়ে লেখাপড়া করেছেন। University of Sussex থেকে এমএ করেছেন। পিএইচডি লাভ করেছেন University of Wageningen থেকে। অর্থনীতির উপরে টেলিভিশন গুলোতে টক শো পারফর্মার হিসেবে সম্প্রতি তিনি বেশ পরিচিতি লাভ করেছেন। কম বেশি সকল টিভি দর্শক তাঁকে চিনেন। সময়োপযোগী তাঁর কথাগুলো আমি বেশ মনোযোগ দিয়ে শুনি। প্রিন্ট
মিডিয়ায় প্রকাশিত তাঁর নিবন্ধ গুলো আমাকে আকৃষ্ট করে।

ড. নাজনীন আহমেদ আমার ফেসবুক বন্ধু দীর্ঘদিন থেকে। তাঁর সঙ্গে আমার ভার্চুয়াল কন্ট্যাক্ট। কখনো কোনোদিন সরাসরি তাঁর সঙ্গে দেখা বা কথা বলা হয়নি। ফেসবুকের টাইমলাইনে পোস্ট দেয়া আমার লেখাগুলো তিনি পড়েন। লাইক ও কমেন্টস দেন। সাহিত্য, সংস্কৃতি, সংগীত অতঃপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীক ছাত্ররাজনীতির প্রসঙ্গে
লেখাগুলো তিনি নিয়মিত পড়েন। ফেসবুক এক্টিভিটিজের কারণে তাঁর সরব অবস্থান অনুভব করি।

webnewsdesign.com

অর্থিনীতির মত একটি দুর্বেধ্য বিষয়কে খুব সহজ সরল এবং বোধগম্য করে উপস্থাপনার একটা বিশেষ ভঙ্গি অনুসরণ করেন ড. নাজনীন আহমেদ। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন পড়েছি। অর্থনীতির সুকঠিন বিষয়াদী আমার কাছে রসকষহীন লাগে। বরাবরই আমি এই অধ্যায়টি এড়িয়ে চলি। কিন্তু ড. নাজনীন আহমেদ এর কারণে আমার মনোযোগ এখন সাম্প্রতিক অর্থনীতির মধ্যে। বৈশ্বিক এই বিপর্যয়ে আমরা কিভাবে দেশীয় অর্থনীতি মোকাবেলা করব, এটা বুঝতে চাইলে ড. নাজনীন এর কথাগুলো ভাবনায় আশ্রয় দিতে হবে।

করোনা কেন্দ্রীক এইযে অচলাবস্থা। সমস্ত পৃথিবী ব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার সূত্রপাত এবং এর প্রভাব দেশে কতটুকু প্রতিফলিত হবে এ সম্পর্কে পূর্ব প্রস্তুতি না থাকলে আমরা অনেক বড় বিপদে পড়ে যাব। দেশের অধিকাংশ মানুষ যেখানে দিন এনে দিন খায় তাদের কি হবে ? অর্থনীতির চাকা যদি অচল হয়ে পড়ে তাহলে দেশের সামগ্রিক
দৈন্যতা আমাদের উঠতি অর্থনীতির প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করবে।

সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে ”অর্থনৈতিক সংকট এবং কিছু বিবেচ্য” শিরোনামে ড. নাজনীন আহমেদ এর একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর লেখাটি পড়ে আমি অনুভব করেছি সরকার সহ আর্থিক খাত সমূহের সংশ্লিষ্ঠ যারা আছেন, তারা যেন উপস্থাপিত বক্তব্যগুলো আমলে আনেন। খুবই প্রাঞ্জল ভাষায় ড. নাজনীন এর উপস্থাপিত বিষয়ের
চুম্বক অংশ তুলে ধরলাম।

”করোনাভাইরাসের কারণে সারা বিশ্বের মতো সংকটে পড়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। কয়েক বছর ধরে আশাব্যঞ্জক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং শক্তিশালী সামষ্টিক অর্থনীতিসহ সব মিলিয়ে বাংলাদেশ যখন স্বপ্ন দেখছে উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার, ঠিক সে সময় বিশ্ব অর্থনীতিতে যে ঝুঁকির সূত্রপাত হয়েছে, তা বাংলাদেশের অর্থনীতিকেও মুখোমুখি করেছে অনিশ্চয়তার সামনে। এ অবস্থায় খুব ভেবেচিন্তে দেশের সীমিত বাজেটের সদ্ব্যবহার করে অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং তার সম্ভাব্য প্রভাব দ্রুত কাটিয়ে ওঠার পরিকল্পনা করতে হবে। এ সংকট যেহেতু বিশ্বব্যাপী এবং বাংলাদেশের মধ্যেও এ
সংকট যেহেতু অর্থনীতির সব খাতের, সেহেতু অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবিলার পরিকল্পনা পুরো সামষ্টিক অর্থনৈতিক অবস্থার স্থিতিস্থাপকতা ধরে রাখার মাধ্যমে বিচার হতে হবে। তাই খাতওয়ারি প্রণোদনা নয় বরং অর্থনীতিতে যারা বেশি দুর্বল, তাদেরই প্রণোদনার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে হবে”।

ড. নাজনীন আহমেদ উদ্ভুত প্রতিকূলতা নিরসনে বেশ কয়েকটি বিষয়ে তাঁর উপস্থাপিত পথ সমূহ আমাকে প্রলুব্ধ করেছে। বাস্তবিক অর্থে মানুষ দেখতে চায় আলোর দিশা। অন্ধকার প্রকোষ্টে বন্দিত্ব মেনে নেয়ার মধ্যে সৃষ্ট সমস্যার কোন যৌক্তিক সমাধাণ খুঁজে পাওয়া যাবে না। বিভিন্ন পরিসংখ্যান উপস্থাপন পূর্বক তাঁর বক্তব্য সমূহ সরকার আমলে নিয়ে কাজ করবে বলে আমি আশাবাদী। ”আমাদের খেয়াল রাখতে হবে যে, বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের উদ্ভব ঘটছে চাহিদার সংকট থেকেও। অর্থাৎ মানুষ ঘরে বসে থাকায় স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় কম কেনাকাটা করায় এই সংকট উদ্ভূত হয়েছে এবং সেই পরিপ্রেক্ষিতে একটা সময়ে পণ্যের জোগান সমস্যা দেখা দিতে পারে যদি পণ্যের জন্য চাহিদা না থাকে এবং যদি লম্বা সময় ধরে কলকারখানা বন্ধ রাখতে হয়। আমরা যেসব দেশে পণ্য রপ্তানি করি, তাদের অবস্থার উন্নতি না হলে আমাদের রপ্তানি বাণিজ্যের অবস্থা ভালো হবে না। কিন্তু বিদেশের বাজার তো আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। কাজেই আমাদের কাজ করে যেতে হবে দেশের বাজারে যেন পণ্য চাহিদা ঠিক থাকে সেই লক্ষ্যে”।বিশেষ করে তাঁর এই মতামতকে গুরুত্ব দেয়া।

সাধারণতঃ আমি ফেসবুকে দেয়া পোস্ট গুলোর আকার সীমিত রাখার চেষ্টা করি। এ কারণে ড. নাজনীন আহমেদ এর বিশ্লেষণধর্মী অর্থনৈতিক বিষয়গুলোর উপস্থাপনাও সীমিত রাখতে বাধ্য হলাম। তারপরেও জনৈক হারুন অর রশিদ খুব চমৎকার ভাবে করোনা কেন্দ্রীক ড.নাজনীন এর ভাবনাগুলোর সারমর্ম উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন। ড. নাজনীনের করোনা কেন্দ্রীক পরিস্থিতির আলোকে ভাবনা সমূহ হারুন অর রশিদের উপস্থাপিত সারমর্মটি উপস্থাপন করলাম। তা না হলে আমার এ লেখাটি অসুম্পূর্ণই থেকে যাবে।

ড. নাজনীন আহমেদ এর ভাবনা সমূহঃ

১.এটা একটা যুদ্ধ। মানবিক যুদ্ধ। এই যুদ্ধে আমাদের একাত্তরের মতই একসাথে লড়াই করতে হবে।
২.সবার আগে গরীব মানুষ, মেহনতি মানুষ, কৃষক, শ্রমিকের অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৩. এটা শুধু সরকারের একার কাজ নয়। বিত্তবানসহ সবাইকে যার যার সাধ্যমত এগিয়ে আসতে হবে।

৪. প্রণোদনার জন্য প্রতিযোগিতা না করে যাদের সামর্থ্য আছে তাদের উদাহরণ সৃষ্টি করতে হবে। যেসব শিল্প মালিক সবল তাদের উচিত হবে দুর্বলদের সহয়াতা করা।

৫. প্রণোদনার টাকা শ্রমিকদের বেতন দিতে নয়, শিল্প সুরক্ষার কাজে লাগাতে হবে। সরকারের দেয়া টাকার সাথে শিল্প মালিকরাও টাকা দিয়ে একটা ফান্ড করতে পারেন।

৬. বাংলাদেশের হোটেল রেস্তোরার শ্রমিক, দিনমজুর, রিকশা চালক, কৃষক, গৃহকর্মী, পরিবহণ শ্রমিক তাদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করা জরুরি। তাদের প্রণোদনা দেবে কে?

৭. শ্রমিকদের বেতন আগামী অন্তত তিন মাস মালিকদেরই দেয়া উচিত। তারপর পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া যাবে। আর এই সময়ে ছাঁটাই বা চাকরিচ্যুত করা যাবেনা। মনে রাখতে হবে এতদিন ব্যবসা করেছেন। এখন সংকটে দেশের মানুষর পাশে থাকার পালা।

৮. শ্রমিকদের সবেতন ছুটি দিতে হবে। প্রয়োজনে একমাসের অগ্রিম দিতে হবে।
৯. প্রণোদনা দিতে হলে দিতে হবে সত্যিকারে বিশেষ করে ছোট আকারের শিল্প যারা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এটা কোনো সেক্টর ভিত্তিক হতে পারেনা।
১০.কেন্দ্রীয়ভাবে পরিকল্পনা করে এই করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে।

অর্থনীতির সুকঠিন প্রসঙ্গের চুলচেরা বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা আমার কাজ নয় এবং যোগ্যতাও নেই। ড. নাজনীন আহমেদ একজন অর্থনীতিবিদ।তাঁর উপস্থাপনায় মুন্সিয়ানার ভাব আছে। খুব প্রাঞ্জল এবং সরল অভিব্যক্তির মাধ্যমে তিনি এই সংকটময় মুহূর্তে অর্থনৈতিক মুক্তির পথ প্রদর্শক হবেন বলে আমি প্রত্যাশা করছি।

লেখক ঃ কলামিস্ট ও রাজনীতিবিদ

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১২:৩৪ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২০

দৈনিক প্রথম দৃষ্টি |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  
প্রকাশক
মাসুদ করিম সিদ্দিকী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মিজানুর রহমান সিদ্দিকী রঞ্জু
সম্পাদক
এস কে দোয়েল
প্রধান প্রতিবেদক
আব্দুল্লাহ আল মাহাদী
অফিস ব্যবস্থাপনা
নিসা আলী
সম্পাদকীয় কার্যালয়
৫/সি, আফতাবনগর মেইন রোড, রামপুরা, ঢাকা।
আঞ্চলিক প্রধান কার্যালয়
চৌরাস্তা বাজার, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়
ফোন
+৮৮০১৭৫০-১৪০৯১৯ (সম্পাদক)
+৮৮০১৭১৮-৭৭২৭৪৯ (বার্তা-সম্পাদক)
Email
prothomdristy@gmail.com