সোমবার ১৭ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

গণভবন থেকে দেশের সর্ববৃহৎ রেল সেতুর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রথম দৃষ্টি ডেস্ক :   |   রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০

গণভবন থেকে দেশের সর্ববৃহৎ রেল সেতুর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি-সংগৃহিত

গণভবন থেকে দেশের সর্ববৃহৎ রেল সেতুর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।রবিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যমুনা নদীর উপর বহুল প্রত্যাশিত বঙ্গবন্ধু রেল সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন। অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত ছিলেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন।

ভিডিও কনফারেন্সে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন,যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ঢাকা থেকে পটুয়াখালী হয়ে পায়রাবন্দর পর্যন্ত রেলসেবা চালু করা হবে। এ সময় তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন,বাংলাদেশ হবে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে একটি সেতুবন্ধ।

তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ও মজবুত করতে সরকার নৌ,রেল ও আকাশপথের সার্বিক উন্নয়নে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

সারা দেশে রেলযোগাযোগকে শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের আরও পরিকল্পনা আছে যে, একেবারে ঢাকা থেকে বরিশাল ও পটুয়াখালী হয়ে পায়রাবন্দর পর্যন্ত রেললাইন নিয়ে যাব। তারও সমীক্ষা আমরা শুরু করব এবং সেই উদ্যোগ নিয়েছি।

webnewsdesign.com

বাংলাদেশ হবে প্রাচ্য ও প্রাশ্চাত্যের সেতুবন্ধন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বলেছিলেন– বাংলাদেশ হবে প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড। অর্থাৎ বাংলাদেশ হবে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে একটি সেতুবন্ধ। আর সেই সেতুবন্ধ করতে গেলে আমাদের ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ের সঙ্গে সংযোগ করতে হবে।

‘ট্রান্স এশিয়ান হাইওয়ে এবং ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে এই দুটির সঙ্গে যদি আমরা সম্পৃক্ত হতে পারি, তা হলে বাংলাদেশের গুরুত্ব অনেক বাড়বে। ব্যবসাবাণিজ্য বাড়বে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং মানুষের যোগাযোগ বাড়বে। কাজেই আমাদের জন্য একটি বিরাট সুযোগ সৃষ্টি হবে।’

অপরদিকে যমুনা দুই প্রান্তে সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল প্রান্তে পৃথক দুইটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। রেলপথ মন্ত্রী এডভোকেট মোঃ নুরুল ইসলাম সুজন এমপি যমুনা নদীর পশ্চিম প্রান্তে সিরাজগঞ্জ এলাকায় উপস্থিত থেকে ভিত্তিপ্রস্তর সভার সভাপতিত্ব করেন। ভার্চুয়াল সভায় অন্যান্যের মধ্যে রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম রেজা ও জাপানি রাষ্ট্রদূত বক্তব্য রাখেন।

জাপানের অর্থায়নে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে যমুনা নদীর উপর বঙ্গবন্ধু রেল সেতু নির্মিত হচ্ছে। সেতুটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫ কিলোমিটার। ২০২৪ সালে সেতুটি নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে জানা গেছে। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন সভায় যমুনা নদীর দুই পাড়ে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। রেলপথমন্ত্রীর দক্ষতা এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বের কারণে আজ যমুনা নদীর উপর বঙ্গবন্ধু রেল সেতু নির্মিত হচ্ছে। এটি দেশবাসীর জন্য বিরাট পাওয়া। এই রেল সেতুটি নির্মিত হলে রেল যোগাযোগে আমূল পরিবর্তন আসবে।

এসময় বিএনপির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রেলকে প্রায় গলাটিপে হত্যা করতে গিয়েছিল বিএনপি সরকার। আমরা ক্ষমতায় এসে এখন আবার তাকে জীবিত করেছি এবং রেলই এখন মানুষের সব থেকে ভরসা। এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি– রেল সেই সুযোগটা মানুষকে করে দিচ্ছে যে, আমাদের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখবে বলে আমি মনে করি।

এ সময় বঙ্গবন্ধু রেল সেতু নির্মাণে জাপানের সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী জাপানকে বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেন।

সেতু সম্পর্কে সূত্রে জানা যায়, বঙ্গবন্ধু সেতুর ৩০০ মিটার উজানে নির্মিত হচ্ছে ডাবল লেনের ৪.৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের রেল সেতু। জাপান ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে ১৬ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই রেল সেতুটি নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে জাইকা। ২০২৪ সালের অগাস্ট মাসের মধ্যে কাজ সমাপ্ত হবে। এই সেতু দিয়ে ১০০ কিলোমিটার বেগে একইসঙ্গে দুটি ট্রেন চলাচল করতে পারবে। পাশাপাশি সব ধরনের মালবাহী ট্রেন চলাচল করতে পারবে।

১৯৯৮ সালে বঙ্গবন্ধু সেতু চালুর মধ্য দিয়ে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগ চালু হয়। প্রথমে ব্রডগেজ ও মিটারগেজের ৪টি ট্রেন দৈনিক ৮ বার পারাপারের পরিকল্পনা থাকলেও যাত্রী চাহিদা বাড়তে থাকায় সেতুর ওপর দিয়ে চলাচলকারী ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হয়। ২০০৮ সালে বঙ্গবন্ধু সেতুতে ফাটল দেখা দেওয়ায় কমিয়ে দেওয়া হয় সেতুর ওপরে চলাচলকারী ট্রেনের গতিসীমা।

বর্তমানে ৩৮টি ট্রেন নিয়মিত স্বল্প গতিতে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হলেও সময় অপচয়ের পাশাপাশি ঘটছে শিডিউল বিপর্যয়, বাড়ছে যাত্রী ভোগান্তি। ট্রেন যোগাযোগ ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন করতে বঙ্গবন্ধু সেতুর ৩০০ মিটার উজানে নির্মাণ করা হচ্ছে দেশের সর্ববৃহৎ ডেডিকেডেট রেল সেতু।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১২:০৪ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০

দৈনিক প্রথম দৃষ্টি |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
প্রকাশক
মাসুদ করিম সিদ্দিকী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মিজানুর রহমান সিদ্দিকী রঞ্জু
সম্পাদক
এস কে দোয়েল
প্রধান প্রতিবেদক
আব্দুল্লাহ আল মাহাদী
অফিস ব্যবস্থাপনা
নিসা আলী
সম্পাদকীয় কার্যালয়
৫/সি, আফতাবনগর মেইন রোড, রামপুরা, ঢাকা।
আঞ্চলিক প্রধান কার্যালয়
চৌরাস্তা বাজার, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়
ফোন
+৮৮০১৭৫০-১৪০৯১৯ (সম্পাদক)
+৮৮০১৭১৮-৭৭২৭৪৯ (বার্তা-সম্পাদক)
Email
prothomdristy@gmail.com