বুধবার ১৮ই মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

করতোয়া নদীতে

জলে ডুবে জীবিকার লড়াই

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ১০ মার্চ ২০২১

জলে ডুবে জীবিকার লড়াই

করতোয়া নদীতে এভাবেই জলে ডুবে পাথর তুলছে পাথর শ্রমিক

কয়েক মিনিট পর পর নদীর জলে ডুবে পাথর তুলেন কাবুল শেখ। বরফের মতোই নদীর পানি ঠান্ডা। পাথর তোলা সরঞ্জাম নিয়ে সকাল সকাল চলে আসেন নদীতে পাথর তুলতে। সঙ্গে আরো দুজন। সারাদিন জলে ডুবে ডুবে পাথর তুলে হাতে আসে মাত্র ২শ থেকে তিনশো টাকা। এই নিয়েই চলছে টানাপোড়নের সংসার। এক সময়ের পাথরের রাজত্বে কাজ করে যেখানে শ্রমের মূল্য আসতো হাজার থেকে দু’হাজার টাকা। এখন মাত্র দু’তিনশো টাকাতেই চলছে কষ্টার্জিত সংসার। এ চিত্র পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার দেবনগর ইউনিয়নের পাথরঘাটা এলাকার প্রবাহিত করতোয়া নদীর।

পাথরের রাজত্ব বলা হয়ে থাকে ভজনপুর। টনকে টন পাথর রপ্তানী হয়েছে বিগত বছরে। পরিবেশ ধ্বংসাত্মক যন্ত্র ড্রেজার মেশিনে উত্তোলিত এ পাথর। অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিনে উত্তোলন করে একশ্রেণি সুবিধাবাদী ব্যক্তি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে উঠলেও ভাগ্য খুলেনি সাধারণ দিনমজুর শ্রমিকদের। জেলায় পুলিশ সুপার মুহম্মদ ইউসুফ আলী যোগদানের পর থেকে অবৈধভাবে ধ্বংসাত্মক যান্ত্রিক পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ করে দেন। প্রকৃতি রক্ষা পেলেও কৃষি অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এখানকার জমাজমি। তাতে করে চরম দারিদ্রতার দিন গুনছে এ এলাকার হাজার হাজার পাথর শ্রমিক। এই বেকার শ্রমিকদের মধ্যে কাবুল শেখ, সোলেমান ও বয়রুদ্দিন।

উপজেলার ভজনপুরে প্রবাহিত নদী করতোয়া নিজবাড়ি, পাথরঘাটা, আঠারখাড়ি, শেখগছ, ময়নাগুড়ী ও কাকপাড়া, ভেলকুপাড়া ও বোদাপাড়া হয়ে জেলায় প্রবেশ করেছে। ড্রেজার মেশিনের পাথর সাইট বন্ধ থাকায় এ নদী থেকে পাথর ও বালু উত্তোলন করে জীবিকা নির্বাহ করছে প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক।

webnewsdesign.com

গতকাল সকালে নদীটি ঘুরে দেখা যায়, পানিতে ডুবে ডুবে পাথর তুলছে কাবুল শেখ, মোখলেসুর, কামালসহ ৫/৮ জনের দলবাঁধা শ্রমিক। এদের কোন কোন দলকে দেখা যায় বালু তুলতে। তারা নৌকায় বালু জমা করে তীরে এনে স্তূপ করছে। এ নদীতে শতাধিকের বেশি নৌকা রয়েছে বলে জানা গেছে শ্রমিকদের সাথে কথা বলে।

পাথরঘাটা গ্রামের পাথর শ্রমিক কাবুল শেখ জানান, ভাই পাথরের সাইট বন্ধ। সকাল সকাল এ নদীতে নেমে পড়ি। বুকগলা পানিতে ডুবে ডুবে পাথর তুলি। সারাদিনে পাথর তুলে মহাজনের কাছে বিক্রি করে দুইশো থেকে তিনশো টাকা মুজুরী জুটে। এটা নিয়েই চলছে কষ্টের সংসার।

আইনুল হকসহ কয়েকজন বালু শ্রমিক জানান, আমরা দিনে ৮ জন মিলে নদী থেকে ৫শ সিএফটি বালু তুলতে পারি। এই ৫শ সিএফটি বালুর দাম পড়ে ২ হাজার টাকা। তা জনে মিলে আড়াইশো টাকা। এ টাকায় সংসার চলছে না। অন্য কোন কাজ নাই যে করবো। খুব কষ্টে দিন যাচ্ছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, এ অঞ্চলের হাজার হাজার নারী-পুরুষ ও নারী পাথর শ্রমে জড়িত। কৃষির উপযোগী জমি না থাকায় একমাত্র পাথর উপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। পুরুষরা পাথর তুলেন, নারীরা সেই উত্তোলিত পাথর বাছাই ও মেশিনে ভাঙ্গানোর কাজ করেন। গত ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর হতে বন্ধ রয়েছে পাথর উত্তোলন। কাজ না থাকায় শ্রমিকদের খেয়ে-না খেয়েও দিন অতিবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অনেক শ্রমিক। শ্রম নির্ভর কোন কল কারখানা না থাকায় কাজের অভাবে না খেয়ে স্ত্রী-সন্তান ও পরিবারের মৌলিকা চাহিদা পূরণে ভীষণ হিমছিম খেতে হচ্ছে তাদের। তার মধ্যে গত বছর মার্চ থেকে মহামারী করোনা ভাইরাস প্রকোপে লকডাউনসহ চলমান বিপর্যস্ত পরিস্থিতির কারণে চরম দারিদ্রতার মুখোমুখিতে এ অঞ্চলের শ্রমিকরা। তাদের দাবি এভাবে চলতে থাকলে না খেয়ে মরতে হবে। সনাতন পদ্ধতিতে হলেও পাথর উত্তোলনের সুযোগ চান তারা।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১:০২ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১০ মার্চ ২০২১

দৈনিক প্রথম দৃষ্টি |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

কবিতা- মৃত্যু
কবিতা- মৃত্যু

(565 বার পঠিত)

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  
প্রকাশক
মাসুদ করিম সিদ্দিকী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মিজানুর রহমান সিদ্দিকী রঞ্জু
সম্পাদক
এস কে দোয়েল
অফিস ব্যবস্থাপনা
নিসা আলী
সম্পাদকীয় কার্যালয়
৫/সি, আফতাবনগর মেইন রোড, রামপুরা, ঢাকা।
আঞ্চলিক প্রধান কার্যালয়
চৌরাস্তা বাজার, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়
ফোন
+৮৮০১৭৫০-১৪০৯১৯
Email
prothomdristy@gmail.com