মঙ্গলবার ৩০শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

ঠাকুরগাঁওয়ে স্কুল ছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগ: আটক ৩

  |   বুধবার, ১০ জুন ২০২০

ঠাকুরগাঁওয়ে স্কুল ছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগ: আটক ৩

সুজন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁওয়ে ৮ম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে নাইম ইসলাম রাজু (২২) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। নাইম ইসলাম রাজু ঠাকুরগাঁও রোড বালিয়াডাঙ্গী মোড় এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে।

এ ঘটনায় ওই স্কুল ছাত্রীর মা বাদী হয়ে নাইম ইসলাম রাজুকে প্রধান আসামী করে মোট ৯ জন সহ অজ্ঞাত আরও ২/৩ জনের বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় ৭/৯(১)/৩০ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল এর ধারায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলার ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃত আসামীরা হলেন, নাইম ইসলাম রাজুর বাবা নজরুল ইসলাম, তার মা মোছা: নাসিমা বেগম, ও তার খালু কামাল হোসেন।

webnewsdesign.com

মামলার অন্তর্ভূক্ত আসামীরা হলেন, নাঈম ইসলাম রাজু(২২), নাজমুল ড্রাইভার (৩০), সবুজ(২৫), সুমন(২৫), বাবু- ওরফে বড় বাবু(৩২), মাহমুদুল্লাহ্ ওরফে ছোট বাবু, মোছা: নাসিমা বেগম(৪৫), আ: হান্নান কাজী, নজরুল ইসলাম(৫২)।

মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জুন শুক্রবার সন্ধ্যা ৭ টার সময় ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের উত্তর-পশ্চিম দিকে ফার্মে থাকা ওই স্কুল ছাত্রীর বড় বোনের বাসা থেকে নিজ বাড়িতে আসছিলো। ওই স্কুল ছাত্রী সুগার মিল কালি মন্দীরের সামনে পাকা রাস্তার উপর আসলে সেখানে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে তাকে ঘেরাও করে ধরে প্রধান আসামী নাঈম ইসলাম রাজু সহ তার সহযোগিরা। সেখানে ওই স্কুর ছাত্রীকে ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে মোটর সাইকেল যোগে স্থানীয় ওয়াপদা কোলনির একটি বাড়িতে নিয়ে যায় ।

এজাহারে আরও বলা হয়, সেখানে রাত ১০ টার দিকে মামলার অন্যতম আসামী আ: হান্নান কাজীর পরামর্শে অজ্ঞাত কয়েকজনের উপস্থিতিতে মামলার অন্তর্ভূক্ত আসামী হান্নান কাজীর দুই ছেলে বাবু ওরফে বড় বাবু ও মাহমুদুল্লাহ্ ওরফে ছোট বাবু ওই স্কুল ছাত্রীকে জীবন নাশের ভয়ভীতি দেখিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে একশত টাকা মূল্য মানের দুই পাতা অলিখিত নন্জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের উপরে দুইটি এবং নীল পাতা সম্বলিত রেজিষ্টার বইয়ে একটি সাক্ষর জোর পূর্বক ভাবে করিয়ে নেন। এজাহারে আরও বলা হয়, সেখান থেকে ওই স্কুল ছাত্রীকে মামলার প্রধান আসামী সহ তার সহযোগিরা মোটর সাইকেল যোগে রুহিয়ার সেনিহারী গ্রামের একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে ওই স্কুল ছাত্রীকে জোড় পূর্বক ধর্ষন করে মামলার প্রধান আসামী নাঈম ইসলাম রাজু। সেখান থেকে ওই স্কুল ছাত্রী মুঠোফোনে তার মাকে জানালে সেখানে তার মা স্থানীয় কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে বাসায় নিয়ে আসে। বাসায় নিয়ে আসার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে এবং সদর থানায় মামলা দায়ের করে। এর আগে স্কুল যাওয়ার পথে প্রায় ওই স্কুল ছাত্রীকে উত্যক্ত করতো নাইম ইসলাম রাজু এমনটিও বলা আছে এজাহারে।

মঙ্গলবার বিকালে ওই স্কুল ছাত্রীর সাথে হাসপাতালে কথা বলতে গেলে তার সে শারীরিকভাবে অসুস্থ থকায় তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। পরদিন তাকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে আসলে বেলা ১২ টার দিকে তার সাথে তার বাড়িতে কথা বলতে গেলে তিনি সাংবাদিকের সাথে কোন কথা বলতে রাজি হয়নি এবং তার পরিবারের কোন সদস্য কথা বলতে রাজি হয়নি।

এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত মামলার প্রধান আসামী নাইম ইসলাম রাজু পলাতক থাকায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

মামলার আরেক আসামী, নাইম ইসলাম রাজুর বড় ভাই নাজমুল ইসলাম বলেন, মামলার এজাহারে যা বলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ওই স্কুল ছাত্রী অনেক আগে থেকে আমার ভাইয়ের পিছনে ঘুরতো এবং তাকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করতো। এ নিয়ে কয়েকবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মিলে বিচার শালিশ ও করেছে। দুই পক্ষের পরিবার সেটা জানে। আমি মনে করেছিলাম আমার ভাইয়ের সাথে হয়তোবা ওই মেয়ের কোন সম্পর্ক আছে। মেয়ে নাবালিকা হওয়ায় আমরা বিয়ে দিতে পারিনি। আমি ওই মেয়েকে বুঝিয়েছি লেখা পড়া শেষ করে প্রাপ্ত বয়স্ক হলে বিয়ে নিয়ে ভাবা যাবে। তিনি আরও বলেন, কোন রকম কোন অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি, ওই মেয়ে নিজে এসেছে এবং আমার ভাইকে ফাঁদে ফেলেছে। এ ধরণের মিথ্যা অভিযোগ কেনো করেছে তাদের আসল উদ্দ্যেশ্য কি বুঝতে পারছিনা আমরা। আমাদের হয়রানি করতেই এমন মামলা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আ: হান্নান কাজী জানান, আমার বিরুদ্ধে যা অভিযোগ করেছে তা মিথ্যা। আমি কিভাবে মামলার আসামী হলাম বুঝতে পারছিনা। আমার নামে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। কারন আমি এমন কোন বিয়েই তো দেইনি। আর কিছু জানিও না। এ ঘটনার সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। আমি যদি কাউকে বিয়ে দিতাম আইনের বিধান উপেক্ষা করে তাহলে না হয় আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ মানা যেতো। আমার বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা মামলা দ্রুত প্রত্যাহার করা না হলে আমি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। আপনার দুই ছেলে এই মামলার আসামী এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এমন মামলা উদ্দেশ্য জনিত ও মিথ্যা।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ তানভিরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। এ মামলায় তিন জনকে আটক করেছে পুলিশ। ১ নং আসামী সহ বাকী আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অবহ্যাত রয়েছে।

Facebook Comments Box

বিষয় :

advertisement

Posted ৪:০৬ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১০ জুন ২০২০

দৈনিক প্রথম দৃষ্টি |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
প্রকাশক
মাসুদ করিম সিদ্দিকী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মিজানুর রহমান সিদ্দিকী রঞ্জু
সম্পাদক
এস কে দোয়েল
অফিস ব্যবস্থাপনা
নিসা আলী
সম্পাদকীয় কার্যালয়
৫/সি, আফতাবনগর মেইন রোড, রামপুরা, ঢাকা।
আঞ্চলিক প্রধান কার্যালয়
চৌরাস্তা বাজার, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়
ফোন
+৮৮০১৭৫০-১৪০৯১৯ (সম্পাদক)
+৮৮০১৭১৮-৭৭২৭৪৯ (বার্তা-সম্পাদক)
Email
prothomdristy@gmail.com