বুধবার ৩রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড

তাপমাত্রা উঠানামায় বাড়ছে ভোগান্তি ও রোগব্যাধি

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   মঙ্গলবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২১

তাপমাত্রা উঠানামায় বাড়ছে ভোগান্তি ও রোগব্যাধি

একদিকে মাঘের বরফগলা শীত। অন্যদিকে উঠানামা করছে তাপমাত্রা। সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময় উঠানামা করছে তাপমাত্রা। এই প্রচন্ড হাড়কাঁপানো শীত, একটু পর নেই, আবার হিমেল হাওয়ায় নেমে আসে স্থবিরতা। এতে করে ভোগান্তির বাড়ার সাথে বেড়েছে শীতজনিত রোগে আক্রান্তের হার। তার মধ্যে মহামারী করোনার প্রকোপ। হাসপাতাল, ক্লিনিক ও সেবাকেন্দ্রগুলোতে ঘুরে দেখা যায় সর্দি, জ্বর, কাঁশিসহ শীতজনিত রোগীর ভিড়। এসব রোগীর মধ্যে শিশু ও বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেশি। লাগামহীন শীতে তাপমাত্রা উঠানামা করায় শীতজনিত রোগব্যাধি বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা। মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থাকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনেই রোগী দেখতে দেখা যায় চিকিৎসকদের।

গত এক সপ্তাহ ধরেই থার্মোমিটারে রেকর্ড হচ্ছে উঠানামা তাপমাত্রা। মঙ্গলবার (২ ফেব্রæয়ারি) সকাল ৯টায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সোমবার সকাল ৯টায় রেকর্ড হয় ৭ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে ৩১ জানুয়ারি সকাল ৯ টায় ৭.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস, ৩০ জানুয়ারি সকাল ৯ টায় ১০.৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস, ২৯ জানুয়ারি ৭.৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস, ২৮ জানুয়ারি সকাল ৯ টায় ৮.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস ও ২৭ জানুয়ারি সকাল ৯ টায় ১১.১ ডিগ্রী সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচদিন দশকের নিচে ও দুদিন দশকের উপরে তাপমাত্রা রেকর্ড দেখা যায়।

শীতে জর্জরিত স্থানীয়রা জানান, এই শীতে তাপমাত্রা উঠানামা করায় বেশ সমস্যায় পড়েছি। ভোগান্তি বেড়েছে খুব। ভোরে কোনদিন প্রচন্ড কুয়াশা, ঠান্ডা বাতাস আবার কোনদিন ভোরে সূর্য উঠলেও কনকনে শীত। মনে হয় বরফের মতো ঠান্ডা। ঠান্ডায় হাতপা-শরীর অবশ হয়ে আসে। এমনকি ঘরের মেঝে, ফ্লোর, বিছানা, দরজা, জানালা স্পর্শ করলে যেন হাত-পা অবশ হওয়ার অবস্থা তৈরি হয়। শরীরে দ্বিগুন কাপড় আর লেপ-কম্বল জড়ালেও অনুভূত হয় বরফজলের মতো ঠান্ডা।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাচ্ছে নি¤œবিত্ত, অসহায়, ছিন্নমুল মানুষগুলো। এ বছর শীতের প্রকোপ বেশি হলেও এ উপজেলার জনসংখ্যার অনুপাতে শীতবস্ত্র বিতরণ কম হতে দেখা গেছে। কারণ হিসেবে দেখা যায়, গত বছর মহামারি করোনার ভাইরাসের কারণে লকডাউনের সময় বিত্তশালীদের খাদ্য সহযোগিতা করায় এ শীত মৌসুমে শীতবস্ত্র বিতরণ কম দেখা যায়। ব্যবসা-বাণিজ্য থমকে যাওয়ার কারণেই বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর শীতবস্ত্র বিতরণ কম চোখে পড়েছে। তাই বাড়ির উঠোনে, চুলায় খড়কুটো ও কাগজের কাটুন, টায়ার, কাঠখড়িতে জ্বালিয়ে শীত নিবারণে চেষ্টা চালাতে দেখা যায় হতদরিদ্র মানুষগুলোর। আর ফুটপাতের দোকানগুলো থেকে কম দামে গরম কাপড় কিনতে দেখা যায়।

ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন কৃষক ও শ্রমিকরাও। কৃষকরা জানান, ক্ষেতখামারে কাজ করতে খুবই সমস্যা হচ্ছে। এই সময়ে বোরো আবাদ ও শীতকালিন সবজি চাষ করতে গিয়ে ঠান্ডার কারণে খুব কষ্ট হচ্ছে। মহানন্দার পাথর শ্রমিক আরশেদ, কামাল, তরিকুল, হকিকুলসহ বেশ কয়েকজন জানান, ঠান্ডার জন্য বরফের মতো ঠান্ডা পানিতেই পাথর তুলতে হচ্ছে। পাথর তোলা ছাড়া উপায় নাই। পরিবারের মুখে খাবার জোগার করতেই এই ঠান্ডার মধ্যেই নদীতে পাথর তুলতে নামতে হয়। নারী পাথর শ্রমিক মর্জিনা, রেখা রানী, রাশেদা, মাহফুজা জানান, ভাই যে ঠান্ডা, মনে হয় পাথরের কাজ না করে ঘরে বসে থাকি। কিন্তু উপায় নাই, পেটের দায়ে ঠান্ডা নিয়ে কাজ করতে এসেছি।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ্ জানান, মঙ্গলবার (২ ফেব্রæয়ারি) সকাল ৯টায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন সোমবার সকাল ৯টায় রেকর্ড হয় ৭ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রবিবার রেকর্ড হয়েছিল ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। টানা কয়েকদিন ধরে প্রচন্ড শীত অনুভূত হচ্ছে আর তাপমাত্রাও উঠানামা করছে বলে জানান ভারপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তা।

Facebook Comments
advertisement

Posted ১:০৮ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২১

দৈনিক প্রথম দৃষ্টি |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
প্রকাশক
মাসুদ করিম সিদ্দিকী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মিজানুর রহমান সিদ্দিকী রঞ্জু
সম্পাদক
এস কে দোয়েল
প্রধান প্রতিবেদক
আব্দুল্লাহ আল মাহাদী
অফিস ব্যবস্থাপনা
নিসা আলী
সম্পাদকীয় কার্যালয়
৫/সি, আফতাবনগর মেইন রোড, রামপুরা, ঢাকা।
আঞ্চলিক প্রধান কার্যালয়
চৌরাস্তা বাজার, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়
ফোন
+৮৮০১৭৫০-১৪০৯১৯ (সম্পাদক)
+৮৮০১৭১৮-৭৭২৭৪৯ (বার্তা-সম্পাদক)
Email
prothomdristy@gmail.com