বৃহস্পতিবার ২রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

দেখা যাচ্ছে হিমালয়-কাঞ্চনজঙ্ঘা

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০

দেখা যাচ্ছে হিমালয়-কাঞ্চনজঙ্ঘা

অক্টোবরের শেষ সময়ে ঝকঝকে আকাশে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে হিমালয়-কাঞ্চনজঙ্ঘা। অনেকদিন পর আজ বৃহস্পতিবার ভোর সকাল হতেই দেখা মিলছে হিমালয়-কাঞ্চনজঙ্ঘার সাথে পর্যটকদের ঢল। দেশের উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া হতে কাছ হতে দেখা যুগলবন্ধী দুই পর্বতশৃঙ্গ। প্রতিবছর এই সময়ে পর্যটকের প্রচুর সমাগম ঘটে থাকে। বৃহস্পতিবার ভোরেই এখানকার একমাত্র বিনোদন পর্যটন কেন্দ্র ডাকবাংলোয় দেখা যায় পর্যটকদের ভীড়। ছুটে এসেছেন কাছ হতে হিমালয় পাহাড় আর কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপ উপভোগ করবেন বলে। কেউ এসেছেন টিম নিয়ে, কেউ বা দুজন। কেউ কেউ এসেছেন ঢাকা হতে, কেউ কেউ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল হতে। চলতি বছরের মহামারি করোনা প্রকোপের কারণে ঘরবন্ধী থাকার পর পরিস্থিতি কিছু স্বাভাবিক হওয়ায় দেশের পর্যটন স্পটগুলো খুলে দেয়ার পর মুক্ত বিহঙ্গের মতো ছুটে এসেছেন এখানে। এমনই জানালেন কয়েকজন।

কথা হয় ঢাকা হতে আসা মৌরি,আহসান, শিবলী সাদিকের সাথে। তারা জানান, কয়েকদিন ধরেই অপেক্ষা করছি তেঁতুলিয়ায় গিয়ে কাছ হতে হিমালয় দেখবো। কিন্তু আবহাওয়া স্বচ্ছতা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি থাকার কারণে আসতে পারিনি। গত বুধবার সন্ধ্যায় আসি তেঁতুলিয়ায়। আজ সকালে খুব কাছ হতে হিমালয়-কাঞ্চনজঙ্ঘাকে দেখতে পেরে খুব ভালো লাগছে। এছাড়াও আরো কয়েকজনের সাথে কথা বললে তারাও এরকম কাছ হতে আকাশচুম্বী হিমালয় দেখার অনুভূতি প্রকাশ করেন।

বিকেলে কথা হয় ঢাকা হতে আসা আব্দুল্লাহ্ মাহমুদসহ তার টিমের কয়েকজনের সাথে। আব্দুল্লাহ মাহমুদ জানান, সকালে পঞ্চগড়ে আসার সময় ট্রেনে আসার সময় দেখতে পাচ্ছিলাম উত্তরের আকাশে দৃশ্যমান যুগলবন্দী দুই পাহাড়। আকাশ পরিস্কার থাকায় ছুটে এসেছি তেঁতুলিয়ায়। দেখে খুব ভালো লেগেছে। আসা সার্থক হয়েছে।

webnewsdesign.com

ডাকবাংলো পিকনিক কর্ণারের ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম জানান,ভোরে পর্যটকদের বেশ ভীড়। ভোরের সতেজ পরিবেশে স্বচ্ছ আকাশে হেসে উঠা বহুল প্রত্যাশিত হিমালয়-কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখছেন। সপ্তাহ জুড়েই ভোরে দেশের বিভিন্ন স্থান হতে আসা পর্যটকদের ভীড় দেখতে পাচ্ছি।

কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপমাধুর্য বিষয়ে স্থানীয়রা জানান,দিনের শুরুতে কাঞ্চনজঙ্ঘা প্রথমে একটু কালচে, এরপর ক্রমান্বয়ে টুকটুকে লাল, কমলা, হলুদ এবং সাদা বর্ণ ধারণ করে। আর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ পরিবর্তন দেখতে দুরবীণ বা বাইনোকুলারের প্রয়োজন হয় না। দৃষ্টিশক্তি ভালো থাকলে এখন থেকে খালি চোখে হিমালয় ও কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়।

বিশেষত অক্টোবর-ডিসেম্বরে মেঘমুক্ত আকাশে দেখা মেলে অপার রূপ-প্রাচুর্যের হিমালয়-কাঞ্চনজঙ্ঘা। ধীরে ধীরে পরিস্কার আকাশে সৌন্দর্যের হাতছানি দিয়ে ডাকে পর্যটকদের। প্রতিবছর টেকনাফের সাগরদীপ সেন্টমার্টিন দেখতে অগণিত দেশি-বিদেশী ভ্রমন পিপাসুরা পাড়ি জমান। তেমনি উত্তরে আকাশ চুম্বী হিমালয়,মেঘকন্যা কাঞ্চনজঙা আর দার্জিলিংয়ের অপরূপ সৌন্দর্য শোভা উপভোগ করতে বিপুল সংখ্যক পর্যটক ভ্রমন করেন ভারত ও নেপালে। সেই আকাশচুম্বী পর্বতশৃঙ্গ হিমালয়, কাঞ্চনজঙ্গা আর দার্জিলিংকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ থাকায় পর্যটকদের প্রচুর সমাগম ঘটে এ সময়ে।

পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে নতুন রূপে সাজানো হয়েছে এখানকার একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র ডাকবাংলো ও পিকনিক কর্ণারটিকে। নির্মাণ করা হয়েছে সুউচ্চ ওয়াচটাওয়ার। এ ওয়াচ টাওয়ারে দাঁড়িয়ে ভ্রমণপিপাসুরা উপভোগ করছেন হিমালয় পর্বত, মেঘকন্যা কাঞ্চনজঙ্ঘা, দার্জিলিং এবং নদীর ওপারে ভারতের বিস্তৃত সবুজ চা বাগানসহ নানান দৃশ্য। আর সীমান্তজুড়ে রূপের পসরা মোহিত করে পর্যটকদের।

হিমালয়-কাঞ্চনজঙ্ঘাকে দেখার আরেক অন্যতম পর্যটন স্পট হচ্ছে বাংলাবান্ধা জিরোপয়েন্ট। এখানে অবস্থিত দেশের চতুর্দেশীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনার ভিন্নমাত্রিক স্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট। ইমিগ্রেশন সুবিধা চালু হওয়ায় এ বন্দর দিয়ে প্রবেশ করা যায় ভারত, নেপাল, ভূটান ও চীনে। এ বন্দর হতে থেকে হিমালয়ের এভারেস্ট শৃঙ্গের দূরত্ব ৭৫ কিলোমিটার আর কাঞ্চনজঙ্ঘার দূরত্ব ১১ কিলোমিটার। যার কারনে মেঘ-কুয়াশামুক্ত আকাশের উত্তর-পশ্চিমে তাকালেই দেখা মেলে বরফ আচ্ছাদিত সাদা পাহাড়, কাঞ্চনজঙ্ঘা। পাসপোর্ট ভিসা থাকলে এক ভ্রমনেই ঘুরে আসা যায় ভারতের শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, নেপাল, ভুটানসহ নানান দর্শনীয় স্থান এবং নেওয়া যায় উন্নত চিকিৎসা সেবা।

হিমালয়, কাঞ্চনজঙ্ঘার পর আরেক মনোমুগ্ধকর সন্ধ্যা উপভোগ করতে পারবেন পর্যটকরা। ডাকবাংলোর তীরে বসেই ঝিরিঝিরি শীতল হাওয়ায় চোখে পড়বে সন্ধ্যার উত্তরের আকাশের আরেক সৌন্দর্য। দার্জিলিং চুড়ার ঢালু বেয়ে গাড়ি চলাচল। ঢালু পাহাড়ের পথ জুড়ে রঙিন ল্যাম্পস্টের আলো। ডাকবাংলোর তীরঘেষা দুই বাংলার বুক চিরে প্রবাহিত নদী মহানন্দায় ভারতের কাটাতারের বেড়ার সাথে সারি সারি সার্চলাইটের আলো। সে আলোয় ১৫ কিলোমিটার জুড়ে মহানন্দাকে মনে হবে গড়ে উঠা কোন এক আধুনিক শহর। নেমে আসা সন্ধ্যার সূর্যাস্ত মনে হবে সাগরকন্যা কুয়াকাটার সূর্যাস্তের অবিকল নান্দনিক রূপ। মধ্য দুপুরের মাথার উপর সূর্যের কিরণে হীরের মতো জ্বল জ্বল করে হাসতে দেখা যাবে মহানন্দার চরের একেকটি বালিকণা। মন ছুটে যাবে বালুচরে হাটতে। পায়ের নিচে বালির ঝিরঝির শিহরনে আরেক অনুভূতিতে মোহিত করবে পর্যটকদের।

কিভাবে আসবেন?
বাংলাদেশের যেকোন স্থান হতেই আসতে পারবেন। ঢাকা গাবতলী কিংবা আব্দুল্লাহপুর হতে তেঁতুলিয়ায় আসার সরাসরি দুরপাল্লার বাস রয়েছে। হানিফ, শ্যামলী। অথবা পঞ্চগড় পর্যন্ত যেকোন ডে/নাইট কোচে আসতে পারবেন। ভাড়া পড়বে নন এসি ৬০০/৭০০ টাকা, এসি ১২০০/১৫০০ টাকা। সময় লাগবে ১১/১২ ঘন্টা।

কোথায় থাকবেন ও কি খাবেন?
তেঁতুলিয়ায় এখন বেশ কয়েকটি আবাসিক হোটেল আছে। খাবার বেশ সস্তা। ঘরোয়া খাবার খেতে চাইলে বাংলা হোটেল ও হোটেল নুরজাহান রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন প্রদের সবজি, ভর্তাসহ পছন্দনীয় খাবারই মিলবে।

সহযোগিতা নিতে পারবেনঃ
সবচেয়ে ভালো হয় আপনার জানাশোনা কেউ থাকলে বা কোন ট্যুর অপারেটরের সাথে যোগাযোগ করে খুটিনাটি জেনে নেওয়া। এজন্য সহযোগিতা নিতে পারেন “তেঁতুলিয়া ট্রাভেল এন্ড ট্যুরিজম” নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে। কিভাবে আসবেন, কোথায় থাকবেন, কোথায় ঘুরবেন এবং কি কি দেখার মতো রয়েছে এর সবকিছু জেনে নেওয়াসহ সার্বিক সেবা পারবেন প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে। যোগাযোগ নম্বর-০১৭৫৫৪৯০৮৯৪।

নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ
পর্যটকদের জন্য রয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ভ্রমন পিপাসুরা যাতে নির্ভীঘ্নে পর্যটন স্পটের দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে ঘুরে দেখতে পারেন সে বিষয়ে নিরাপত্তা জোরদার করতে স্থাপিত হয়েছে জেলা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোন। পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত ট্যুরিস্ট পুলিশ।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০

দৈনিক প্রথম দৃষ্টি |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

নীলশির
নীলশির

(603 বার পঠিত)

(141 বার পঠিত)

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
প্রকাশক
মাসুদ করিম সিদ্দিকী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মিজানুর রহমান সিদ্দিকী রঞ্জু
সম্পাদক
এস কে দোয়েল
অফিস ব্যবস্থাপনা
নিসা আলী
সম্পাদকীয় কার্যালয়
৫/সি, আফতাবনগর মেইন রোড, রামপুরা, ঢাকা।
আঞ্চলিক প্রধান কার্যালয়
চৌরাস্তা বাজার, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়
ফোন
+৮৮০১৭৫০-১৪০৯১৯ (সম্পাদক)
+৮৮০১৭১৮-৭৭২৭৪৯ (বার্তা-সম্পাদক)
Email
prothomdristy@gmail.com