মঙ্গলবার ২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

দেবীগঞ্জে সংখ্যালুঘু পরিবারকে আছিম আলীর প্রাণনাশের হুমকি

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   |   শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২০

দেবীগঞ্জে সংখ্যালুঘু পরিবারকে আছিম আলীর প্রাণনাশের হুমকি

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তাপস কুমার রায় নামে এক যুবকসহ তার সংখ্যালুঘু পরিবারকে প্রাণনাসহ বিভিন্ন হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে আছিম আলী নামে এক ব্যক্তি ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে ।

এদিকে রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে বিচার চেয়ে দেবীগঞ্জ থানায় অভিযুক্ত আছিম আলীকে প্রধান করে তার পরিবারের ৫ জনের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরীসহ বিভিন্ন খানে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী ওই সংখ্যালুঘু পরিবারটি।

শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে ওই সংখ্যালুঘু বাড়িতে গিয়ে এমন আতঙ্কের চিত্র দেখা গেছে।

জানা গেছে, ভুক্তভোগী তাপস কুমার রায়ের বাড়ি জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরদিঘী ইউনিয়নে ব্রমত্তোর (ঢাকাইয়া পাড়া) এলাকায় এবং সে ওই এলাকার শ্রী জামিনী কুমার রায়ের ছেলে। অন্যদিকে অভিযুক্ত আছিম আলী একই এলাকার মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। বাকি ৪ জন হলেন আছিম আলীর চাচাতো ভাই মো. আলম, ও তিন চাচা জবান আলী আব্দুল কুদ্দুস,হাচেন আলী ও আব্দুস সাত্তার।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ অক্টোবর (বুধবার) বিকেলে তাপস কুমার রায় তার বাড়ির পাশে থাকা জমিতে ইট ভাটার জমি দেখার জন্য লোকজন আসছে এমন খবর পেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে তাদের জমিতে যাওয়ার জন্য রাওয়ানা হলে এসময় পথের মধ্যে আছিম আলী ও তার পরিবারের লোকজন লাঠি নিয়ে তাকে ঘেরাও করে এবং প্রাণনাশসহ বিভিন্ন হুমকি দেয়। এদিকে তাপসের চিৎকারে ইটভাটা জন্য জমি দেখতে আসা লোকজনসহ স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাপসকে উদ্ধার করে। তাছাড়া ঘটনার পর থেকে তাপসসহ তার পরিবারকে বিভিন্ন হুমকি দিচ্ছে আছিম আলী ও তার স্বজনরা। সরেজমিনে জানা যায়,গত দুই যুগ পূর্বে প্রায় ৯ একর জমি নিয়ে তাপসের বাবা জামিনী কুমার রায়ের সাথে আছিম আলীর বাবার বিবাদ সৃষ্টি হয় এবং সেই জমি নিয়ে আদালতে মামলাও চলে এবং সেই মামলায় রায় পায় তাপসের বাবা জামিনী কুমার রায়। রায় ঘোষনার পর পরর্বীতে আছিমের বাবা আপিল করলেও আদালত পুনোরায় আপিলের রায় জামিনী কুমার রায় পক্ষে দেয় এবং আদালত জামিনী রায়কে সকল জমি হস্তান্তর করে। এদিকে পরবর্তীতে পরিকল্পিত ভাবে সংখ্যালুঘু পেয়ে আছিম আলী সহ তার স্বজনরা তাপসের বাবা জামিনী কুমার রায়কে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় এবং হাত পা ভেঙে দেয়।বৃদ্ধ বাবাকে বাঁচাতে চিকিৎসার জন্য তাপস সব কিছু বিক্রি করে আজ পথে বসেছে এবং তাপসে বাব পঙ্গুত্ব জীবন যাপন করে বিছানায় পড়ে আছে। এখন দুবেলা আহার জোগার করাই যেন কঠিন হয়ে পড়েছে ওই সংখ্যালুঘু পরিবারটির।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,আছিম আলী নামে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে, তার নামে নারী শিশু মামলা সহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে এবং সে বেশ কয়েক বার জেলেও খেটেছে বলে জানা গেছে।

এবিষয়ে ভুক্তভোগী তাপস কুমার রায় জানান,আমরা গরীব মানুষ,আমাদের আপন বলতে এলাকায় কেউ নাই। আছিম আলীসহ তার চাচারা জমি নিয়ে কেন্দ্র করে আমার বাবাকে পঙ্গু করে দিয়েছে। আদালতে মামলাও চলছে। এখন সে আমাকে মেরে ফেলার জন্য হুমকি দিচ্ছে। আমি ও আমার পরিবার আজ আছিমের অত্যাচার ও ভয়ে বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না। আমরা বিচার চাই আছিমের।

এবিষয়ে কথা হয় তাপসের বাবা শ্রী জামিনী কুমার রায়ের সাথে,তিনি জানান, আছিমের সাথে আমাদের জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। আমি মামলায় রায় পেয়েছি এবং দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশী সময় ধরে আমি জমি ভোগ দখল করে আসছি। আছিম বিভিন্ন প্রভাব ও দাপট দেখিয়ে আমরা সংখ্যালুঘু হওয়ায় আমাকে মেরে পঙ্গু বানিয়ে রেখেছে। এখন আমার ছেলেকে পঙ্গু করার জন্য তার পিছনে লেগেছে। আমার একমাত্র ছেলেকে মেরে নাকি ভারতে পাঠিয়ে দেবে এমন হুমকি দিচ্ছে আছিম ।

তবে অভিযুক্ত আছিম আলী অভিযোগ অস্বীকার করে জানান,আমি ও আমার স্বজনরা তাপসকে কোন হুমকি দেয়নি। তারা মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে বেড়াচ্ছে আমার নামে ।

এদিকে সুন্দরদিঘী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পরেশ চন্দ্র রায় জানান, দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি দ্বন্দ্ব চলছে মামলাও হয়েছে। জামিনী কুমার রায় আদালতে মামলার রায় পেয়েছে এবং জামিনী তার জমির উপর গেলে আছিমের পরিবার বাধা দেয়। এনিয়ে মারামারি হয়েছে তাদের মধ্যে, মামলা চলামান রয়েছে। তবে ভুক্তভোগী পরিবারটি অপেক্ষাকৃত দূর্বল এবং সংখ্যালুঘু। এই পরিবারের তেমন শক্তি সার্মথ্য কিংবা সম্পদে নেই। আমি মাঝখানে তাদের সমস্যা সমাধান ও মিমাংসা করার জন্য দু পক্ষের সাথে বসে ছিলাম সমাধানেও আসতে চেয়ে ছিল তারা কিন্তু পরে তারা আর আমার কাছে আসেনি।

এবিষয়ে দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হাসান সরকার জানান, যেহেতু জমি সংক্রান্তকে কেন্দ্র করে তাপস কুমার রায় আছিম আলীর বিরুদ্ধে থানায় সাধারন ডায়েরী করেছে তাই বিষয়টি তদন্ত করে তারপর তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে

Facebook Comments
advertisement

Posted ৩:২৩ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২০

দৈনিক প্রথম দৃষ্টি |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
প্রকাশক
মাসুদ করিম সিদ্দিকী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মিজানুর রহমান সিদ্দিকী রঞ্জু
সম্পাদক
এস কে দোয়েল
প্রধান প্রতিবেদক
আব্দুল্লাহ আল মাহাদী
অফিস ব্যবস্থাপনা
নিসা আলী
সম্পাদকীয় কার্যালয়
৫/সি, আফতাবনগর মেইন রোড, রামপুরা, ঢাকা।
আঞ্চলিক প্রধান কার্যালয়
চৌরাস্তা বাজার, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়
ফোন
+৮৮০১৭৫০-১৪০৯১৯ (সম্পাদক)
+৮৮০১৭১৮-৭৭২৭৪৯ (বার্তা-সম্পাদক)
Email
prothomdristy@gmail.com