বৃহস্পতিবার ২রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

দৌলতপুরে মধ্যবিত্তদের ঘরে চাপা কান্না- দেখার কেউ নেই

  |   রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২০

দৌলতপুরে মধ্যবিত্তদের ঘরে চাপা কান্না- দেখার কেউ নেই

দৌলতপুর(কুষ্টিয়া) প্রতিনিধিঃ কষ্টগুলো প্রকাশ করতে মানা আর জীবনের কোন ক্রান্তিলগ্নে খুব কান্না এলে তাতেও যেন মানা। কাঁদলেও কাঁদতে হবে নিরবে নিভৃতে।
বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন মারা যাচ্ছে মানুষ। ক্রমান্বয়ে বাড়ছে লাশের সংখ্যা। করোনার কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো পড়েছে চরম আর্থিক সংকটে।
নিম্ন আয়ের মানুষ সরকার বা উচ্চবিত্তদের কাছ থেকে সহায়তা পেলেও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সহায়তা থেকে বঞ্চিত। এই দুর্যোগপূর্ণ সময়ে সামাজিক অবস্থান, মানবিক মূল্যবোধ, আধুনিক ধ্যানধারণা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থানসহ অন্য বিষয়গুলোর কারণে মুখফুটে তারা বলতে পারছে না তাদের অসহায়ত্বের কথা। অথচ সমাজের বড় একটি জনগোষ্ঠী মধ্যবিত্ত। দেশের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির নেপথ্যে বড় ভূমিকা রাখে এরাই। বাজেট ঘোষণার পর কিংবা অন্য কোনো কারণে পণ্য বা সেবার দাম বাড়লে বলা হয় ‘চাপে পড়বে মধ্যবিত্ত’।
এককথায় মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে জন্মগ্রহন করা মানুষের জীবনের গল্প ঠিক এমনই।
বর্তমানে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পরা করোনা ভাইরাসের সংক্রমন রোধে বেশ কিছুদিন হলো কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের ঔষধ ও নিত্যপন্য ছাড়া সব ধরনের দোকানপাট অনিদির্ষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। সেই সাথে বন্ধ হয়ে গেছে মধ্যবিত্ত পরিবারের আয় রোজগার।
প্রশাসনের নির্দেশ মেনে বাজারে ভাড়া নেয়া দোকানটি বন্ধ রয়েছে। খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতে মানা। তারপর পরিবারের খাবার সংগ্রহের জন্য বাজারে আসতে বাধ্য হন অনেকেই।

এদিকে উপজেলার অনেক ছোট-বড় ব্যবসায়ীই পরিবার নিয়ে বেচেঁ থাকার জন্য নিজের কাছে জমানো সামান্যে পুজিঁ ও লোন করে ঘর মালিককে অগ্রিম টাকা দিয়ে দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করে আসছিলেন। এতে তাদের মাথার উপর প্রতিদিন ভর করছে বাড়তি ঋণের বোঝার চাপ। আর সেই সাথে পরিবারের রোজগারের চিন্তা, বোবা কান্না ছাড়া কোন উপায় থাকে না মধ্যবিত্তদের। এমতাবস্থায় কোনমতে চালাতে হচ্ছে তাদের সংসার।
তারপর রয়েছে সন্তানদের বিভিন্ন ধরনের বায়না। প্রতিদিনই কোনমতে এগুলো ম্যানেজ করে আসছিলেন। কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে সামনে চলে আসে মধ্যবিত্তদের বিপদের আশঙ্খা ও হাহাকার। দুর্বিসহ হয়ে ওঠে জীবন-যাপন। অনেকে হয়তো কারো কারো বন্ধু-আত্নীয় ও পরিচিতদের কাজ থেকে ধার করে পরিবারের জন্য খাবার জোগার করে থাকে। আবার কেও কেও হয়তো না পরিবার নিয়ে না খেয়েই লোকলজ্জার ভয়ে ভালো থাকার অভিনয় করে দিনপার করে চলেছে। এসময় খুব বেশি কাছের ও পরিচিত না হলে টাকাও ধার দিতে চায়না অনেকেই।

উপজেলা বাজারের নাজমুল ইসলাম ফটোকপি ও ফেক্সিলোড ব্যবসায়ী জানান, এক মাস ধরে আমার ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রয়েছে। ছোট হলেও দোকানের আয়ের টাকা দিয়েই সংসার চলতো আমার। ভাই-বোন, স্ত্রী, সন্তান ও বোনকে নিয়ে পরিবার তার। কোনো সঞ্চয়-ব্যাংক হিসাব নেই তার। তিনি জানান, বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে সংসার চালানোটা খুব কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। হাতে যা কিছু টাকা ছিল তাও শেষ হয়ে এসেছে। দেশের অবস্থা এমন চলতে থাকলে আগামী দিনগুলো যে পরিবার নিয়ে কিভাবে চলবো ভেবে পাচ্ছিনা।

webnewsdesign.com

করোনা পরিস্থিতির কারণে কিভাবে দোকান ঘর ভাড়া দেবেন, কীভাবে সংসার চালাবেন ভাবতেই সে হিমিসিম খেয়ে উঠছেন। কিন্তু কাউকে এমন কষ্টের কথা বলতেও পারছেন না। আবার ত্রান ও খাদ্যসামগ্রীর জন্য লাইনে দাড়াঁতেও পারছিনা। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘বড় লোকের টাকার অভাব নেই। গরীবরা ত্রাণ পায়। আর মধ্যবিত্তরা না খেয়ে চোখের পানি লুকায়’।
উপজেলার থানা বাজার এলাকায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভাই চাকরি করেন একটি বেসরকারী হাই স্কুলে । দেশের এই দুর্যোগের সময় কেমন আছে জানতে চাইলে তিনি বললেন, মার্চের ১৫ তারিখ থেকে স্কুল ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। দীঘদিন যাবৎ এই পেশার সাথে যুক্ত থাকলেও বিনা বেতনে শিক্ষা দিয়ে আসছেন। বেচে থাকার একমাত্র ভরসা টিউশনি, একমাস ধরে স্কুল ছুটি থাকায় টিউশনিও নেই। টাকা-পয়সা নেই। মুখ ফুটে কাউকে কিছু বলতেও পারছি না। কোনোরকম খেয়ে না খেয়ে জীবনযাপন করছি। এ অবস্থায় বিত্তশালীরা আমাদের মধ্যবিত্তের পাশে এগিয়ে না এলে আমরা বিপদে পড়ব আরও বেশি।’শিগগিরিই এ পরিস্থিতি কেটে না গেলে সামনের দিনগুলো তার জন্য ভয়াবহ।
সরকার ও বিত্তশালীদের বলব, আপনারা যেভাবে নিম্নবিত্তদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তেমনি মধ্যবিত্তদের পাশে দাঁড়ান। তাদের দিকে নজর দিন।
ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি সেফটিনেটের বাইরে থাকা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ঘরে খাবার পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রতি দিয়েছেন। তিনি এ বিষয়ে তালিকা তৈরি করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়েছেন।

 

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১০:০১ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২০

দৈনিক প্রথম দৃষ্টি |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
প্রকাশক
মাসুদ করিম সিদ্দিকী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মিজানুর রহমান সিদ্দিকী রঞ্জু
সম্পাদক
এস কে দোয়েল
অফিস ব্যবস্থাপনা
নিসা আলী
সম্পাদকীয় কার্যালয়
৫/সি, আফতাবনগর মেইন রোড, রামপুরা, ঢাকা।
আঞ্চলিক প্রধান কার্যালয়
চৌরাস্তা বাজার, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়
ফোন
+৮৮০১৭৫০-১৪০৯১৯ (সম্পাদক)
+৮৮০১৭১৮-৭৭২৭৪৯ (বার্তা-সম্পাদক)
Email
prothomdristy@gmail.com