| বুধবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২০
নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের অপার সম্ভাবনাময় স্থল বন্দর পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা। চতুর্দেশীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে আগামীতে চীন যুক্ত হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে বন্দরটির সঙ্গে। ব্যবসা-বাণিজ্য আর পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনা থাকার পরও এখনো নেয়া হয়নি পরিবেশগত সুরক্ষার কোন উদ্যোগ।
বন্দরটিতে পাথর আমদানি হওয়ার কারণে সড়কের দু’পাশে উন্মুক্তভাবে শতাধিক পাথর ক্রাশিং মেশিন বসিয়ে এলসি পাথরের ব্যবসায়ীরা লোড-আনলোড, নেটিং, শোটিং ও ক্রাশিং করার কারণে ধূলোয় ধূসরে পরিণত হয়েছে বন্দর এলাকাটি। এতে করে চরম দুর্ভোগসহ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে এখানকার খেটে খাওয়া শ্রমিকরা। সেই সঙ্গে পর্যটন শিল্পের আলাদা গুরুত্ব থাকায় বন্দরটিতে প্রতিদিন শত শত পর্যটক যাওয়া আসা করায় তারাও ধুলোবালির কারণে চরম অস্বস্তিবোধ করছেন।
দেয়াল না থাকায় উন্মুক্ত ভাবেই করা হচ্ছে পাথর ক্রাশিং। এতে করে ধুলোবালি ছড়াচ্ছে চারদিকে। বিজিবি ক্যাম্প থেকে জিরোপয়েন্ট পর্যন্ত যাতায়াতের একমাত্র সড়কটিতে দেশী-বিদেশী যাত্রীদের চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ধুলোবালি। অথচ ওপারে ভারতের ইমিগ্রেশন থেকে পাথর আমদানি হয়ে এলেও সে দেশের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে।
বন্দর ঘুরে দেখা যায়, পাথর ভাঙার স্থলে বায়ু ও শব্দ দুই-ই দূষণ ঘটে। পাথর ভাঙার সময় উৎপন্ন ধুলা ও উচ্চ শব্দের মধ্যে দিনভর কাজ করে শ্রমিকরা। প্রতিনিয়ত শ্রমিকদের নাক ও মুখ দিয়ে শরীরের ভেতর প্রবেশ করছে ধুলা। এ থেকে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি হয়।
চিকিৎসকরা জানান, পাথর ভাঙা শ্রমিকরা সর্দি, জ্বর, কাশি, মাথা ব্যথা, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়। যন্ত্রের শব্দে শ্রবণ ও মস্তিস্কজনিত সমস্যায় ভোগে। এমনকি মরণব্যাধি সিলিকোসিস রোগেও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। জীবিকার তাগিদে স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যেই দিনের পর দিন কাজ করতে হয়। সচেতন না হওয়ায় শরীরে জটিল রোগ বাসা বাঁধলেও বুঝতে পারে না তারা।
পাথর শ্রমিক কদবানু, সুফিয়া, তফিরণ বেওয়া, তহমিনা খাতুনসহ বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, সারাদিন পাথরের কাজ করলে খুব কষ্ট হয়। শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন সমস্যা হচ্ছে। পাথর সাইটে কাজ করতে হলে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জিনিসপত্র ব্যবহার করতে হয় তা আমরা জানি না। অন্য কাজের সুযোগ না থাকায় বাধ্য হয়েই পাথরের কাজ করতে হচ্ছে। কাজ না করলে খামু কি। পেটের ক্ষুধা তো ধূলোবালি পরিবেশ বোঝে না। পাথরের গুড়া উড়ার কারণে চোখ জ্বালাপোড়া করে, এমনকি চোখে কম দেখেন বলে জানান অনেকে।
এমন পরিবেশে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বেড়াতে আসা পর্যটকরা। তারা জানান, অপার সম্ভাবনার স্থল বন্দর এটি। দেশের এমন কোন বন্দর নেই যেখানে পাঁচ দেশের সঙ্গে যুক্ত হবার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বন্দরটির পরিবেশ সুরক্ষার জন্য উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।
দার্জিলিং থেকে ঘুরে আসা কয়েকজন জানান, ভারতের ওপারে কী পরিচ্ছন্ন রাস্তা। শত শত পাথর বোঝাই ট্রাকা যাওয়া-আসা করছে। কিন্তু তেমন ধুলোবালি নেই। অথচ এপারে এলেই ধুলোবালির কারণে মনটা খারাপ হয়ে যায়।
এ বিষয়ে ইমিগ্রেশন ওসি মোকছেদ আলী জানান, ধুলোবালির কারণে আমাদেরও দায়িত্ব পালন করতে কষ্ট হয়।
বাংলাবান্ধা ইউপি চেয়ারম্যান কুদরত-ই-খুদা মিলন জানান, আমার ইউনিয়নের উদ্যোগে দিনে সড়কে কয়েকবার পানি দেয়া হচ্ছে। উন্মুক্ত ভাবে পাথরের কাজ চলার কারণে ধুলোবালি আটকানো যাচ্ছে না। এতে দেয়াল করা হলে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
এদিকে, চীনে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বন্দরটির প্রয়োজন। এ বন্দর থেকে চীনের দূরত্ব মাত্র ২০০ কিলোমিটার। আর ৬১ কিলোমিটার দূরে নিকটস্থ নেপাল। দার্জিলিংয়ের দূরত্ব মাত্র ৫৮ কিলোমিটার। ইতিমধ্যে নেপালে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্তের খবর পাওয়া গেছে। বন্দরটিতে করোনা ভাইরাসের নজরদারি ও সতর্কতা বাড়াতে বসানো হয়েছে বিশেষ মেডিকেল টিম।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মাসুদুল হক জানান, ‘দেশের সবকটি স্থল বন্দরে করোনা ভাইরাসের বিষয়ে সতর্কতা ও নজরদারির ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে যেন খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এখানে করোনা ভাইরাস সনাক্তকরণের মেডিকেল টিম বসানো হয়। বিশেষ করে নেপাল থেকে আগত কোন ব্যক্তি যেন সনাক্তকরণের বাইরে না থাকে। বাংলাবান্ধায় এ ভাইরাসের ওপর জনসচেতনতামূলক আয়োজন করা হচ্ছে।
Posted ২:৩৯ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২০
দৈনিক প্রথম দৃষ্টি | প্রথম দৃষ্টি