শুক্রবার ২২শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

পর্ব - ১

বগালেক, কেওক্রাডং ভ্রমণ

জিয়াসমিন আক্তার   |   রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০

বগালেক, কেওক্রাডং ভ্রমণ

“আমি হাঁটি
বেশুমার ভাঙচুরে
আমাকে টেনে নিতে তুমি
পথ পাঠালে
উঁচু আর নিচুর ভেদ শিখে
সেই ক্লান্তিতে শান্তির জল দু’হাত পেতে দিলে
ও আমার প্রিয় ভূমি
তোমার কোলে বাড়ে আমার সুখ দুঃখের ভ্রুণ! ”

ইউটিউবে আমার শুধু ভ্রমণ ভিডিওগুলো দেখতেই ভালো লাগে। ইচ্ছে করে মরবার আগে যতটা পারি দেখে যাই, নয়ন জুড়াই! মহান সৃষ্টিকর্তা কত সুন্দর করেই যে এ ধরনী গড়েছেন, তার এইটুকু দেখে যাওয়ার ভাগ্য জোটে ক’জনের!

আমরা চারজন রওনা হলাম বান্দরবান এর উদ্দেশ্যে। প্রথমে গাবতলি ঢাকা, তারপর সেখান থেকে গাড়ি করে সরাসরি বান্দরবান। ঢাকা পৌঁছলাম রাত নয়টার দিকে, খানিক পর বড় ভাই মাহফুজ চৌধুরী আমাদের সাথে এই ভ্রমণে যুক্ত হলেন।

webnewsdesign.com

মজার বেপার হলো বগালেক, কেওক্রাডং এ এই ট্র্যাকিং ট্যুরে আমাদের মাঝে সর্ব কনিষ্ঠ (৯বছর)সদস্য যেমন আছে, তেমনি ষাটোর্ধ সদস্যও রয়েছেন! সীমাহীন বিস্ময়, অজানা রহস্যের টান আর অজস্র নিষেধ কে উপেক্ষা করে রাত ১০ টায় গাবতলি থেকে বান্দরবান এর উদ্দেশ্যে আমাদের গাড়িটা চলতে শুরু করলো! সেই সময়টায় স্বপ্নের বাস্তবায়নে মনের ভেতর কি এক অনুভূতি তা ভাষায় প্রকাশের জন্য নয়!

আমার টার্গেট ছিলো সারারাত ঘুম দিলেও ভোর থেকে আমি একদম চোখ মেলে থাকবো। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা চট্টগ্রাম কে দেখতে দেখতে যাবো। এতদূর থেকে আসা, ঘুমিয়ে কাটালে হবে!

চট্টগ্রাম শহরে ঢুকলাম যখন তখন ভোর চারটা, তারপর কর্ণফুলী নদীর উপর রংবেরঙের আলোকসজ্জা সত্যিই অপূর্ব এক খুশির আমেজে ভরিয়ে দিলো। সাতকানিয়া আসার পর মোটামুটি আকাশ ফর্সা হতে লাগলো, আর দূরে কালো আবছা পাহাড়ে নতুন সূর্যের কাঁচা রোদের ঝিলিক আমাকে অবাক করেছে মুহূর্তে মুহূর্তে!

কিছুপরে রাস্তাটা দু’ভাগ হলো। বা পাশটা বান্দরবান এর, ডান পাশটা কক্সবাজার। সমুদ্রে তো এখন নয়, পাহাড়ে যাবো তাই আফসোস দূরে রেখে বা পাশের দৃশ্যে মনোনিবেশ করলাম। গাড়িটা যতই সামনে এগুচ্ছে ততই পাহাড়,সবুজ আর আঁকাবাঁকা রাস্তা যেনো গভীর মনোযোগ কাড়তে হাতছানি দিচ্ছে। কী যে সুন্দর এ সকাল, আমরা পাঁচজনই চোখ মুছে বড় বড় করে তাকিয়ে কেবল দেখছি।
উঁচু নিচু পাহাড়ি পথ পেরিয়ে ভোর সাড়ে ছয়টায় আমাদের গাড়ি বান্দরবান বাসস্ট্যান্ড এসে থামলো। এর কিছু আগে কয়েকটি সুন্দর রিসোর্ট চোখে পড়েছিলো, তারমধ্যে অন্যতম ছিলো ” মেঘলা”।

পূর্ব নির্ধারিত চান্দের গাড়ির পাইলট মুস্তাক ভাই ফোন করে আমাদের সাথে মিলিত হলেন। তিনি প্রস্তাব করলেন আমরা যেনো এখনই পরবর্তী যাত্রা রুমাবাজার এর উদ্দেশ্যে রওনা হই, সকালের নাস্তা সেখানে করলে ভালো হবে।
তার কথা অনুযায়ী কোনরকম এ হাতমুখ ধুয়ে একটু ফ্রেশ হয়ে চড়ে বসলাম চান্দের গাড়িতে,জীবনে প্রথমবারের মতো। চান্দের গাড়ি এজন্যই স্পেশাল যে এই গাড়িই একমাত্র অমন খাড়া পাহাড়ি রাস্তায় চলার সক্ষমতা নিয়ে তৈরী!

প্রথম আর্মি ক্যাম্প Y জংশন এ অপেক্ষা করছিলো ছোটভাই শাহীন । পাহাড়ি সুমিষ্ট এবং সুস্বাদু ফল দিয়ে তার আতিথিয়তায় আমরা মুগ্ধ। সে বাংলাদেশ আর্মির সদস্য। তাঁর কমান্ডিং অফিসার এর সাথে কথা হলো, তিনি আমাদের স্বাগতম জানালেন এবং পরবর্তী চেকপোস্টগুলোতেও আমাদের সহযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করলেন।

আমরা আবার রওনা হলাম রুমাবাজার এর উদ্দেশ্যে। পথিমধ্যে সুন্দর সুন্দর ভিউ এ যাত্রাবিরতি করেছি কয়েকবার। তবে চান্দের গাড়ির স্পিড খুব বেশি ছিলো। রাস্তাগুলো খুবই আঁকাবাঁকা এবং বিপদজনক এবং অসম্ভব অসম্ভব সুন্দর ছিলো !
আমরা সকলেই অবাক বিস্ময়ে এগিয়ে চলছি পাহাড়ের বুক ছুঁয়ে আঁকাবাঁকা পথে। কখনও অনেক উঁচু পাহাড়ে গাড়ি উঠছে কখনও পাহাড়ের ঢালে নামছে, কখনও গভীর জঙ্গল, কখন বড় খাদ।

মাঝে মাঝে উপজাতিদের বসবাসরত বেশকিছু পাড়া চোখে পড়লো। যেমন- দূর্ণিদৌ পাড়া, প্লেদই পাড়া, মুরংগো বাজার ইত্যাদি।

বেলা ১১ টার দিকে আমরা পৌঁছলাম রুমাবাজার। সেখান থেকেই পূর্বেই নির্ধারিত গাইড পবন দাদা আমাদের সাথে যুক্ত হলেন। এই রুটে ভ্রমণে গাইড নেয়া বাধ্যতামূলক। তিনিই বগালেক যাওয়ার সকল প্রস্তুতি শুরু করলেন।

ছোট্ট ছিমছাম একটা বাজার, নানা রকম ফল ও নিত্যপ্রযোজনীয় সবই পাওয়া যায় এখানে। নাস্তা সারলাম একটা হোটেলে, পাশে এক দোকান থেকে বড় বড় দুটো পান মুখে দিয়ে, বগালেক এর জন্য নির্ধারিত ফর্ম ফিলআপ করে পাহাড়ের উপর আর্মি ক্যাম্পে গেলাম, সেখান একটি সুন্দর মন্দিরের মঠ রয়েছে।
যারা রুমাবাজার যাবেন সেখান থেকে একটা পান নিশ্চই খাবেন, আর অবশ্যই কাঁচা সুপারি দিয়ে!

রুমাবাজার এর আর্মিদের যাচাই বাছাই এর পর আমরা আবার চড়ে বসলাম চান্দের গাড়িতে। রুমা বাজার থেকে বগালেক এর দূরত্ব ১৭ কিলোমিটার। আর এই পথটা যে কতটা ভয়ংকর বিপদজনক এবং অপূর্ব সুন্দর কি আর বলব। সৌন্দর্য দেখতে দেখতে আর দোয়া পড়তে পড়তে আমার গলা শুকিয়ে কাঠ। একদিকে আনন্দ, বিস্ময় আরেক দিকে ভয়ানক ভয় এ দুই এর মিশেলে আপনার অবস্থা কি হতে পারে তা রুমাবাজার থেকে বগালেক অবদি না গেলে বুঝবেন না।
তো এই পর্ব এই পর্যন্তই থাক। পাঠক সকলের জন্য ভিডিও ও ছবি দেয়া হলো। যদিও সেই সৌন্দর্য কখনওই ছবিতে তোলা সম্ভব নয় তবু স্মৃতি হিসেবে ছবিই তো থাকে!
—— চলবে

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৪:৫৭ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০

দৈনিক প্রথম দৃষ্টি |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

নীলশির
নীলশির

(576 বার পঠিত)

(128 বার পঠিত)

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
প্রকাশক
মাসুদ করিম সিদ্দিকী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মিজানুর রহমান সিদ্দিকী রঞ্জু
সম্পাদক
এস কে দোয়েল
অফিস ব্যবস্থাপনা
নিসা আলী
সম্পাদকীয় কার্যালয়
৫/সি, আফতাবনগর মেইন রোড, রামপুরা, ঢাকা।
আঞ্চলিক প্রধান কার্যালয়
চৌরাস্তা বাজার, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়
ফোন
+৮৮০১৭৫০-১৪০৯১৯ (সম্পাদক)
+৮৮০১৭১৮-৭৭২৭৪৯ (বার্তা-সম্পাদক)
Email
prothomdristy@gmail.com