বৃহস্পতিবার ১৫ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

বাবার সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের দ্বন্দ্ব, দুই বছরেও ভর্তি হতে পারেনি কামেলী

  |   মঙ্গলবার, ০৭ জানুয়ারি ২০২০

বাবার সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের দ্বন্দ্ব, দুই বছরেও ভর্তি হতে পারেনি কামেলী

দেলোয়ার হোসাইন নয়ন, পঞ্চগড় :
পিইসি পরীক্ষার পর শালবাহান দ্বিমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার ইচ্ছা ছিল কামেলী আক্তারের। গত বছর ভর্তি হতে না পারায় এবছর ফের চেষ্টা করে। কিন্তু এবার ভর্তির ফরমও দেওয়া হয়নি তাকে। কামেলীর পরিবারের অভিযোগ, স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু জাফরের সঙ্গে কামেলীর বাবা আব্দুল করিম বেণ্টুর দ্বন্দ্ব থাকায় কামেলীকে ভর্তি হতে দেওয়া হয়নি। তাই সহপাঠীরা নতুন বই নিয়ে স্কুলে গেলেও কামেলী এখনও ছুঁয়ে দেখতে পারেনি নতুন বইয়ের মলাট।

জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার তিরনইহাট ইউনিয়নের যোগীগছ গ্রামে অবস্থিত এই বিদ্যালয়ের পাশেই কামেলীর বাড়ি। তাই এখানেই পড়তে চায় সে। এ ব্যাপারে কামেলী বলেছে, ‘আমার বড় দুই্ বোনও এখানে পড়েছে। অন্য বিদ্যালয়গুলো বেশ দূরে। কিন্তু আমাকে পড়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। আমার বন্ধুরা সবাই নতুন বই হাতে পেয়ে পড়তে শুরু করেছে। আমি ভর্তি ফরমটিও পাইনি। আমাকে ওই বিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ করে দেওয়া হোক।’

জানা যায়, তেঁতুলিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী মাহামুদুর রহমান ডাবলুকে মৌখিকভাবে অবহিত করেছেন কামেলীর বাবা আব্দুল করিম বেণ্টু। কিন্তু তাতেও কোনও কাজ হয়নি। এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।

অভিযোগে জানা গেছে, কামেলী আক্তারের বাবা পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তিনি ২০১০ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত শালবাহান দ্বিমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচিত সদস্য ছিলেন। ২০১৮ সালের কথা কাটাকাটিকে কেন্দ্র করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু জাফরের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। তিনি ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলাটি এখনও আদালতে চলমান।

কামেলীর বাবা আব্দুল করিম বেণ্টু জানান, ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর শালবাহান দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে নতুন ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে ১৫ নভেম্বর ভর্তি ফরম নিতে যান তিনি। কিন্তু দ্বন্দ্ব থাকায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু জাফর তাকে ভর্তি ফরম না দিয়ে ফিরিয়ে দেন। বিভিন্ন মাধ্যমে অনুরোধ জানালেও কোনও কাজ হয়নি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে আব্দুল করিম বেণ্টুর মেয়ে কামেলী মুনিগছ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিইসি পাস করে। ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর শালবাহান দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি জন্য পরীক্ষায় অংশ নেয়। ভর্তি পরীক্ষায় কৌশলে তার নাম অকৃতকার্যদের তালিকায় প্রকাশ করা হয় বলে অভিযোগ করেন কামেলীর পরিবার। পরে কয়েক দফায় তাকে ভর্তি করার জন্য অনুরোধ করলেও ভর্তি নেয়নি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু জাফর। এরপর ভর্তি আদেশের জন্য আদালতে একটি মামলা করেন কামেলীর বাবা। কিন্তু আদালতে মামলার দীর্ঘসূত্রিতার জন্য তিনি ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর মামলাটি তুলে নেন। তবে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে তার দায়ের করা আগের মমামলাটি এখনও চলমান। তবে এবার ভর্তি ফরমটিও দেওয়া হয়নি কামেলীকে।

এ ব্যাপারে শালবাহান দ্বিমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু জাফর জানান, আমার বিরুদ্ধে মামলা করা এবং মামলাটি চলমান থাকায় ওই শিক্ষার্থীকে ভর্তি ফরম দেওয়া হয়নি। এছাড়া আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, ৮০ জনের বেশি এবং জিপিএ-২ এর নিচে কোনও ছাত্রী ভর্তি করাবো না। তাই ওই শিক্ষার্থীকে ভর্তি ফরম দেওয়া হয়নি।

তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রফিকুল আলম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর আমি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছি। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীন আকতার জানান, পিইসি পরীক্ষায় জিপিএ-২ এর নিচের ফলাফলের শিক্ষার্থীদের ভর্তি ফরম দেওয়া যাবে না এমন কোনও বিধান নেই। আমি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেবো।

Facebook Comments
advertisement

Posted ৪:৩৯ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৭ জানুয়ারি ২০২০

দৈনিক প্রথম দৃষ্টি |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
প্রকাশক
মাসুদ করিম সিদ্দিকী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মিজানুর রহমান সিদ্দিকী রঞ্জু
সম্পাদক
এস কে দোয়েল
প্রধান প্রতিবেদক
আব্দুল্লাহ আল মাহাদী
অফিস ব্যবস্থাপনা
নিসা আলী
সম্পাদকীয় কার্যালয়
৫/সি, আফতাবনগর মেইন রোড, রামপুরা, ঢাকা।
আঞ্চলিক প্রধান কার্যালয়
চৌরাস্তা বাজার, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়
ফোন
+৮৮০১৭৫০-১৪০৯১৯ (সম্পাদক)
+৮৮০১৭১৮-৭৭২৭৪৯ (বার্তা-সম্পাদক)
Email
prothomdristy@gmail.com