বৃহস্পতিবার ১৫ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

বাসাইলে সরিষা আবাদে বাম্পার ফলন

মোঃ শরীফুজ্জামান, বাসাইল(টাঙ্গাইল) ঃ   |   রবিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২১

বাসাইলে সরিষা আবাদে বাম্পার ফলন

ছবি-প্রথম দৃষ্টি

চারদিকে তাঁকালে শুধু সরিষার হলুদ ফুলের সমারোহ। সরিষার সবুজ গাছের হলুদ ফুলগুলো শীতের রোদে আর বাতাসে ঝিকিমিকি করছে। দেখে মনে হয় যেন প্রকৃতি সেজেছে হলুদ বরণ সাজে।

মৌমাছির গুণগুণ শব্দে ফুলের রেণু থেকে মধু সংগ্রহ আর প্রজাপতির এক ফুল থেকে আরেক ফুলে পদার্পণ এ এক অপরূপ দৃশ্য। টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার বিস্তীর্ণ কৃষকের মাঠে এরকম দৃশ্য লক্ষ্য করা যায়। প্রতি বছরের মতো এবছরও বাসাইলের চাষিরা সরিষার আবাদ করেছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসের সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে টাঙ্গাইলের বাসাইলে ৪ হাজার ৭৮০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর এবছর বাসাইলে ৪ হাজার ৮২০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪০ হেক্টর জমিতে বেশি সরিষা আবাদ করা হয়েছে। গত বছর ৪ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়েছিল।

যা গত বছরের চেয়ে ২৭০ হেক্টর বেশি জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়েছে। উপজেলায় ৫টি জাতের সরিষার চাষ করা হয়। যেমন,বারি-৯, বারি-১৪, বারি-১৫,বারি-১৭ এবং টরি-৭ এদের মধ্যে টরি-৭ উপজেলায় বেশি আবাদ করা হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় জেলার বাসাইল সদর ইউনিয়ন ও কাঞ্চনপুর ইউনিয়নে কৃষকের মাঠের দিকে তাঁকালে সরিষার হলুদ ফুল ভরে গেছে।

বাসাইল কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের জিকাতলী পাড়া গ্রামের সরিষা চাষি ফনিন্ড মন্ডল জানান, তিনি ৭ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। প্রতি বিঘায় তার ব্যয় হয়েছে ২-৩ হাজার। ফলন ভালো হলে বিঘাপ্রতি ৪-৫মণ সরিষা আসবে। গত বছর প্রতি মণ সরিষা বিক্রি করেছেন ২ হাজার টাকার উপরে। আবহাওয়া ও বাজারদর ভালো থাকলে তিনি সরিষা বিক্রি করে লাভবান হবেন।

একই এলাকার আরেক চাষি আশিষ সরকার জানান, চার বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। প্রতি বিঘা জমিতে ২হাজার টাকা করে ব্যয় হয়েছে। সরিষার ফুলে মাঠ ভরে গেছে। ফলন ভালো হলে বিঘাপ্রতি ৪-৫ মণ সরিষা পাওয়া যাবে।

বাসাইল সদর ইউনিয়নের রাশড়া গ্রামের চাষি এরশাদ মিয়া জানান,এবছর আমি ৫ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি গত বছরের চেয়ে এবছর সরিষার বাম্পার ফলন হবে। মাঠের দিকে তাঁকালে মনের মধ্যে অন্যরকম তৃপ্তি আসে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে আমরা চাষিরা সরিষা চাষে লাভবান হবো।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজনীন আক্তার জানান, সরিষা আবাদে যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল তা অর্জন করেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আবাদ করতে সক্ষম হয়েছি কৃষকদের মাধ্যমে। সরিষা একটি স্বল্প কালীন সময়ের ফসল। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এর পিছনে ভূমিকা রয়েছে পূর্ণবার্সন ও প্রনোদনা কার্যক্রমের আওতায় অনেক কৃষককে বাসাইলে পূর্ণবার্সন ও প্রনোদনা বাবদ প্রায় ১ হাজার ৮শ কৃষককে ১ হাজার ৮শ বিঘায় সরিষার বীজ ও সারের সহায়তা দিয়েছি। এজন্যই সরিষা আবাদে যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল তা অর্জন করেও বেশি আবাদ করতে সক্ষম হয়েছি।

তিনি আরোও জানান, আমরা চাষিদের সরিষা আবাদে বিভিন্ন পরামর্শ এবং উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজ ও সার দিয়ে থাকি। আবহাওয়া অনুক‚লে থাকলে এবছর সরিষার বাম্পার ফলন হবে। উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষা আবাদে চাষিদের আগ্রহ করছি। চাষিরা যাতে করে কম খরচে বেশি লাভবান হয় সে ব্যাপারে পরামর্শ দিচ্ছি। সরিষার জমি থেকে মৌবাক্স স্থাপন করা হয়েছে।এবছর আশা করা যাচ্ছে দুই হাজার মৌবাক্স স্থাপন করা হবে। গত বছর দেড় হাজার মৌবাক্স স্থাপন করা হয়েছিল।

Facebook Comments
advertisement

Posted ৩:৩২ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২১

দৈনিক প্রথম দৃষ্টি |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
প্রকাশক
মাসুদ করিম সিদ্দিকী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মিজানুর রহমান সিদ্দিকী রঞ্জু
সম্পাদক
এস কে দোয়েল
প্রধান প্রতিবেদক
আব্দুল্লাহ আল মাহাদী
অফিস ব্যবস্থাপনা
নিসা আলী
সম্পাদকীয় কার্যালয়
৫/সি, আফতাবনগর মেইন রোড, রামপুরা, ঢাকা।
আঞ্চলিক প্রধান কার্যালয়
চৌরাস্তা বাজার, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়
ফোন
+৮৮০১৭৫০-১৪০৯১৯ (সম্পাদক)
+৮৮০১৭১৮-৭৭২৭৪৯ (বার্তা-সম্পাদক)
Email
prothomdristy@gmail.com