শনিবার ২৩শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

বিশ্বের সর্ববৃহৎ প্রফেশনাল প্রতিষ্ঠানের সদস্য পদ লাভ করলেন বাংলাদেশী মাসুদ আলম

বিশেষ প্রতিবেদক   |   রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২০

বিশ্বের সর্ববৃহৎ প্রফেশনাল প্রতিষ্ঠানের সদস্য পদ লাভ করলেন বাংলাদেশী মাসুদ আলম

ইংল্যান্ড চার্টার্ড ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট অ্যাকান্ট্যান্টস (সিমা) কোর্স সমাপ্ত করে প্রতিষ্ঠানটির সদস্য লাভ করেছেন বাংলাদেশী মাসুদ আলম। চলতি বছরের ৩০ জুলাই বিশ্বের সর্ববৃহৎ প্রফেশনাল প্রতিষ্ঠানটির সদস্য লাভ করেন তিনি। ২০১৭ সালের জানুয়ারী মাসে ইংল্যান্ডের চার্টার্ড ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট অ্যাকান্ট্যান্টস এবং মার্কিন প্রতিষ্ঠান সার্টিফাইড পাবলিক একাউন্টেন্ট (সিপিএ) সংযুক্ত হয়ে যৌথ ভাবে (এআইসিপিএ) এসোসিয়েশন অফ ইন্টারন্যাশনাল সার্টিফাইড প্রফেশনাল অ্যাকান্ট্যান্টস নামে আত্মপ্রকাশ করে।

মাসুদ আলম বিশ্বের সর্ববৃহৎ প্রফেশনাল প্রতিষ্ঠানের সদস্য পদ লাভ করার মাধ্যমে তার নামের শেষে চার্টার্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকান্ট্যান্টস (এসিএমএ) এবং চার্টার্ড গ্লোবাল ম্যানেজমেন্ট একাউন্টেন্ট (সিজিএমএ) লেখার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। তিনি বাংলাদেশের সর্বোত্তরের সীমান্তবর্তী পঞ্চগড় জেলা তেঁতুলিয়ার সদর ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসাইনের জ্যৈষ্ঠ পুত্র। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের প্রোফাইলে সম্প্রতি পরিবর্তন দেখে এ প্রতিবেদক তার এ সাফল্যের রহস্য জানতে চাইলে মাসুদ আলম তুলে ধরেন বিশ্বের সর্ববৃহৎ প্রফেশনাল প্রতিষ্ঠানের সদস্য পদ লাভের ইতিবৃত্ত।

মাসুদ আলম তেঁতুলিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। ১৯৮৯ সালে এস.এস.সি পাস করে টাংগাইলে চলে যান। সেখানে কালিহাতি কলেজ টাঙ্গাইল হতে এইচএসসি ও ভালো ফলাফলসহ বি,কম পাশ করেন। টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে এক আত্মীয়ের বাসায় থেকেই কালিহাতী কলেজে লেখাপড়া করতেন তিনি, এইচএসসি পড়া অবস্থায় কলেজের এক বড় ভাই কামরুল চার্টার্ড অ্যাকান্ট্যান্টস এ চান্স পান, তার দেখাদেখি নিজেও ভবিষ্যতে চার্টার্ড একাউন্টেন্ট হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। বি.কম পাশ করার পর চলে যান ঢাকায়। ভর্তি হন চার্টার্ড এককোনটেন্স কোর্সে । পরিবার তেমন স্বচ্ছল না হওয়ায় টিউশিনি করেই ঢাকায় জীবন নির্বাহ করতেন তিনি। চার্টার্ড একাউন্টেন্স কোর্স সম্পন্নের পাশাপাশি জগন্নাথ ইউনিভার্সিটি হতে ম্যানেজমেন্টএ স্নাতকোত্তর অর্জন করে যোগ দেন দেশ জেনারেল ইন্সুরেন্স কোম্পানিতে একাউন্টস ডিপার্টমেন্টে।

webnewsdesign.com

পরে ফিনান্স কন্ট্রোলার হিসেবে যোগদান করেন ট্রেডওয়ার্থ গ্রুপে। সেখানে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন দীর্ঘদিন। ২০০৬ সালে ‘হাইলিইস্কিলড মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম-এ ইংল্যান্ড যাওয়ার জন্য আবেদন করেন। তার কর্মদক্ষতা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই বাছাই করার পর তার আবেদন যুক্তরাজ্য হোম অফিস কর্তৃক অনুমোদিত হয়। ২০০৭ সালের জানুয়ারি মাসে স্থায়ী ভাবে বসবাসের উদ্দেশ্য স্বপরিবারে চলে যান ইংলান্ডে।

লন্ডনে অপরিচিত জায়গা, ভিন্ন ভাষা, অপরিচিত মানুষজন সব মিলিয়ে প্রথমে বেশ বিপাকে পড়লেও তা তিনি সামলে নেন ভালোভাবেই। সহধর্মিনী হামিদা আক্তারকে সাথে নিয়ে সামনে পথ চলার নুতুন করে স্বপ্ন দেখেন। কাজ শুরু করেন এক একাউন্টিং ফার্মে। সহধর্মিনীও কাজ শুরু করে দিয়ে সাহস জোগাতে থাকেন তাকে । বাংলাদেশী শিক্ষাগত যোগ্যতা বহির্বিশ্বে তেমন পরিচিত না হওয়ায় তিনি মনে মনে বিদেশী লেখাপড়া /ডিগ্রির অর্জনের স্বপ্ন দেখেন এবং ভর্তি হন চার্টার্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস কোর্সে। চাকরির পাশাপাশি চালিয়ে যান লেখাপড়া। চার্টার্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকান্ট্যান্টস কোর্সটি সফলতার সাথেই শেষ করে ফেলেন তিনি ।

লন্ডনে রয়েছে মাসুদ আলমের অংশীদারিত্বে একটি একাউন্টিং ফার্ম। এছাড়াও তিনি একটি প্রতিষ্ঠানের ফিনান্স ম্যানেজার হিসাবে দায়িত্বপালন করছেন । ব্যক্তি জীবনে তিনি তিন কন্যার পিতা, স্ত্রী-কন্যাসহ লন্ডনেই আছেন তিনি। স্বধর্মিনী হামিদা আক্তার বাংলাদেশে প্রাণিবিদ্যায় প্রথম শ্রেণিতে স্নাতকোত্তর ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য লন্ডনে বিভিন্ন কোর্স করেছেন।

মাসুদ আলমের এক ভাই আলী আজম রাসেল থাকেন স্বপ্ন রাজ্য আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ায়। তিনি ইংল্যান্ড ও আমেরিকায় উনিভার্র্সিটিতে লেখাপড়া শেষ করে একটি গ্রুপ কোম্পানিতে সিএফও এর দায়িত্ব পালন করছেন। জানা গেল, সপরিবারে অত্যন্ত ভালো আছেন তিনি। ছোট ভাই মামুন ও বোন রয়েছেন ঢাকায়। তারাও তাদের নিজ নিজ ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। ছোট ভাই মামুন উর রশিদ মামুন। সে বাংলাদেশে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় হতে নৃবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১ম শ্রেণীতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা কেয়ার বাংলাদেশ- ঢাকায় প্রযুক্তি সমন্বয়কারী-পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগে কাজ করছেন।

মাসুদ আলম বলেন, আমি ও আমার ভাই-বোনদের এ সফলতার মাধ্যমে বাবা-মায়ের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়েছি । তিনি জানান, ছোট বেলা হতেই স্বপ্ন দেখতেন বিদেশে যাবার। তার এ অদম্য ইচ্ছা এবং কর্মতৎপরতাই পৌঁছে দিয়েছে তার কাংখিত লক্ষ্যে। এ সফলতার পুরোটা জুড়েই রয়েছে বাবা মায়ের আশীর্বাদ, স্ত্রীর অনুপ্রেরণা ও ভাই বোনদের উৎসাহ। তিনি বলেন, আমার বাবা-মা বিত্তশালী না হলেও সর্বাগ্রই দিয়েছেন আমাদের পিছনে। মানুষের মতো মানুষ বানানোর জন্য যা করার দরকার তাই করেছেন। আজ আমরা সবাই আল্লাহর মেহেরবানীতে দেশে ও বিদেশে সুপ্রতিষ্ঠিত।

শুধুমাত্র সরকারি চাকুরী করতে হবে এমনটি নয়, অন্য ভাবেও ভালো থাকা যায়, উপার্জনের জন্য লেখা পড়া নয়, জ্ঞানী হওয়াটাই জরুরি এবং ইচ্ছা থাকলে উপায় হয় সেটিই প্রমান করেছেন তিনি। তার এবং তার পরিবারের এ অর্জন এলাকার শিক্ষানুরাগী শিক্ষার্থীদের উদ্দীপনা, অনুপ্রেরণা এবং সাহস যোগাতে পারে বলে তিনি মনে করেন। আর তেঁতুলিয়া উপজেলায় হয়তোবা তিনিই প্রথম ব্রিটিশ চার্টার্ড একাউন্টেন্ট।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১:৩৯ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২০

দৈনিক প্রথম দৃষ্টি |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
প্রকাশক
মাসুদ করিম সিদ্দিকী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মিজানুর রহমান সিদ্দিকী রঞ্জু
সম্পাদক
এস কে দোয়েল
অফিস ব্যবস্থাপনা
নিসা আলী
সম্পাদকীয় কার্যালয়
৫/সি, আফতাবনগর মেইন রোড, রামপুরা, ঢাকা।
আঞ্চলিক প্রধান কার্যালয়
চৌরাস্তা বাজার, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়
ফোন
+৮৮০১৭৫০-১৪০৯১৯ (সম্পাদক)
+৮৮০১৭১৮-৭৭২৭৪৯ (বার্তা-সম্পাদক)
Email
prothomdristy@gmail.com