মঙ্গলবার ৩০শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

বিষমুক্ত আমের জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরো কিছুদিন

  |   বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২০

বিষমুক্ত আমের জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরো কিছুদিন

আল মাহাদী
রমজানের শুরু হতেই বাজারে পাকা আমের ছড়াছড়ি শুরু হয়েছে, তূলনামূলক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এসব আম! আর ক্রেতারাও বছরের প্রথম আম খাওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করতে বেশি দামে তা কিনে নিজের বা আত্মীয়ের বাড়ি নিয়ে যাওয়াটাকেও বেশ গৌরবের কাজ বলে মনে করছেন অনেক ক্ষেত্রে। অথচ নির্দিষ্ট সময়ের আগে বাজারে আসা কোন ফলই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয় বলে মনে করেন স্বাস্থ্যবিদগণ।

এসব অপরিপক্ক ফল-মূলে ক্যামিক্যাল মিশিয়ে বাজারজাত করা হয় গ্রাহকের চাহিদা মেটাতে। গ্রাহকরাই যখন নিজেদের স্বাস্থ্য সচেতন নন, তখন প্রতিযোগিতার বাজারে বিক্রতারাও অসাধু উপায় অবলম্বন করতে বাধ্য হন। এমনটাই জানালেন চাপাই নবাবগঞ্জের পুরনো আম বাগানের মালিক আবুল কালাম আজাদ। তিনি এই সংবাদ মাধ্যমকে জানান, সাধারণত দেখা যায় ক্রেতা সাধারণ নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা না করে বাজারে আমের একটা চাহিদা তৈরি করেন, ফলে একদল অসাধু ব্যবসায়ীও সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং তারা নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করে যে কে কার আগে বাজার দখল করতে পারবে। এ সময় বাজারে চাহিদার সাথে সাথে অতিরিক্ত দামও পাওয়া যায়।

আবুল কালাম জানান, আম পাকানোর জন্য যেমন ওষুধ রয়েছে তেমন পাকা আমকে শক্ত বা তাজা রাখার জন্যও ওষুধ রয়েছে, এ দুটোই স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরুপ। কিন্তু কেন এ ওষুধ ব্যবহার করতে হয় এমন প্রশ্নের জবাবে রাজশাহী হতে শহিদুজ্জামান সাগর নামে আরেক বাগান মালিক সংবাদ মাধ্যমকে বলেন যে, প্রথমত আম পাকানোর জন্য যে ওষুধটা রয়েছে তা অনেক অসাধু ব্যবসায়ী বাজার ধরার জন্য ব্যবহার করে। যেমন গত রমজানের মধ্যেই রাজশাহী জেলা প্রশাসক কর্তৃক একটি বিজ্ঞাপ্তিতে বলে দেয়া হয়েছে যে কত তারিখের দিকে কোন্ জাতের আম পরিপক্ব হবে এবং বাজারজাত সম্ভব হবে।

webnewsdesign.com

তাতে মে মাসের ২০ তারিখেই প্রথম দিকের আম পরিপক্ক হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। কিন্তু প্রাকৃতিক ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে সেই সময়ে এবার খুব একটা আম পাকেনি, কোন কোন গাছে যদি অল্প কিছু আম পেকেও থাকে তবে তা দিয়ে বাজার ধরা সম্ভব নয়। অথচ অনেক ব্যবসায়ী বাজারের চাহিদা মেটাতে এসময় ওষুধ দিয়ে হলেও আম পাকিয়ে বাজারজাত করা শুরু করেছে। তিনি মনে করেন, এ ক্ষেত্রে মূলত ক্রেতাদেরই আগে সচেতন হওয়া বেশি জরুরি, তাদের জানা দরকার যে কখন আম পরিপক্ব হয় এবং কখন আম পরিপক্ব হওয়ার প্রকৃত সময় নয়। তা না হলে অসাধু ব্যবসায়ীদেরকে কোনভাবেই ঠেকিয়ে রাখা যাবেনা।

খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায় যে, সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি আমবাগান গুলোতেও ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। মূলত আগামী মাসের শুরুতেই যেসব আম পরিপক্ক হয়ে বাজারে আসার কথা ছিল সেসব আম অধিকাংশই ঝড়েই পড়ে গেছে। ফলে ঝড়ে পড়া আমগুলোও এখন অনেক ব্যবসায়ী ওষুধ মিশিয়ে বাজারজাত শুরু করেছে। এতে ক্রেতা সাধারণ প্রতিনিয়ত টাকা দিয়ে বিষ কিনে খাচ্ছে।

জানা যায়, রাজশাহী এবং চাপাই নবাবগঞ্জে শুরুতে গোপালভোগ এর পরপর হিমসাগর আম পাকে। তারপর নির্দিষ্ট কিছুদিন পরপর বাকি জাতের আমগুলোও পাকতে শুরু করে। কোন জাতের আম আবার এক সাথে সব পেকে যায়না, বরং কয়েক স্তরে পাকতে থাকে এবং প্রায় ২-৩ মাস ধরে কম বেশি পাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে প্রথম স্তরের অনেক আম ঝড়ে পড়ে গেলেও একই জাতের দ্বিতীয় স্তরের আম খুব শিঘ্রী পাকতে শুরু করবে। কয়েকটি আম বাগানে কথা বলে জানা যায় যে, জুন মাসের ৬-৮ তারিখের দিকে গোপালভোগ আম পাকা শুরু হবে, এরপর ১০-১২ তারিখের মধ্যে হিমসাগর পাকা শুরু হবে। এগুলো যখন বাজারে চলতে থাকবে তার মধ্যেই ল্যাংড়া, আম্রপালি, ফজলি আমও বাজারে চলে আসবে। আর একদম শেষের দিকে বাজারে পাওয়া যাবে রংপুর-দিনাজপুরের বিখ্যাত সুস্বাদু হাড়ি ভাঙা আম।

বিষমুক্ত আম পরিবেশনের তরুণ উদ্যোক্তা শফিকুল ইসলাম রুবেল জানান, কয়েক বছর ধরে আমরা আমাদের পরিচিত আত্মীয় স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের মধ্যে বিষমুক্ত আম খাওয়ার একটা অভ্যাস গড়ে তুলেছি।ফোনে ফোনে অর্ডার নিয়ে নিজস্ব বা পরিচিত বিশ্বস্থ বাগান হতে আম সংগ্রহ করে সরাসরি হোম ডেলিভারি দিয়ে থাকি। কিন্তু এ বছর এই আম্ফান ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সময় মত আম সরবারাহ করতে না পারায় অনেকেই অপেক্ষা না করে বাজার থেকে ক্যামিক্যালযুক্ত আম সংগ্রহ শুরু করে দিয়েছে। রুবেল বলেন, মানুষ বাজার থেকেই আম কিনে খাবে এটাই স্বাভাবিক, কিন্তু ক্রেতারা যদি সময়ের আগে বাজারে চাহিদা সৃষ্টি করে তাহলে অসাধু ব্যবসায়ীরা তো সেই সুযোগ নেবেই

এরপর তিনি ফরমালিনের বিষয় বলেন যে, আমকে টাটকা বা তাজা রাখার জন্য ফরমালিন না মিশিয়েও উপায় থাকেনা। কারণ আম যদি গাছ থেকে পাড়া হয়ে যায় এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিক্রি না হয় তাহলে আম পঁচা রোধ করতে কী আর করার থাকতে পারে? অনেক সময় দেখা যায় যে বাগান থেকে শহরে পৌঁছতেও পথে যানজটের কারণে দেরি হওয়ায় অনেক আম পঁচে গলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, এরপর খুচরা বাজারে পৌঁছাতে তো আরো সময়ের ব্যাপার, এই যে কতগুলো ধাপ রয়েছে, সব মিলে ফরমালিন দিয়ে হলেও আম তাজা রাখার একটা চেষ্টা করা হয়।

আবার অনেক সময় ক্রেতারাও আমের বাহ্যিক চেহারাকে গুরুত্ব দেয়, ফরমালিন দিলে আমের চেহারাও বেশ ফ্রেশ দেখায়। এজন্য বাগান থেকে আম যত দ্রুত ক্রেতার হাতে পৌঁছানো সম্ভব হবে ততই বিষ বা ফরমালিনের অপ্রয়োজনীয়তা দেখা দেবে, কোন দরকারই হবেনা ফরমালিন মেশানোর। তাই সেটা কুরিয়ার পদ্ধতি হোক কিংবা সরকারি ব্যবস্থাপনায় হোক, এই পচনশীল ফল-মূল ও খাদ্য ইত্যাদি পরিবহনকে আরো সহজ করে দ্রুত খুচরা বাজারে পৌঁছে দেয়া হোক। যেকোন উপায়ে যদি মানুষকে এই বিষ খাওয়া থেকে বাঁচানো না যায় তবে আমাদের আগামী প্রজন্ম বিকলাঙ্গ হওয়াসহ মারাত্মক হুমকির সম্মূখীন হতে পারে।

Facebook Comments Box

বিষয় :

advertisement

Posted ১:৪০ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২০

দৈনিক প্রথম দৃষ্টি |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
প্রকাশক
মাসুদ করিম সিদ্দিকী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মিজানুর রহমান সিদ্দিকী রঞ্জু
সম্পাদক
এস কে দোয়েল
অফিস ব্যবস্থাপনা
নিসা আলী
সম্পাদকীয় কার্যালয়
৫/সি, আফতাবনগর মেইন রোড, রামপুরা, ঢাকা।
আঞ্চলিক প্রধান কার্যালয়
চৌরাস্তা বাজার, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়
ফোন
+৮৮০১৭৫০-১৪০৯১৯ (সম্পাদক)
+৮৮০১৭১৮-৭৭২৭৪৯ (বার্তা-সম্পাদক)
Email
prothomdristy@gmail.com