বৃহস্পতিবার ২রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

মিথ্যা ভিত্তিহীন সংবাদের প্রতিবাদে সোহেল রানার পাল্টা সংবাদ সম্মেলন

তোফাজ্জল হোসেন, বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) :   |   বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২০

মিথ্যা ভিত্তিহীন সংবাদের প্রতিবাদে সোহেল রানার পাল্টা সংবাদ সম্মেলন

দিনাজপুরের বীরগঞ্জের খলসী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.ইসমাইল হোসেন সহ অন্যান্যরা নিজের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় মিথ্যা ভিত্তিহীন ও বানোয়াট সংবাদ পরিবেশন করেছে অভিযোগে দিনাজপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে দিনাজপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বীরগঞ্জের মো.সোহেল রানা (চমক)‘র আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সোহেল রানা বলেন, গত ১ অক্টোবর ২০২০ তারিখ দিনাজপুর বীরগঞ্জ খলসী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রতারক মো.ইসমাইল হোসেন এবং তাহার ভাই সহকারী শিক্ষক আব্দুল কাদের ও তাহার খাস চামচা খলসী উচ্চ বিদ্যালয়ের মৌলভী শিক্ষক মাওলানা মো. আব্দুর রউফ মুন্সী এবং অত্র এলাকার অনেকের নিকট হতে লক্ষ লক্ষ টাকা ধার/কর্য নিয়ে টাকা আত্নসাতকারী মাতা-পুত্র মাজেদা খাতুন ও আতিকুর রহমান, অটো চালক খায়রুল ইসলাম, ফারুক হোসেন, রসুল আলীসহ শাহজাহান আলীগণ মিথ্যা তথ্য দিয়া আমার বিরদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন। যা অনলাইন, ফেইসবুকসহ পত্রিকায় প্রকাশিত “দিনাজপুর বীরগঞ্জে সুদারুদের অত্যাচারে শিক্ষক ও প্রবাসী পরিবার হুমকির মুখে” শিরোনামে একটি সংবাদ আমার দৃষ্টি গোচর হয়েছে। সংবাদে যা প্রচার করা হয়েছে তাহা আদৌ সত্য নয়, ভিত্তিহীন,বানোয়াট এবং আমার সম্মানহানিসহ পাওনা টাকা আত্নসাত করার উদ্দেশ্যেই সংবাদ পরিবেশন করেছেন। আমি উক্ত সংবাদের উপযুক্ত তথ্য প্রমান চাই নতুবা তাদের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে ব্যবস্থা নিবো।

সংবাদ সম্মেলনে সোহেল রানা আরো বলেন, গত তিন বছর পূর্বে খলসী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.ইসমাইল হোসেন আমার স্ত্রী মোছা. জিয়াসমিনকে খলসী উচ্চ বিদ্যালয়ে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকুরী দেয়ার জন্য উন্নয়ন ফান্ডের কথা বলে প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেন ৬ লাখ ৩০ হাজার নেয়। অতঃপর চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সময় ক্ষেপন করতে থাকলে টাকা ফেরত চাইলে তিনি টাকা ফেরত প্রদানে টালবাহানা করতে থাকেন। পরে গত ২৮ জুলাই ২০১৯ তারিখে নিজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এক সালিশি বৈঠকে তিনি আমাকে দুই লক্ষ টাকা ফেরত দেন এবং বাকী চার লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকা ১০ আগস্ট ২০১৯ তারিখে মধ্যে ফেরত দিবেন মর্মে হাজির মজলিশে অত্র বিদ্যালয়ের সভাপতি এম এ আব্দুল খালেক-এর স্বহস্তে লিখিত অঙ্গিকার নামায় উভয়ের সাক্ষর নেন।

webnewsdesign.com

প্রতিশ্রুতি অনুয়ায়ী আমি ১০ আগস্ট ২০১৯ তারিখে বাকী চার লক্ষ ত্রিশ টাকা তার নিকট চাইলে তিনি আমার স্ত্রী মোছা. জিয়াসমিনকে উক্ত পদে চাকরি দিবেন বলে পূনঃরায় আশ্বাস প্রদান করেন এবং চাকরি নিয়োগ বাবদ বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ফান্ডের দশ লক্ষ টাকা চান। আমি তাকে সরল মনে বিশ্বাস করে গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখে আরোও পাঁচ লক্ষ সত্তুর হাজার টাকা প্রদান করি। অতঃপর চাকরি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনেক সময় ক্ষেপন করতে থাকলে আমি তার নিকট আমার পাওনাকৃত দশ লক্ষ টাকা ফেরত চাইলে তিনি ০১ মার্চ ২০২০ তারিখ উল্লেখ করে তার স্বাক্ষরিত বিদ্যালয় নামীয় সোনালী ব্যাংক-বীরগঞ্জ শাখায় চেকের পাতায় আমার স্ত্রী মোছা. জিয়াসমিন-এর নাম লিখে তা আমাকে প্রদান করেন।

আমি উক্ত চেক খানা সোনালী ব্যাংক লিমিটেড-বীরগঞ্জ শাখা এ জমা করলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলেন, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠানের নামীয় চেক প্রধান শিক্ষক এবং সভাপতির যৌথ স্বাক্ষর ব্যতিত পাশ হয় না। আমি তাকে যৌথ স্বাক্ষরের বিষয়টি জানালে তিনি ৮ মার্চ ২০২০তারিখে উল্লেখে তার স্বাক্ষরিত সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, বীরগঞ্জ শাখায় নিজ নামীয় সঞ্চয়ী হিসাবে দশ লক্ষ টাকার একখানা চেক আমাকে প্রদান করেন।

আমি উক্ত চেক খানা পূবালী ব্যাংক লিমিটেড, বীরগঞ্জ শাখায় আমার নিজ নামীয় হিসাব নম্বরে উক্ত চেকটি নগদায়নের জন্য পূবালী ব্যাংক- বীরগঞ্জ শাখা, দিনাজপুর এ জমা দিলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ উক্ত চেক খানা গত ১৬ জুন ২০২০ তারিখে উল্লেখে চেকটি প্রদান করেন। আমি গত ২৪ জুন ২০২০ তারিখ টাকা পরিশোধের জন্য প্রধান শিক্ষক মো. ইসমাইল হোসেনকে আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠাই। তিনি আমার প্রেরিত লিগ্যাল নোটিশ গ্রহন করে কোন সন্তোষজনক জবাব প্রদান করেন নাই। তৎপর আমি গত

৯ আগস্ট ২০২০ তারিখ বাদী হয়ে নিজপাড়া ইউনিয়নের জগদিশপুর গ্রামের ইউনুছ আলীর ছেলে ও প্রধান শিক্ষক মো. ইসমাইল হোসেনকে কে আসামী করে বিজ্ঞ জেলা দিনাজপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালত-২ (বীরগঞ্জ) এ নিগোশ্যাবল ইন্সট্রুমেন্ট এ্যাক্ট (সংশোধিত ২০০৬) এর ১৩৮ ধারায় দশ লক্ষ টাকার মামলা দায়ের করি।

বিজ্ঞ আদালত উক্ত মামলাটি আমলে নিয়ে আসামীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারির আদেশ দেন। আমি এবং তিনি কোন প্রকার সুদের ব্যবসা করি না। প্রধান শিক্ষক মো. ইসমাইল হোসেন-এর সম্পর্কীয় আত্নীয় মো.আতিউর রহমান কিশোর লাইব্রেরির মালিক পুস্তক ব্যবসায়ী মো.ইসমাইল হোসেন এর নিকট তাহার নিজ নামীয় দুইটি চেক ও অঙ্গিকার নামা প্রদান করে দুই কিস্তিতে চার লক্ষ টাকা ধার/কর্য নেন।

তিনিও প্রধান শিক্ষক মো. ইসমাইল হোসেন এর আত্নীয় মো. আতিউর রহমান কর্তৃক প্রতারনার স্বীকার হয়ে চকবানারশী গ্রামের দাউস আলীর ছেলে মো. আতিউর রহমানকে আইনজীবির মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। মো.আতিউর রহমান এর মাতা মোছা. মাজেদা খাতুন ও পিকপাড়ার আঃ রশীদের নিকট হতে ছয় লক্ষ টাকা ধার/কর্য নেন। তিনিও আদালতে মামলা করিয়েছেন যাহা বিচারাধীন রয়েছে।

টাকা উত্তোলনের জন্য প্রশাসনের সহযোগীতা এবং প্রতারক শিক্ষকের কঠোর শাস্তি দাবী করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রতিবেশী মো: আবু হানিফ প্রমুখ।

উল্লেখ্য ইতিপূর্বে প্রধান শিক্ষক মো. ইসমাইল হোসেনের নামে ছিনতাইসহ টাকা আত্মসাতের একাধিক মামলা হয়েছে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২০

দৈনিক প্রথম দৃষ্টি |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

কবিতা- মৃত্যু
কবিতা- মৃত্যু

(528 বার পঠিত)

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
প্রকাশক
মাসুদ করিম সিদ্দিকী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মিজানুর রহমান সিদ্দিকী রঞ্জু
সম্পাদক
এস কে দোয়েল
অফিস ব্যবস্থাপনা
নিসা আলী
সম্পাদকীয় কার্যালয়
৫/সি, আফতাবনগর মেইন রোড, রামপুরা, ঢাকা।
আঞ্চলিক প্রধান কার্যালয়
চৌরাস্তা বাজার, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়
ফোন
+৮৮০১৭৫০-১৪০৯১৯ (সম্পাদক)
+৮৮০১৭১৮-৭৭২৭৪৯ (বার্তা-সম্পাদক)
Email
prothomdristy@gmail.com