বৃহস্পতিবার ২৬শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

রাজারহাটে কার্তিকেও তিস্তার রুদ্ররুপ,নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও ফসলী জমি

মামুন চৌধুরী, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) :   |   শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০

রাজারহাটে কার্তিকেও তিস্তার রুদ্ররুপ,নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও ফসলী জমি

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে তিস্তা নদীতে ব্যাপক ভাঁঙ্গন দেখা দিয়েছে। রাক্ষুসি তিস্তার করাল গ্রাসে উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে শতশত একর ফসলী জমি ও বসতভিটা। হুমকীর সম্মুখীন হয়ে পরেছে,বাজার,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,মসজিদ,মন্দির সহ বিভিন্ন স্থাপনা। আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছে তীরবর্তী মানুষরা। এ অবস্থায় ভূক্তভোগীরা ভাঁঙ্গন প্রতিরোধে স্থায়ী সমাধানের দাবী জানিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রামহরি,পাড়ামৌলা,কালির মেলা,চতুরা,গাবুর হেলান,রতি,তৈয়বখাঁ,বিদানন্দ সহ ৮টি গ্রামের বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। চলতি মৌসুমে শতাধিক পরিবারের বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

প্রতিদিন বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি,ভিটেমাটি,গাছপালা ও ফসলী জমি। অব্যাহত ভাঙ্গনের কারনে হুমকীর সম্মুখীন হয়ে পরেছে রামহরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,তৈয়বখাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,জামে মসজিদ, মন্দির,কালির মেলা থেকে বিজলি বাজার পাকা রাস্তা সহ গ্রামের সহ¯্রাধিক বাড়িঘর।

webnewsdesign.com

ভাঁঙ্গন আতঙ্কে অনেকে গ্রাম ছেড়ে চলে যাচ্ছেন অন্যান্য স্থানে। চলতি মৌসুমে শুধু রামহরি গ্রামেই নদী ভাঙ্গনে ভিটেমাটি হারিয়েছে ২০টি পরিবার। ওই গ্রামের ঐতিহ্যবাহি পরিবার ওহাব ধনীর।

সর্বশেষ এবারে তাদের আধাপাকা বাড়িটি নদী গর্ভে চলে যাওয়ার পর সর্বশান্ত হয়ে তারা স্ব-পরিবারে কাজের সন্ধানে পাড়ি জমিয়েছেন ঢাকা শহরে। এখনও নদী গর্ভে বিলীন হওয়া বাড়িটির ভগ্নাংশ পরে রয়েছে। প্রতি বছর বন্যার পানি কমতে শুরু করলে প্রকট হয় নদী ভাঙ্গন।

রামহরি গ্রামের আব্দুল কাদের (৬৫) জানান,“আমার বয়সে তেরবার নদী ভাংছে,এখন বাড়ি করার মতন জায়গা নাই। অন্যের জায়গায় একনা ঠাই নিয়া আছি”।
একই গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন বলেন,“চ্যাংরা বয়স থাকি নদী ভাঁঙ্গা দেখি আসছং,ভাংতে ভাংতে মোর সব শ্যাষ,এল্যা টাকাও নাই,বাড়ি করার জায়গাও নাই”।
তৈয়বখাঁ গ্রামের বিমল চন্দ্র বলেন,(৫৫) বলেন,নদীর উপরা ৩টা ঘর নিয়া আছনো,তাও নদীত গেইছে। বেটা-বেটি বিয়ার লাইক হইছে,বাড়িঘর নাই বিয়া দিবার পাও না”।
ওই গ্রামের আব্দুল গণি (৬২),হক্কানি (৫৫),আব্দুল ওয়াহাব সহ স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন,আমরা ত্রাণ চাই না,সরকার যেন নদী ভাঙ্গন রক্ষায় স্থায়ী ব্যবস্থা করেন।
উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান তাইজুল ইসলাম জানান,এক যুগে নদী ভাঙ্গনে বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের মানচিত্র বদলে গেছে,এভাবে ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে এক সময় বিদ্যানন্দ ইউনিয়নকে হয়তো খুঁজে পাওয় যাবে না।

কুড়িগ্রাম পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, এখন শরৎ কাল,এই মহুর্তে নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে জরুরী কিছু করার নেই।
রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরে তাসনিম জানান,পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১১:২০ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০

দৈনিক প্রথম দৃষ্টি |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

কবিতা- মৃত্যু
কবিতা- মৃত্যু

(567 বার পঠিত)

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  
প্রকাশক
মাসুদ করিম সিদ্দিকী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মিজানুর রহমান সিদ্দিকী রঞ্জু
সম্পাদক
এস কে দোয়েল
অফিস ব্যবস্থাপনা
নিসা আলী
সম্পাদকীয় কার্যালয়
৫/সি, আফতাবনগর মেইন রোড, রামপুরা, ঢাকা।
আঞ্চলিক প্রধান কার্যালয়
চৌরাস্তা বাজার, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়
ফোন
+৮৮০১৭৫০-১৪০৯১৯
Email
prothomdristy@gmail.com