শুক্রবার ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

রাজারহাটে ত্রান বিতরনে নয়-ছয় ঘরে খাবার নেই রেজিয়া বেগমের

  |   শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০

রাজারহাটে ত্রান বিতরনে নয়-ছয় ঘরে খাবার নেই রেজিয়া বেগমের

সংবাদদাতা, রাজারহাট,কুড়িগ্রাম:
কুড়িগ্রামের রাজার হাটের ঘড়িয়াল ডাঙ্গা ইউপির বরাদ্দকৃত সরকারের দেয়া ত্রান বিতরণ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও মেম্বারের নিয়ে চলছে নয় – ছয়। জনপ্রতিনিধির নয় ছয় এ বাদ পড়েছে ইউনিয়নের অধিকাংশ উপযুক্ত সুবিধাভোগীরা। এমন ঘটনার শিকার হয়েছে অনেকজন।

সরকারের দেয়া নিয়ম মানতে গিয়ে কখনও দিন ও রাত মিলে একবেলা খেয়ে বর্তমানে জীবনযাপন করেছেন করোনা ভাইরাস সংক্রমণে রোধে লকডাউনে থাকা রেজিয়া বেগমের পরিবার।করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ভয় এলা কেউ নেয় মোক কামোত রোজী রোজগার বন্ধ হওয়ায় গতকাল রাইতোত একনা বাসি ভাত নুন দিয়ে খায় য়া মুই শবেবরাতের রোজা রাখচোং আযান হবার সময় হয়েছে মুই ইফতার করিন,বাবা তোমরা থাকেন একনা।এমন হ্রদয় নিংড়ানো মায়া জড়ানো কথা বলে জননী ডুকে পড়লেন নিজ কুটিরে অবাক হয়ে রইলো প্রতিবেদক।

ঘটনাটি ৯ ই এপ্রিল বিকালে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়াল ডাঙ্গা ইউপির কিসামত গোবদা গ্রামে মৃত সওয়াব আলীর স্ত্রী রেজিয়া বেগম(৬৮) এর পরিবার। সংসার জীবনে তিনি এক ছেলে ও দুই মেয়ের জননী।স্বামী মারা গেয়েছে কয়েক বছর আগেই দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে,ছেলের বৌ ও নাতী মিলে মাত্র ২ শতক জমিতে দুটি ঘড় মিলে একটি পরিবার।

পাশাপাশি আরও কয়েকটি পরিবারের একই চিত্র ঐ এলাকার।ইতি মধ্যে কথা হয় প্রতিবেশী,রমজান আলী ও শফিকুল ইসলাম বলেন, ছেলে রেজাউল ইসলাম রংপুর শহরে ভাড়ায় রিকশা চালিয়ে কোনরকমে সংসারের খরচ চালাতেন কিন্তু ভাইরাসে সংক্রমণ প্রতিরোধে রিকশা চালাও বন্ধ হয়ে গেছে বর্তমানে তারা অনেক কষ্টে জীবন যাপন করতেছে।করোনার ভাইরাস মহামারীতে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ হচ্ছে এখন মানবতার।করোনার যাতা কলে লন্ড-ভন্ড হচ্ছে মানুষ।ছেলে রেজাউল জানান,কামাই রোজগার বন্ধ হওয়ায় ঘড়ে খাবার চাল নেই,নেই কোন তাই একজনের কাছে তিরিশ কেজি গতকাল ধার নিয়েছি বাজার করবো হাতে টাকা নাই।

ইফতার ও নামাজ শেষে রেজিয়া বেগম এর জানতে চেয়েছি সরকারি সুযোগসুবিধা পেয়েছেন কি?জবাবে বলেন,আছে বিধবা ভাতা কিন্তু তিন মাস পড়ে দেয় টাকা,এছাড়া এখন পর্যন্ত কিছু পাং নাই।কিন্তু করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারের পক্ষের ত্রাণ কিংবা সামাজিক সংগঠনের সাহায্য পায়নি পরিবারটি।এবিষয়ে জানতে চাইলে, ঐ ওয়ার্ড সদস্য ছাদেকুল ইসলাম সাদেক,বলেন গত ২৪ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ১৬ দিনে তিনবারে ৩৩৬ টি সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণ সহয়তা আসলেও একবারও পায়নি এই রকম বেশ কিছু পরিবার।আজকে পরিষদে ৩শ জনের ত্রান বিতরণ চলছে শুরু করেছে।

অপরদিকে বিকালে চাল বিতারণ শুরু করেন ইউপি চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ কর্মকার। বিতারণ পরিদর্শনকালে পিআইও সজিবুল করিম গণমাধ্যমকর্মীর উদ্দেশ্য জানান পর্যায়ক্রমে সাত ইউনিয়নে ২১শত পরিবারের মাঝে দশ কেজি চাল বিতরণ হবে।

এসময়ে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুজ্জামান। এ বিষয়ে ইউপি সদস্য ছাদেকুর রহমান সাদেক জানান, আজকের তালিকায় ১১ জনকে বাদ দিয়ে একাই সব তার মনোনীত ব্যাক্তির মাধ্যমে তালিকাভুক্ত করে বিতরণ করেন।এরকম সংকট পরিষদে থাকায় উপযুক্ত সুবিধাভোগীরা বাদ পড়েছে।শুধু আমিই নয় অধিকাংশ সদস্যদের মধ্যে তিনি এইরকম আচরণ করেন,তিনি যা ইচ্ছে তাই করেন পরিষদের সকল বরাদ্দের ক্ষেত্রে।

ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম মঞ্জু,এন্তাল হোসেন, মহুবর রহমান,শহিদুল ইসলাম,সদস্য জেন্না বেগম, জানান ,, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চেয়ারম্যান কে তালিকা প্রদান করলেও আমাদের তালিকার অধিকাংশ নাম বাদ দিয়েছেন চেয়ারম্যান।

এবিষয়ে মুঠোফোনে কথা কথা হলে ইউপি চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ কর্মকার জানান,সদস্যদের কাছে ফোন করে তালিকা চাইলে তালিকা দিবো দিচ্ছি করে দেয়না সময়মতো।রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো:যোবায়ের হোসেন বলেন,এখন পর্যন্ত সরকারের যে পরিমাণ ত্রান পেয়েছি জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে তালিকা করে বিতরণ করেছি। আমি খুব শিগগিরই ঐ পরিবারের জন্য খাবারের ব্যাবস্থা করেন।

Facebook Comments
advertisement

Posted ৬:৪২ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০

দৈনিক প্রথম দৃষ্টি |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮  
প্রকাশক
মাসুদ করিম সিদ্দিকী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মিজানুর রহমান সিদ্দিকী রঞ্জু
সম্পাদক
এস কে দোয়েল
প্রধান প্রতিবেদক
আব্দুল্লাহ আল মাহাদী
অফিস ব্যবস্থাপনা
নিসা আলী
সম্পাদকীয় কার্যালয়
৫/সি, আফতাবনগর মেইন রোড, রামপুরা, ঢাকা।
আঞ্চলিক প্রধান কার্যালয়
চৌরাস্তা বাজার, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়
ফোন
+৮৮০১৭৫০-১৪০৯১৯ (সম্পাদক)
+৮৮০১৭১৮-৭৭২৭৪৯ (বার্তা-সম্পাদক)
Email
prothomdristy@gmail.com