শনিবার ২৩শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

শিক্ষা বিপর্যয়ে তেঁতুলিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, এসএসসিতে মিলেনি জিপিএ ৫

  |   সোমবার, ০৮ জুন ২০২০

শিক্ষা বিপর্যয়ে তেঁতুলিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, এসএসসিতে মিলেনি জিপিএ ৫

তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি :
শিক্ষা ব্যবস্থায় মুখ থুবরে পড়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়। এবার এসএসসি-তে জিপিএ ফাইভ পায়নি কোন শিক্ষার্থী। ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি থেকে নানান কারণে গত কয়েক বছর ধরে মিলছে না কোন উল্লেখযোগ্য ভালো ফলাফল। এতে করে বিপর্যয়ের মুখে শিক্ষা ব্যবস্থা।
গত ৩১ মে প্রকাশিত হয় এসএসসি/সমমানের পরীক্ষার ফলাফল। পরীক্ষা কেন্দ্র কাজী শাহাবুদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ২১, আজিজনগর দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয় ৭ ও রনচন্ডী দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয় ৭ জন মিলে এই তিনটি বিদ্যালয় হতে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৫ শিক্ষার্থী। কিন্তু কেন্দ্র প্রধান এ প্রতিষ্ঠানটি থেকে জিপিএ-৫ পায়নি কোন শিক্ষার্থী। উপজেলার একমাত্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় হতে এরকম পরীক্ষা ফল দেখে উদ্বিগ্ন ও চিন্তিত হয়ে পড়েছেন অভিভাবক মহল থেকে শুরু করে সচেতন নাগরিকমহল।
গত কয়েক বছর ধরে ভালো ফলাফল না হওয়ার কারণ হিসেবে দেখা যায়, পর্যাপ্ত শিক্ষক সংকট, অদক্ষ প্রধান শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটি না থাকা আর রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে শিক্ষা ব্যবস্থা বিপর্যর্যে পড়েছে ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি।
১৯৫৯ সালে ১০ একর ৬৩শতক জমির উপর শহরের প্রাণকেন্দ্রে স্থাপিত ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তেঁতুলিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। এমপিওভুক্তি লাভ কওে ১৯৮৫ সালে। স্থাপনের শুরুতে মানবিক, বিজ্ঞান শাখায় পাঠদান চালু হয়। পরে যুক্ত হয় ভোকেশনাল ট্রেডিং শাখা। বিদ্যালয়টি স্থাপনের পর থেকে মানবিক ও বিজ্ঞান শাখায় উপজেলার অন্যান্য বিদ্যালয়ের তুলনায় ভালো ফলাফল করে আসছে। কিন্তু ২০১২ সালের ২৯ জুনে প্রধান শিক্ষক জহিরুল ইসলাম অবসরে যাওয়ার পর বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠনে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা। ম্যানেজিং কমিটি গঠনে বিশৃংখলা লেগে থাকায় প্রধান শিক্ষকসহ সহকারী শিক্ষকের বেশ কয়েকটি পদ শুন্য হয়ে পড়ে। মাত্র ৪/৫ জন খন্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে চলে পাঠদান।
এছাড়া ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ও সিনিয়র জুনিয়র শিক্ষক নির্বাচনেও জটিলতা সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে পঞ্চগড় জজ আদালতের নির্দেশে মো. রফিকুল ইসলাম (বিএসসি) ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে তেঁতুলিয়া পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষা ফ্যাসিলিটিস প্রকল্পের অধীনে প্রায় ১ কোটি ৩৭ লক্ষ্য টাকা ব্যয়ে তিন তলা একটি একাডেমিক ভবন নির্মিত হয়। বিদ্যালয়ের একটি পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা কমিটি গঠনের জটিলতা থাকায় শুন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ায় শিক্ষক সংকটে যেমন পাঠ বিঘœতা তৈরি হয়েছে। তেমনি ভারপ্রাপ্ত প্রধানের কোন নির্দেশনাও মানছেন না অনেক শিক্ষক ও কর্মচারী। যার কারণে নিয়মিত ব্যবস্থাপনা কমিটি না থাকায় অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছে পাঠ কার্যক্রম।

২০১৮ সালে নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের যে সকল উপজেলায় সরকারি হাই স্কুল ও কলেজ নেই সেগুলোতে একটি করে বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ জাতীয়করণ পদক্ষেপে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হয়। জাতীয়করণের প্রায় দুই বছর হয়ে আসলেও শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য কোন উন্নতি হতে দেখা যায়নি। শিক্ষকদের সময়মত ক্লাশ না নেয়া, প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞ প্রধান শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীরাও ফাঁকি দিয়েছে ক্লাশ। অভিযোগ রয়েছে, যেসকল কর্মরত শিক্ষক রয়েছে, তারাও বিদ্যালয়ে ক্লাশ না নিয়ে বাড়িতে প্রাইভেট/কোচিং নিয়ে ব্যস্ত। বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল বিভাগে ছাত্র ভর্তি নিয়েও দেখা গেছে অনিয়ম। পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া ছাত্রদের উৎকোচের মাধ্যমে নবম শ্রেণিতে ভর্তি, পরীক্ষায় পাশ করানোর প্রতিশ্রæতিতে উৎকোচ, প্রতিটি ব্যবহারিক পরীক্ষা খাতায় বেশী নম্বর দেয়ার নামে টাকা নেয়া, বাৎসরিক হিসাব গোপন করে যেন অর্থ বাণিজ্যের কারখানা হয়ে উঠেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলতে করোনা পরিস্থিতিতে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় মোবাইলে বারবার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

webnewsdesign.com

অন্যদিকে বিদ্যালয়টির শিক্ষা ব্যবস্থা দিনদিন অবনতির দিকে যাওয়ায় অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের টিসি নিয়ে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর খবর মিলেছে। অথচ বিগত সময়ে শিক্ষার গুণগত মান, খেলাধুলার উত্তম পরিবেশসহ নানানভাবে সমাদৃত এই স্কুলে সন্তানকে ভর্তি করাতে একটা সময় লাইন ধরে থাকতো অবিভাবকরা। গত দেড় বছরে বিদ্যালয় থেকে টি সি নিয়ে অনেক শিক্ষার্থীকে অন্যত্র চলে যেতে দেখা গেছে। গত দুই বছর আগে বিদ্যালয়টির শিক্ষা ব্যবস্থাকে আগের সেই সুনামকে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। চলে আলোচনা সভা। সে সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানিউল ফেরদৌসকে সভাপতি আসনে দায়িত্ব দিলে ফিরে আসে কিছুটা নিয়মিত পাঠদানের কার্যক্রম। শিক্ষার মান ফিরিয়ে আনতে প্রচেষ্টা চালান বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী মাহমুদুর রহমান ডাবলু। শিক্ষা ব্যবস্থার অবনতিতে উদ্বিগ্ন প্রকাশ করেছেন এ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ও বর্তমান পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য মজাহারুল হক প্রধান।

পরীক্ষায় ফলাফল দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী মাহমুদুর রহমান ডাবলু বলেন বলেন, প্রতিবেশী বিদ্যালয়গুলো যখন সবদিক থেকে অভাবনীয় ফলাফল করে তাক লাগিয়ে দিচ্ছে। যেখানে গ্রামের ভিতর আজিজনগর দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও রনচন্ডী দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয় হতে জিপিএ-৫ পেয়ে উন্নতির দিকে যাচ্ছে। সেখানে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তেঁতুলিয়া মডেল সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষা দিন দিন পিছিয়ে যাচ্ছে। এটা হতে দেয়া যায় না। এজন্য উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসনের পক্ষ হতে বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে, আশা করছি আগামী পরীক্ষায় এ ব্যর্থতা ঘুচিয়ে আশানুস্বরুপ ফলাফল অর্জিত হবে।

এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া মডেল সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি নবাগত নির্বাহী অফিসার সোহাগ সাহা বলেন, আমি যেহেতু নতুন এসেছি। তবে পরীক্ষা ফলাফল খারাপ হওয়ার খবর শুনে বিদ্যালয় পরিদর্শন ও শিক্ষকদের নিয়ে বসেছিলাম। এ জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কি কি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, লকডাউনের মধ্যেও স্কুল খোলা রাখা হবে টিচারদের জন্য। শিক্ষকদের কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তারা শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন ক্লাশ নিতে ভিডিও টিউটোরিয়াল তৈরি করবেন। এই লকডাউন সময়ে এসএসসি ও জেএসসি মিলে ১৪০ জন শিক্ষার্থীদের প্রত্যেকের বাসায় শিক্ষা উপকরণ পাঠানো হবে। এজন্য একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। এই মনিটরিং আমি করবো এবং প্রতি সপ্তাহে মূল্যায়ন পরীক্ষা নেয়া হবে, সেটা তিনি দেখবেন বলে জানান।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ২:৪৪ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ০৮ জুন ২০২০

দৈনিক প্রথম দৃষ্টি |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
প্রকাশক
মাসুদ করিম সিদ্দিকী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মিজানুর রহমান সিদ্দিকী রঞ্জু
সম্পাদক
এস কে দোয়েল
অফিস ব্যবস্থাপনা
নিসা আলী
সম্পাদকীয় কার্যালয়
৫/সি, আফতাবনগর মেইন রোড, রামপুরা, ঢাকা।
আঞ্চলিক প্রধান কার্যালয়
চৌরাস্তা বাজার, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়
ফোন
+৮৮০১৭৫০-১৪০৯১৯ (সম্পাদক)
+৮৮০১৭১৮-৭৭২৭৪৯ (বার্তা-সম্পাদক)
Email
prothomdristy@gmail.com