বৃহস্পতিবার ৪ঠা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

শুরু হলো মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা

  |   শুক্রবার, ১০ জানুয়ারি ২০২০

শুরু হলো মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা

বিশেষ প্রতিনিধি:
শুরু হলো বহুল প্রতিক্ষীত মুজিববর্ষ উদযাপনের ক্ষণগণনা।শুক্রবার বিকেলে কেন্দ্রীয়ভাবে তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে মুজিববর্ষের ক্ষণগণনার লোগো উন্মোচনের মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও পাবলিক স্থানে একইসঙ্গে ক্ষণগণনা শুরু হয়।
দেশের ৫৩ জেলা, ২টি উপজেলা, ১২টি সিটি কর্পোরেশনের ২৮টি পয়েন্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর ৮৩টি পয়েন্টে কাউন্টডাউন ঘড়ি বসানো হয়েছে। উল্লেখযোগ্য কিছু এলাকা হচ্ছে, জাতীয় সংসদ ভবন, হাতিরঝিল, মেহেরপুরের মুজিবনগর ও গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া।
বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাসহ হাজারো মানুষ অংশগ্রহণ করে।
এর আগে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে একুশবার তোপধ্বনি দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।
সশস্ত্র বাহিনীর তোপধ্বনির পর বিমান থেকে বঙ্গবন্ধুর আলোকমূর্তি প্রদর্শন করা হয়। তখন ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে বঙ্গবন্ধুকে বরণ করে নেয়া হয় স্বদেশের মাটিতে। এসময় বেজে ওঠে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান।
পরে সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দলের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার দেয়া হয় বঙ্গবন্ধুকে। এসময় বাজানো হয় জাতীয় সংগীতের সুর।
বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ অনুষ্ঠানে আগত অতিথিরা তখন দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
২০২০ সালের ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম গ্রহণের শততম বছর পূর্ণ হবে। এবছরের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত জাতির পিতার জন্মশতবর্ষ উদযাপন করবে বাংলাদেশ।
১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। দীর্ঘ ৯ মাস পাকিস্তানে কারাবাস থেকে মুক্ত হয়ে এই দিনে দেশে ফিরে আসেন তিনি। দিনটিকে উপলক্ষ করে মুজিববর্ষের ক্ষণগণনার উদ্বোধন করা হলো।

যতো আয়োজন :
প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পরপর দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও সব জনসমাগমের জায়গাগুলোতেও একই সঙ্গে ক্ষণগণনা শুরু হয়ে যায়। সারাদেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের ২৮টি পয়েন্ট, বিভাগীয় আট শহর এবং ৫৩টি জেলা সদর ও দুই উপজেলা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর মোট ৮৩টি পয়েন্টে ক্ষণগণনা (কাউন্টডাউন) ঘড়ি বসানো হয়েছ। এসব ঘড়িতে জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা চলবে। একই সঙ্গে ডিসপ্লেতে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের ওপর দেখানো হবে বিভিন্ন প্রামাণ্যচিত্র। কিউআর কোডের মাধ্যমে যে কেউ চাইলেই জন্মশতবার্ষিকীর ওয়েবসাইটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু ও জন্মশতবার্ষিকীর আয়োজনের নানা তথ্য জানতে পারবেন।

দেশ-বিদেশে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, বঙ্গবন্ধুর নামে আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তন, ‘গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড’ এবং হাতে হাত রেখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের প্রতিকৃতি গড়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড হিসেবে অন্তর্ভুক্তকরণ। এ ছাড়া কনসার্টসহ নানা আনন্দ আয়োজন ও রক্তদানসহ সেবাধর্মী কর্মসূচিও থাকবে।

আগামী ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মের শতবছর। কিন্তু প্রস্তুতির শুরুটা ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ থেকে, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের যৌথসভায়। সে সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ২০২০ এর ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ এর ১৭ মার্চ পর্যন্ত সরকার মুজিববর্ষ উদযাপন করবে। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে মুজিববর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠান ছড়িয়ে পড়বে বিদেশের মাটিতেও। এ ছাড়া গত বছরের ২৫ নভেম্বর ইউনেস্কো বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে এ কার্যক্রম উদযাপনের ঘোষণা দেয়। ওইদিন প্যারিসে ইউনেস্কো সদর দপ্তরে সংস্থাটির ৪০তম সাধারণ অধিবেশনে সর্বসম্মতভাবে ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন পায় আন্তর্জাতিক মাত্রা।

জন্মশতবার্ষিকীর মূল অনুষ্ঠানটি হবে ১৭ মার্চ, এই জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডেই। সেদিন জাতির জনকের জন্মগ্রহণের শতবর্ষ পূরণ হবে। বিশ্বনেতাদের মধ্যে উপস্থিত থাকবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি, ভারতের কংগ্রেসের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদসহ ভুটানের রাজা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের যুবরাজ আরো অনেকে।। সেদিন বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক-সংগ্রামী কর্ম ও ব্যক্তি জীবনের নিয়ে হলোগ্রাফিক উপস্থাপনা ও থিম সং পরিবেশিত হবে। থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আতশবাজি।

মুজিববর্ষে ঢাকায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে জাতীয় সংসদে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী অনুষ্ঠান, জুলি ও কুরি পদকপ্রাপ্তি দিবস উদ্যাপন, সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বড় আকারে একটি অনুষ্ঠান করা হবে। একাত্তরে বন্ধুপ্রতীম দেশ ভারতের যেসব যোদ্ধা বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছেন, তাদের মধ্য থেকে একটি প্রতিনিধিদলকে ঢাকায় আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এ ছাড়া দিল্লি, কলকাতা, মস্কো, ওয়াশিংটনসহ ১২টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন থাকছে। লন্ডনের সংসদে একটি অনুষ্ঠান, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণসহ অন্যান্য অনুষ্ঠানেরও পরিকল্পনা রয়েছে মন্ত্রণালয়ের।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত ১০২ সদস্যের জাতীয় উদযাপন কমিটি এসব কাজের সমন্বয়ে আছে। একই সঙ্গে জাতীয় অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ৬২ সদস্যের পৃথক জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটিও গঠন করা হয়েছে। সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা, আওয়ামী লীগের গত সরকারের ১০ মন্ত্রী, বর্তমান সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র, তিন বাহিনীর প্রধান, পুলিশ মহাপরিদর্শক, কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, দু’জন সাবেক গভর্নর, বিভিন্ন ধর্মের মানুষের প্রতিনিধি এবং বেশ কয়েকজন সাংবাদিক, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এই কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীকে জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে। বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্বেও রয়েছেন তিনি।

Facebook Comments
advertisement

Posted ১:২৩ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ১০ জানুয়ারি ২০২০

দৈনিক প্রথম দৃষ্টি |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
প্রকাশক
মাসুদ করিম সিদ্দিকী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মিজানুর রহমান সিদ্দিকী রঞ্জু
সম্পাদক
এস কে দোয়েল
প্রধান প্রতিবেদক
আব্দুল্লাহ আল মাহাদী
অফিস ব্যবস্থাপনা
নিসা আলী
সম্পাদকীয় কার্যালয়
৫/সি, আফতাবনগর মেইন রোড, রামপুরা, ঢাকা।
আঞ্চলিক প্রধান কার্যালয়
চৌরাস্তা বাজার, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়
ফোন
+৮৮০১৭৫০-১৪০৯১৯ (সম্পাদক)
+৮৮০১৭১৮-৭৭২৭৪৯ (বার্তা-সম্পাদক)
Email
prothomdristy@gmail.com