বৃহস্পতিবার ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

সাংবাদিকতার রকমফের

শামীমুল হক   |   রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২০

সাংবাদিকতার রকমফের

কিছু মফস্বল সাংবাদিক আছেন যারা ডিসি, এসপি, ইউএনও কিংবা ওসি’র গাড়িতে ঘুরে বেড়ান। সময় ও সুযোগ মতো তারা তদবিরে নেমে পড়েন। কেউ কেউ দিনরাত থানায় পড়ে থাকেন। করেন পুলিশের দালালি যা লজ্জাজনক, দুঃখজনক। এ সংখ্যা হাতেগোনা হলেও এর প্রভাব পড়েছে গোটা সমাজে। এতে করে সাংবাদিকতার ওপর অন্যরকম মনোভাব এসে যায় জনমনে। তবে এদের বেশিরভাগ নামধারী সাংবাদিক। পত্রিকার ঠিক নেই। আজগুবি পত্রিকার কার্ড নিয়ে এসব করেন। এখানে একটি প্রশ্ন কোন সাংবাদিক কি অসৎ হতে পারে? না, পারে না। তবে যারা সাংবাদিকতার নামে দুর্নীতি করেন তারা সাংবাদিক নন। সাংবাদিক নামের কলঙ্ক।

২/১ জন হলুদ সাংবাদিকের জন্য গোটা সাংবাদিকদের দুর্নামের বোঝা বইতে হচ্ছে। খবর আসে, অনেক সাংবাদিক আছেন যারা যে কোন খবর পাঠাতেই টাকা নেন। টাকা ছাড়া তারা সংবাদ মফস্বল ডেস্কে পাঠান না। এমনও অনেক আছেন যারা পত্রিকার কার্ড নিয়ে, পত্রিকার নাম ভাঙিয়ে নিজে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। থানা, চোরাচালানি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজরা ওই সাংবাদিককে মাসিক মাসোহারা দেয়। উদ্দেশ্য একটাই সাংবাদিক যেন তাদের কুকর্মের কথা পত্রিকায় না লেখেন। এক্ষেত্রে ওই সাংবাদিকও তাদের সহকর্মী, সহযোগী হয়ে যান।

ব্যতিক্রম চিত্রও রয়েছে সমাজে। এমন অনেক নির্যাতিত মানুষ নির্লোভ, নিরহঙ্কার, সাংবাদিককে খুঁজে বের করেন। বলেন, তার নির্যাতনের কথা। ওই সাংবাদিক পরম মমতায় নির্যাতিতদের পক্ষে রিপোর্ট করেন। এভাবেই ওই সাংবাদিক হয়ে ওঠেন সকলের কাছে শ্রদ্ধার পাত্র। ওদিকে আবার একটি প্রতারক চক্রও সাংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে এ মহান পেশাকে কলঙ্কিত করছে। কোন পত্রিকায় মফস্বলের কোন গ্রামের অপরাধ বিষয়ক রিপোর্ট ছাপা হলে ওই চক্রটি ছুটে যায় সেখানে। তারা অপরাধীকে পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টের কাটিং দেখিয়ে অর্থ দাবি করে। কোন কোন ক্ষেত্রে সফলও হয়। আবার কোথাও গিয়ে ধরা পড়ার খবরও আসে। বেশ ক’বছর ধরে গ্রামে-গঞ্জে সাংবাদিক হওয়ার শখ জাগে কিছু উঠতি যুবকের মনে-যাদের কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই।

কিংবা কেউ কোনদিন এক লাইন রিপোর্টও লেখেননি। সাংবাদিকের মর্যাদার কথা চিন্তা করেই তারা সাংবাদিক হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। বেশ ক’বছর ধরে আন্ডারগ্রাউন্ড কিছু পত্রিকায় সংবাদদাতা আবশ্যক শিরোনামে বিজ্ঞাপন দেখা যায়। এ বিজ্ঞাপন পেয়ে কেউ কেউ ছুটে আসেন ওই পত্রিকা অফিসে। এসেই পড়ে যান একটি চক্রের খপ্পরে। তারা সাংবাদিক বানানোর নামে হাতিয়ে নেন টাকা পয়সা। অর্থের বিনিমিয়ে কার্ড হাতে তুলে দেন ওই সাংবাদিককে। কার্ডধারী সাংবাদিক হয়ে তিনি ছুটে যান গ্রামে। তার দাপটও বেড়ে যায় অনেকগুণ। কিন্তু যে পত্রিকার কার্ড নিয়ে তিনি দাপট দেখাচ্ছেন সেই পত্রিকা কখনও আলোর মুখে দেখেনি। তাদের জন্যই গোটা সাংবাদিক সমাজকে দুর্নাম বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। ২/১ জনের জন্য কেন সবাইকে দুর্নামের বোঝা বইতে হবে? এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য মফস্বল সাংবাদিকদেরই এগিয়ে আসতে হবে। কিন্তু মফস্বল সাংবাদিকদের মাঝেও তো রয়েছে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব।

* সাংবাদিক ও কলামিস্ট

Facebook Comments
advertisement

Posted ৩:২৩ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২০

দৈনিক প্রথম দৃষ্টি |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮  
প্রকাশক
মাসুদ করিম সিদ্দিকী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মিজানুর রহমান সিদ্দিকী রঞ্জু
সম্পাদক
এস কে দোয়েল
প্রধান প্রতিবেদক
আব্দুল্লাহ আল মাহাদী
অফিস ব্যবস্থাপনা
নিসা আলী
সম্পাদকীয় কার্যালয়
৫/সি, আফতাবনগর মেইন রোড, রামপুরা, ঢাকা।
আঞ্চলিক প্রধান কার্যালয়
চৌরাস্তা বাজার, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়
ফোন
+৮৮০১৭৫০-১৪০৯১৯ (সম্পাদক)
+৮৮০১৭১৮-৭৭২৭৪৯ (বার্তা-সম্পাদক)
Email
prothomdristy@gmail.com