শনিবার ২৩শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

`যারা ভার্চুয়াল কোর্টের বিপক্ষে তারা মূলত প্রযুক্তি থেকে পিছিয়ে’

  |   সোমবার, ১৮ মে ২০২০

`যারা ভার্চুয়াল কোর্টের বিপক্ষে তারা মূলত প্রযুক্তি থেকে পিছিয়ে’

আব্দুল্লাহ আল মাহাদী
আইন আদালতে বর্তমান বহুল আলোচিত ও সমালোচিত প্রসঙ্গ হলো ‘ভার্চুয়াল কোর্ট’। বৈশ্বয়িক মহামারী কোভিড-১৯ গোটা পৃথিবীর মানুষের জীবন যাত্রা ও কাজ-কর্মে বড় ধরণের যে ভিন্নতা এনে দিয়েছে তারই একটি দৃষ্টান্ত হলো এই ভার্চুয়াল কোর্ট। করোণা ভাইরাস আমাদের স্বাভাবিক জীবনকে থমকে দিলেও কিছু প্রয়োজন রয়েছে যা নিয়ম দিয়ে বেধে রাখা যায় না, বরং প্রয়োজনের গুরুত্ব বুঝে নিয়মটাই বদলাতে হয় কখনো কখনো। কিন্তু সেই পরিবর্তিত নিয়ম বা পদ্ধতিটা যখন অনেকের কাছে একদমই নতুন ও কঠিন বলে মনে হয় তখন তা নিয়েও শুরু হয় আরেকটি নতুন সমস্যা। সেরকম ঘটনাই ঘটছে এই ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনার ক্ষেত্রেও। রীতিমত বেশ কয়েকদিন ধরে নতুন এই পদ্ধতিতে আদালত চলতে থাকলেও সমালোচকরা তাদের সমালোচনা অব্যাহত রেখেছেন, ঢাকার বাইরে বিভিন্ন আদালতে এই ভার্চুয়াল পদ্ধতিকে বয়কটও করেছেন অনেকে, তারা কোনভাবেই এটা মানছেন না। সোস্যাল মিডিয়া জুড়েও রয়েছে নানারকম মন্তব্য এবং পাল্টাপাল্টি যুক্তি-তর্ক। আইনজীবি বলে কথা, যুক্তি তর্কে কেউ কারোর চেয়ে কম যাচ্ছেন না।

সমালোচনাকারীদের মধ্যেও রয়েছে দুটি মত, কেউ কেউ সাধারণ ছুটির এই মূহুর্তে আদালতেরও সবরকম কার্যকক্রম বন্ধ রাখার দাবী জানাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ ভার্চুয়াল পদ্ধতির সমালোচনা করে সীমিত আকারেই একচুয়াল কোর্ট পরিচালনার পক্ষে মত দিচ্ছেন। অথচ চলমান সাধারণ ছুটির মধ্যে সম্প্রতি একবার সীমিত আকারে আদালতের কার্যক্রম চালুর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হলেও নানারকম সমালোচনার মুখে সেই সিদ্ধান্তটিও বাতিল করা হয়েছিল। তখনও পক্ষে বিপক্ষে মত প্রকাশ করেছিলেন আইনজীবিসহ অনেকে। কিন্তু পৃথিবীর অনেক দেশেই এই ভার্চুয়াল কোর্ট সিস্টেম চালু থাকলেও বাংলাদেশে কেন সমালোচনা থামছেনা সে বিষয়ে খোঁজ নেয়ার চেষ্টা করেছিলাম। ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে নবীন এবং প্রবীন বেশ কয়েকজন আইনজীবির সাথে কথা বলে ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতাও লাভ করেছি, উঠে এসেছে বেশ কিছু প্রশ্ন।

ঢাকা জজ কোর্টের নবীন আইনজীবি অ্যাডভোকেট জাহিদুল ইসলাম হারুন ভার্চুয়াল কোর্ট পদ্ধতিকে একটি শুভ লক্ষণ বলে মনে করেন, তিনি বলেন আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য তরুণ প্রজন্ম সর্বক্ষেত্রেই প্রস্তুত রয়েছে, সময়ের প্রয়োজনে ভার্চুয়াল কোর্ট পদ্ধতি একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত, তবে পদ্ধতিগত কিছু বিষয় রয়েছে যেগুলো ঠিক করতে না পারলে সমালোচনা বাড়তেই থাকবে, তিনি সেসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান। তিনি আরো বলেন যে, বিষয়টি সবার কাছেই নতুন তবে কঠিন নয়, আইনজীবিগণ সব বিষয়ে বিজ্ঞতার পরিচয় দেবেন বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।

webnewsdesign.com

একই রকম বক্তব্য দেন ঢাকা জজ কোর্টের আরেক তরুণ আইনজীবি অ্যাডভোকেট ইমতিয়াজ ইসলাম। তবে তিনি কারিগরি কিছু ত্রুটির কথাও তুলে ধরেন, তিনি বলেন কারিগরি কিছু সমস্যাও রয়েছে এখানে, কারিগরি ত্রুটিপূর্ণ এবং বেলবন্ডসহ নানা বিষয়ে প্রশ্নবিদ্ধ এই কোর্টকে কোন অবস্থায়ই সমর্থন করা যায়না। তবে এই ভার্চুয়াল কোর্টের উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন এই ভার্চুয়াল কোর্ট পদ্ধতি যদি টেকসই হয় তবে তা তরুণ আইনজীবিদের জন্য আশীর্বাদ হতে পারে, প্রযুক্তিগত দক্ষতা দিয়ে তরুণরা এ পেশায় দ্রুত এগিয়ে যেতে পারবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

এদিকে নোয়াখালী জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবি অ্যাডভোকেট শ্যামল কান্তি দে বলেন, ভার্চুয়াল কোর্ট কার্যবিধিতে বিজ্ঞ আইনজীবিদেরকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, ভার্চুয়াল কোর্ট মানে হলো ঘরে বা চেম্বারে বসে আদালতে অংশ নেয়া কিন্তু ওকালতনামা সংগ্রহ সহ বিভিন্ন কারণে সেই বাইরে তো যেতেই হচ্ছে, তাহলে এসব ভার্চুয়াল কোর্টের দরকার কী? তিনি আরো বেশ কিছু বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে তিনিও মনে করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভার্চুয়াল কোর্ট অনেক গুরুত্বপূর্ণ যদি সব কিছু ভার্চুয়ালি সমাধান করা যায়।

পক্ষান্তরে কতিপয় আইনজীবি রয়েছেন যারা সরাসরি ভার্চুয়াল কোর্টেরই বিপক্ষে মত প্রকাশ করছেন, তাদের কাছে এটা একটা কঠিন এবং ঝামেলার বিষয় বলে মনে হচ্ছে। বিশেষ করে প্রবীনদের অনেকে মনে করছেন যে, পেশাজীবনের শেষ প্রান্তে এসে নতুন আরেকটি পদ্ধতির সাথে অভ্যস্থ হওয়া কেবল কঠিনই নয় বরং তাদের পেশার জন্যও হুমকি স্বরুপ। তারা এখনকার ছেলেমেয়েদের মত প্রযুক্তির সাথে বড় হয়ে ওঠেননি, ফলে প্রযুক্তির বিভিন্ন সুবিধা গ্রহন করলেও তারা কখনো প্রযুক্তি নির্ভর জীবনের প্রস্তুতি নেননি এর আগে। শুধু প্রবীনরাই নন; বরং খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে তূলনামূলক তরুনদের মধ্যেও যারা প্রযুক্তির ব্যবহারে পিছিয়ে রয়েছেন তারাই মূলত এই ভার্চুয়াল কোর্টকে অপছন্দ করছেন। অথচ বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ভার্চুয়াল কোর্ট সিস্টেম এক দিকে যেমন বিচার প্রার্থীদেরকে সহায়তা করবে তেমন আইনজীবিদের পেশাগত সুরক্ষাও নিশ্চিত করবে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা।

সমকালীন এ আলোচিত-সমালোচিত বিষয়টি নিয়ে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিশেষ এক সাক্ষাতকারে খোলামেলা আলাপ করেন বিশিষ্ট আইনজীবি ও গবেষক, দ্যা ব্যারিস্টার পত্রিকার সম্পাদক- ব্যারিস্টার কামরুল ইসলাম হৃদয়। সাক্ষাতকারটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

রিপোর্টার: শুরুতেই জেনে নিই- ভার্চুয়াল কোর্ট আসলে কী? এখানে কীভাবে কাজ হয় এবং এটি কাদের জন্য? যদি একদম সহজ করে সাধারণ মানুষের উদ্দেশে বিষয়টি তুলে ধরেন, প্লিজ!

ব্যারিস্টার: সশরীরে উপস্থিত না থেকে, ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানে থেকেও ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে বিচারকার্য পরিচালনা করাই হচ্ছে ভার্চুযাল কোর্ট। ভার্চুয়াল কোর্টের পুরো কাজটাই হয় অনলাইনের মাধ্যমে। দেশের সকল বিচার প্রার্থী যারা এই লকডাউনে আদালতের দারস্থ হতে পারছেননা, তারা যাতে ঘরে বসেই বিচার বিভাগের সেবা পায় সেই লক্ষ্যোই খোলা হয়েছে ভার্চুয়াল কোর্ট।

রিপোর্টার: কিন্তু এর বাইরেও যে বিচারপ্রার্থীদের আরো নানারকম মামলা-মোকাদ্দমা রয়েছে, একজন বিচার প্রার্থীর দৃষ্টিতে কোনটির গুরুত্বই কিন্তু কম নয়, তাহলে সেগুলোকে কেন এই ভার্চুয়াল কোর্টের অধীনে আনা হচ্ছেনা?

ব্যারিস্টার: দেখুন এক দিনে তো আর সব হয়না, এখন ভার্চুয়াল কোেের্টর প্রাথমিক পর্যায় চলছে। যদিও এখন শুধু জামিন শুনানী চলছে তবে পর্যায়ক্রমে সব ধরনের মামলা-মোকাদ্দমাই ভার্চুয়াল কোর্টের আওতায় চলে আসবে। এ নিয়ে আইন মন্ত্রনালয় কাজ করছে।

রিপোর্টার: তাহলে আপনি কী মনে করেন যে, অদূর ভবিষ্যতে এই কোর্টে সব ধরণের কার্যক্রম পরিচালিত হবে যা সাধারণত একচুয়াল কোর্টগুলোতে হয়ে থাকে?

ব্যারিস্টার: ভার্চুয়াল কোটর্, যেখানে রয়েছে বিচার বিভাগের জন্য অপার সম্ভাবনা। আর অবশ্যই ভবিষ্যতে সব ধরনের মামলা-মোকাদ্দমাই ভার্চুয়াল কোর্টের আওতায় চলে আসবে। ঠিক যেমনটা একচুয়াল কোর্টগুলোতে হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই আদালত চালু আছে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও পাকিস্তানে এই ভার্চুয়াল কোর্ট রয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও স্কটল্যান্ডেও ভার্চুয়াল কোর্ট চালু হয়েছে।

রিপোর্টার: জনাব কামরুল ইসলাম, আমি যতটুকু লক্ষ্য করেছি তাতে আরো বেশ কিছুদিন আগে থেকে আপনিই কিন্তু এরকম একটি ভার্চুয়াল কোর্ট চালুর ব্যাপারে বিভিন্ন প্লাটফর্মে দাবী তুলেছিলেন। সে হিসেবে বলতে পারি যে আপনি এখানে সফলতা অর্জন করেছেন। কিন্তু আপনি কী বলবেন যে, আপনি বা আপনারা যারা এই ধরণের একটি ভার্চুয়াল কোর্টের প্রস্তাব তুলেছিলেন তারা কী প্রচলিত এই কোর্টের ব্যাপারে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পেরেছেন? অর্থাৎ যে কারণে যে ধরণের সুবিধা চেয়েছিলেন তা কী সব এখানে পাওয়া যাচ্ছে?

ব্যারিস্টার: জ্বী আমরা ভার্চুয়াল কোর্ট নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পেরেছি। কারন সরকার খুব অল্প সময়ে ভার্চুয়াল কোর্টকে জনগনের দাড়গোড়ায় নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। আইনজীবীরাও এতে খুব খুশি। করোনাকালীন এই সময়ে সরকারের এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। যদিও এখনো সব সেবা আমরা পাইনি, তবে খুব শীঘ্রই পাবো বলে আমি আশাবাদী।

রিপোর্টার: আপনি নিশ্চয় লক্ষ্য করেছেন যে, এই কোর্ট নিয়েও কিন্তু আইনজীবিদের মধ্যে একটি বড় ধরণের মতানৈক্য তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন হলো- যারা এই কোর্টের বিপক্ষে মত প্রকাশ করছেন তারা আসলে কী কারণে এই কোর্টকে মেনে নিতে পারছেন না বলে আপনি মনে করছেন? তারা আসলে কারা, তরুণরা নাকি প্রবীনরা?
ব্যারিস্টার: এই কোর্ট নিয়ে অনেক আইনজীবীর ভিতরে মতানৈক্য রয়েছে তা ঠিক। কারন আমাদের অনেক শ্রদ্ধেয় প্রবীন আইনজীবীরা এখনো প্রযুক্তি থেকে অনেক পিছিয়ে। তাছাড়া অনেকের বাসায় প্রয়োজনীয় ডিভাইস না থাকায় তারা ভার্চুয়াল কোর্টে শুনানী করতে পারছেনা। তবে ভবিষ্যতে সকল আইনজীবীদের ভার্চুয়াল কোর্টের ওপর প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। তখন তারাও এই ভার্চুয়াল কোর্টের সুফল ভোগ করবেন। আর তখন এই মতানৈক্যও থাকবেনা। তবে তরুণরা এই ভার্চুয়াল কোর্ট সিষ্টেমকে খুব পছন্দ করছে।

রিপোর্টার: জি, তবে একটা বিষয়ে কিন্তু সবারই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে যে, যেহেতু ভার্চুয়াল কোর্টের উদ্দেশ্য হলো বর্তমান পরিস্থিতে নিরাপদে ঘরে থেকে যেন কোর্টের জরুরি কাজ চালিয়ে নেয়া যায়, কিন্তু একটা জামিন শুনানী বা আরো যে সব ক্ষেত্রের কথা আপনি বলছিলেন, প্রত্যেক ক্ষেত্রেই কিন্তু একজন আইনজীবিকে বেলবন্ড বা অন্যান্য কারণে ঘরের বাইরে যেতে হচ্ছে, তাহলে এই ভার্চুয়াল কোর্টের কী কার্যকারিতা রয়েছে?

ব্যারিস্টার: বেলবন্ড বা অন্য কারনে যাতে ঘরের বাইরে যেতে না হয়, সে বিষয়ে খুব শীঘ্রই পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে আমি মনে করি। বর্তমান পরিস্থিতিতে এ সকল সমস্যাগুলো এখনো সমাধান করা সম্ভব হয়নি।

রিপোর্টার: ধন্যবাদ আপনাকে। তাহলে কী আপনি বলতে চাইছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতে যে সব সমস্যা এখনো সমাধান করা সম্ভব হয়নি বা যে বিষয়গুলো এই কোর্টকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে, অদূর ভবিষ্যতে সেসব বিষয় সমাধান করা সম্ভব হবে?

ব্যারিস্টার: হ্যা, বর্তমান পরিস্থিতিতে যে সব সমস্যা এখনো সমাধান করা হয়নি বা যেগুলো আদালতের কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, খুব শীঘ্রই এই সমস্যাগুলো সমাধান করা হবে বলে আমি মনে করি।

রিপোর্টার: আপনি এই কোর্টের কী ভবিষ্যত দেখেন? সাধারণ অনেকে কিন্তু জানতে চাচ্ছে যে, এই ভার্চুয়াল কোর্ট কী শুধু এই করোণা পরিস্থিতিতেই চলবে নাকি এরপরও এটা চলতে পারে?

ব্যারিস্টার: এই কোর্টের ভবিষ্যত খুবই সম্ভাবনাময়। আর করোনা পরিস্থিতি শেষ হলেও জরুরি অনেক ক্ষেত্রে এই কোর্ট চলবে।

রিপোর্টার: অনেকে কিন্তু এমন অভিযোগও তুলেছেন যে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এই ধরণের ভার্চুয়াল কোর্ট চলতে থাকলে এই কোর্ট কেন্দ্রিক বিভিন্ন প্রকার জাল-জালিয়াতি, তথ্য চুরি, ইত্যাদি নানা ধরণের সাইবার ক্রাইম শুরু হতে পারে। আপনি এ বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন এবং কীভাবে এ ধরণের ক্রাইম রোধ করা যেতে পারে?

ব্যারিস্টার: যারা ভার্চুয়াল কোর্টে সাইবার ক্রাইম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাদের যুক্তি সঠিক। ভার্চুয়াল কোর্টে যাতে সাইবার ক্রাইম ঘটতে না পারে এ নিয়ে কাজ করছে সরকার। যার সমস্যা আছে তার সমাধানও আছে। এ সমস্যারও খুব শীঘ্রই সমাধান হবে।

রিপোর্টার: যারা এখনো এই ভার্চুয়াল কোর্ট মেনে নেননি বা কার্যক্রম শুরু করেননি তাদের ব্যাপারে আপনি কী মন্তব্য করবেন বা পরামর্শ দিবেন? আপনি কী মনে করছেন যে তারা ভুল সিদ্ধান্তের কারণে অন্যদের থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে?

ব্যারিস্টার: যারা এখনো ভার্চুয়াল কোর্ট মেনে নেননি বা কার্যক্রম শুরু করেনি তাদেরকে বলবো, চাইলে সবই সম্ভব, মানব অভিধানে ‘না’ বলতে কোন শব্দ নেই। আর ভার্চুয়াল কোর্ট সে তো একটা সাধারন বিষয় মাত্র। একটু চেষ্টা করলেই হয়। আসুন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে বরন করতে শিখি। আজ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বদৌলতে পুরো পৃথিবী একটি গ্লোাবাল ভিলেজ এ পরিনত হয়েছে। আর ভার্চুয়াল কোর্ট যেখানে রয়েছে বিচার বিভাগের জন্য অপার সম্ভাবনা। ভুললে চলবেনা যে আমরা এখন একবিংশ শতাব্দীতে দাড়িয়ে আছি। যেখানে প্রযুক্তি ছাড়া আমরা একদিনও চলতে পারিনা। স্বীকার করছি ভার্চুয়াল কোর্টের কিছু সমস্যা রয়েছে। কারন এখন ভার্চুয়াল কোর্টের প্রাথমিক পর্যায় চলছে। ধীরে ধীরে সব-ই ঠিক হয়ে যাবে। সবশেষে একটি কথাই বলবো, আসুন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পথে হাটি।

রিপোর্টার: একটা ব্যক্তিগত প্রশ্ন- এ পর্যন্ত এই কোর্টে অংশ গ্রহণের ক্ষেত্রে আপনার নিজের কোন্ ধরণের অভিজ্ঞতা অর্জন হয়েছে এবং আপনার কাছে কী কী সমস্যা মনে হয়েছে যা দ্রুত সমাধান করা উচিত?

ব্যারিস্টার: এই পর্যন্ত ভার্চুয়াল কোর্টে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে আমার দারুন অভিজ্ঞতা হয়েছে। কেবলমাত্র বেইলবন্ড ও অন্যান্য জিনিস ক্রয়ের জন্য কোর্টে যাওয়ার সমস্যা ছাড়া আর তেমন কোন সমস্যা আমার দৃষ্টিগোচর হয়নি। আর এটি সমাধান করতে পারলে ভার্চুয়াল কোর্টের কাজে অনেক গতি আসবে। সবমিলিয়ে ডিজিটাল ছন্দেই এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের বিচার বিভাগ।

রিপোর্টার: আপনার কাছে আমার শেষ প্রশ্ন- এ পর্যন্ত সারাদেশে এই ভার্চুয়াল কোর্টের সফলতা কতটুকু অর্থাৎ কতগুলো জামিন হয়েছে ইত্যাদি?

ব্যারিস্টার: সারাদেশে ভার্চুয়াল কোর্টের সফলতার গল্প অনেক। আর এ পর্যন্ত ভার্চুয়াল কোর্টে জামিন হয়েছে প্রায় দুই হাজারের মত। আশা করা যাচ্ছে ঈদের আগে প্রায় পাঁচ হাজারের মত আসামীর জামিন হতে পারে ভার্চুয়াল কোর্টে।

রিপোর্টার: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আপনার ব্যস্ততম সময়ের মধ্যে দৈনিক নাগরিক ভাবনা ও প্রথম দৃষ্টিতে’সাক্ষাতকার দেয়ার জন্যে। ভালো থাকবেন।

ব্যারিস্টার: আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ, ভালো থাকবেন।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৩:০৮ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ১৮ মে ২০২০

দৈনিক প্রথম দৃষ্টি |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
প্রকাশক
মাসুদ করিম সিদ্দিকী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মিজানুর রহমান সিদ্দিকী রঞ্জু
সম্পাদক
এস কে দোয়েল
অফিস ব্যবস্থাপনা
নিসা আলী
সম্পাদকীয় কার্যালয়
৫/সি, আফতাবনগর মেইন রোড, রামপুরা, ঢাকা।
আঞ্চলিক প্রধান কার্যালয়
চৌরাস্তা বাজার, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়
ফোন
+৮৮০১৭৫০-১৪০৯১৯ (সম্পাদক)
+৮৮০১৭১৮-৭৭২৭৪৯ (বার্তা-সম্পাদক)
Email
prothomdristy@gmail.com